বিবাহিত পুরুষের সঙ্গে কোনো মহিলার লিভ-ইন সম্পর্ক অবৈধ নয়, রায় এলাহাবাদ হাইকোর্টের
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
লখনউ, ২৭ মার্চ: প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আবারও গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনও বিবাহিত পুরুষ যদি প্রাপ্তবয়স্ক নারীর সঙ্গে সম্মতিপূর্ণ লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তবে তা কোনও ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়বেনা। আইন ও সামাজিক নৈতিকতার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য টেনে আদালত জানিয়ে দিল নৈতিকতার ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী করা যায় না।
উত্তরপ্রদেশের শাজাহানপুর জেলার এক যুগলের দায়ের করা ক্রিমিনাল রিট পিটিশনের শুনানিতে আজ এই মন্তব্য পেশ করে আদালত। মামলার আবেদনকারী অনামিকা ও নেত্রপাল। তাঁরা পুলিশের কাছে দায়ের করা মামলা খারিজের আর্জি জানান এবং নিজেদের নিরাপত্তার দাবিও তোলেন।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি। অনামিকার মা উত্তরপ্রদেশের জৈতিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেন, তাঁর মেয়েকে প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে গিয়েছেন নেত্রপাল। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই কাজে সহায়তা করেছেন ধর্মপাল নামের এক ব্যক্তি। অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৮৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু হয়। কিন্তু আদালতে দাঁড়িয়ে অনামিকার বক্তব্যে পুরো চিত্রটাই বদলে যায়। তিনি জানান, তার বয়স ১৮ বছর এবং তিনি সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় নেত্রপালের সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন। কোনও জোরজবরদস্তি নয়, কোনও প্রলোভন নয় এটি সম্পূর্ণ তাঁর নিজের সিদ্ধান্ত।
এই তথ্য সামনে আসতেই আদালত জানায়, ‘নৈতিকতার প্রশ্ন আলাদা, কিন্তু আইনের বিচারে এখানে অপরাধের কোনও উপাদান নেই’। প্রতিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, নেত্রপাল বিবাহিত হওয়ায় এই সম্পর্ককে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা উচিত। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি একেবারে খারিজ করে দেয়। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়, এমন কোনও ফৌজদারি আইন নেই যা প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিপূর্ণ সহবাসকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে। আদালত আরও জানায়, ‘সমাজের নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আইন এই দুই এক নয়। আদালতের কাজ নাগরিকের মৌলিক অধিকার রক্ষা করা, সামাজিক মতামতের চাপে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়’।
মামলাটি আরও গুরুতর মোড় নেয় যখন যুগল ‘অনার কিলিং’ এর আশঙ্কার কথা আদালতের কাছে তুলে ধরে। অনামিকা অভিযোগ করেন, তার নিজের পরিবার থেকেই তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আদালত সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপারকে তীব্র ভর্ৎসনা করে এবং যুগলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেয়।