• রামনবমীর মিছিল ঘিরে তুলকালাম মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে
    এই সময় | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • শুভাশিস সৈয়দ, মুর্শিদাবাদ

    রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ালো মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকায়। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েক জন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। প্রতি বছরের মতো রামনবমীর দিন রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকার জঙ্গিপুর পুরসভার ম্যাকেঞ্জি পার্কে এসে জড়ো হয়েছিল মিছিল। এর পরে ওই শোভাযাত্রা গোটা রঘুনাথগঞ্জ শহর ঘোরে।

    শুক্রবার দুপুর তিনটে নাগাদ আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে মিছিলে যোগদানকারীরা ম্যাকেঞ্জি পার্কে জড়ো হতে থাকেন। সেই সময়ে আইলের উপর গ্রাম লাগোয়া সিসাতলা দিয়ে ডিজে বক্স বাজিয়ে শোভাযাত্রা আসার সময়ে স্থানীয় গ্রামবাসীরা বাধা দেন বলে অভিযোগ। তখন মিছিল লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয় বলেও অভিযোগ। অভিযোগ, মিছিলটি সিসাতলা এলাকায় পৌঁছালে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বচসা শুরু হয়। তার পরেই পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। দ্রুত পুরো এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।

    গোষ্ঠী সংঘর্ষে দু’পক্ষের বেশ কয়েক জন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার এবং একটি চার চাকা গাড়িতে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

    একই চিত্র দেখা যায় নিস্তা গ্রামেও। সেখানেও মিছিলকে বাধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এর পরে মিছিল যখন রঘুনাথগঞ্জ ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড লাগোয়া এলাকায় পৌঁছায়, তখন দেড়শো-দুশো জনের একটা দল মিছিল লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে বলে অভিযোগ।

    এর পরে উত্তেজিত জনতা ফুলতলা মোড়ের কাছে বেশ কয়েকটি ফলের দোকানে ভাঙচুর চালায় এবং আগুন লাগিয়ে দেয়। মিছিলে যোগ দিতে আসা বেশ কয়েকজন রাস্তার ধারে বসে থাকা দোকানের মালপত্রগুলোতে আগুন ধরিয়ে জ্বালিয়ে দেয় বলেও অভিযোগ।

    কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রঘুনাথগঞ্জ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলোপাথাড়ি লাঠি চালিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। স্থানীয় সূত্রে খবর, পুলিশের লাঠির আঘাতে বেশ কয়েক জন জখম হয়েছেন।

    জঙ্গিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান তৃণমূলের মফিজুল ইসলামের অভিযোগ, ‘পুলিশের উপস্থিতিতে মিছিলকারীরা দোকান মালিক বেছে বেছে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। আধা সামরিক বাহিনীকেও ব্যবহার করেনি পুলিশ।’ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর আরও অভিযোগ, ‘মিছিলের শুরু থেকেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। মনে হয়েছে, এটা পূর্ব পরিকল্পিত ঘটনা।’

    পাল্টা বিজেপির জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুবলচন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘চক্রান্ত করে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। যারা এই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছে, তারা পরিকল্পনা করে করেছে। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল শোভাযাত্রা বানচাল করে দেওয়া। এ জন্য মিছিলে ঢিল ছুঁড়েছে, পাথর ছুঁড়েছে।’ পুলিশের ভূমিকার সমালোচনা করে সুবলচন্দ্র বলেন, ‘পুলিশ লাঠি উঁচিয়ে আমাদের কর্মীদের মারধর করেছে। পরে এলোপাথাড়ি লাঠি চালিয়ে দুই পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। তবে এ ক্ষেত্রে আধা সামরিক বাহিনী চুপ ছিল। তাঁদের ভূমিকা ভালো ছিল।’

  • Link to this news (এই সময়)