শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদল, সড়ক পথের বদলে আকাশপথেই পশ্চিম বর্ধমানে মমতা
বর্তমান | ২৭ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গতকাল, বৃহস্পতিবারের প্রবল ঝড় বৃষ্টিতে অবতরণ নিয়ে সমস্যার মুখে পড়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিমান। পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে কলকাতা এয়ারপোর্ট নামার সময় আচমকাই দুর্যোগ শুরু হয়। সেই সময় আকাশে বেশ কিছুক্ষণ চক্কর কাটে বিমানটি। পরে অবশ্য সেটি সুরক্ষিতভাবেই অবতরণ করে। এরপর আজ, শুক্রবার পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পশ্চিম বর্ধমানেই যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। প্রথমে ঠিক হয় সড়ক পথেই যাবেন তিনি। কিন্তু শেষে সিদ্ধান্ত বদলে আকাশপথেই ভরসা রাখেন মমতা। এদিন কলকাতা বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরুর আগে পাইলটের ভূয়সী প্রশংসা করেন। বলেন, পাইলট অত্যন্ত ভাল। তিনি নিজের সেরাটা দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছেন। আমাদের জীবন বাঁচিয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও দক্ষতার সঙ্গে বিমান অবতরণ করেছেন তিনি। আমার নিরাপত্তা এবং সুরক্ষার জন্য সবরকমভাবে চেষ্টা করছিলেন তিনি। এর পাশাপাশি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, গ্যাসের দাম বাড়িয়ে পরে তা কমালে সাধারণ মানুষের কোনও লাভ নেই। অকারণে আমজনতার উপর আর্থিক বোঝা চাপানো হচ্ছে। এছাড়া নির্বাচনের সময় গ্যাস সরবরাহে যাতেও কোনওরকম সমস্যা না হয় তার জন্য রাজ্যের প্রশাসনিক আধিকারিকদের সতর্ক থাকতেও বলেন তিনি। এদিন ভোটার তালিকা ইস্যুতেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মমতা। এটিকে গণতন্ত্রের হত্যা বলে আখ্যায়িত করেন। বলেন, দেশের শীর্ষ আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করেনি। মানুষেরদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। ভোটারদের পাশে থাকার আশ্বাসও দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পাশাপাশি নাম না করে মোদি-শাহের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। শেষে বলেন, বাংলার মানুষই এর জবাব দেবে।
প্রসঙ্গত, দুটি রাজনৈতিক কর্মসূচি শেষ করে অন্ডাল বিমানবন্দর থেকে গতকাল বিকেল ৩টে ৩৪ মিনিটে বিশেষ বিমানে চেপে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। বিকেল ৪টে ১০ মিনিট নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামার কথা ছিল তাঁর বিমানের। কিন্তু বিকাল ৪টে নাগাদ দমদম-সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শুরু হয় তুমুল বৃষ্টি। বইতে থাকে ঝোড়ো হাওয়াও। অঝোরে বৃষ্টি শুরু হয় কলকাতা বিমানবন্দর চত্বরে। ঝোড়ো হাওয়ায় বিমানবন্দরের বাইরে সাংবাদিক বৈঠকের জন্য থাকা ছাতা, পোডিয়াম, কিয়স্কও লন্ডভন্ড হয়ে যায়। আবহাওয়া এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে নির্ধারিত সময়ে কলকাতা বিমানবন্দরে নামতেই পারেনি মুখ্যমন্ত্রীর বিমান। জানা যায়, প্রথমে মুখ্যমন্ত্রীর বিমানটি শহরের অন্য অংশ দিয়ে ঘুরিয়ে নামার চেষ্টা করে। কিন্তু সেটাও সম্ভব হয়নি। পরে বেহালা ফ্লাইং ক্লাবে নামার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেটিও কার্যকর হয়নি। এরপর বেশ কয়েক পাক চক্কর খাওয়ার পর বিকেল ৫টা ১৯ মিনিটে বিমানটি কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এরপর এয়ারপোর্টে নেমে সোজা বাড়ির পথে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।