পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election) আগে ভোটের কাজে নিযুক্ত কর্মীদের জন্য ট্রেনিং শুরু হয়েছে জেলায় জেলায়। নির্বাচনের আগে এটাই দস্তুর। শুক্রবার সেরকমই একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ঘটল নজিরবিহীন ঘটনা। প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ। ওই কর্মী জানিয়েছেন, ট্রেনিংয়ের শুরুতে একটি সরকারি বিজ্ঞাপন দেখানো হচ্ছিল। সেই বিজ্ঞাপনে মুখ্যমন্ত্রী ছবি-সহ দিঘার জগন্নাথ মন্দির সংক্রান্ত একটি ভিডিয়ো দেখানো হয়। প্রশ্ন উঠছে, যে ট্রেনিং ম্যানুয়াল কমিশনের বানিয়ে দেওয়া, তা নিয়ে এমন ঘটনা ঘটল কী ভাবে?
জানা গিয়েছে, যে সংস্থা ট্রেনিংয়ের জন্য ল্যাপটপ দিয়েছিল তাঁদেরই একটি ফাইলে সরকারি ওই বিজ্ঞাপন (মমতার ভিডিয়ো) ছিল। প্রশাসনের কর্তাদের দাবি, ভুল করেই ওই ভিডিয়ো কয়েক সেকেন্ডের জন্য চলেছিল। তা নিয়েই এত অশান্তি হয়। নদিয়ার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লী জানিয়েছেন, যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য ঘটনাটি ঘটেছে। তবুও দু’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বিডিওকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। বাকিটা তদন্ত চলছে।’
ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ছিলেন নদিয়ার রানাঘাট-১ ব্লক অফিসের কর্মীরাও। তাঁদের সঙ্গে অভিযোগকারী ভোটকর্মী সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের হাতাহাতি হয়। সৈকতের অভিযোগ, তাঁকে মারধর করা হয়। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থাতেও দেখা যায়। যদিও বিডিও সায়ন্তন ভট্টাচার্য ওই ভোটকর্মীকে মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, এই ঘটনার পরেই ওই ভোটকর্মীর বেশ কিছু ছবি প্রকাশ্যে এনেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ওই ভোটকর্মী নিজে বিজেপি কর্মী বলে দাবি করা হয়েছে তৃণমূলের তরফে। তৃণমূল কংগ্রেস মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘ট্রেনিংয়ে গিয়ে ভোটকর্মী আক্রান্ত, এই ন্যারেটিভ দিয়ে সমানে মিথ্যা প্রচার চলছে মিডিয়ায়। সেই ব্যাক্তি আদতে বিজেপির সক্রিয় কর্মী এবং আরএসএসের মতাদর্শ প্রচারকারী রানাঘাট পায়রাডাঙার বাসিন্দা। আজ ট্রেনিংয়ে কোনও আক্রমণের ঘটনাই ঘটে নি, জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বিডিও। তাই কী উদ্দেশ্যে কেন এই মিথ্যাচার সামনে আনা হয়েছে সহজেই অনুমেয়।’
পাল্টা বিজেপির দাবি, ওই ভোটকর্মী হতেই পারেন। কিন্তু ভোটকর্মী হিসেবে উনি নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রীর ভিডিয়ো বন্ধ করার কথা জানিয়েছেন। বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘তৃণমূল আছে তৃণমূলেতেই। বহিরাগতদের দিয়ে আক্রমণ করছে ভোটকর্মীদের উপরে। অর্থাৎ তৃণমূল কংগ্রেস তাদেরই সরকারি কর্মচারীদের উপরে আক্রমণ করছে। সরকারের বাইরে আরেকটা সরকার চালানো হচ্ছে।’ উল্লেখ্য এই ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।