পাহাড় ঘেরা শিলিগুড়ির শান্ত পরিবেশ এখন এক কিশোরীর অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রীতিমতো অগ্নিগর্ভ। প্রধাননগর থানা এলাকার ১৭ বছরের ওই কিশোরীর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এক গৃহশিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও সে এখনও অধরা। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তকে অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামী ৩০ মার্চ শিলিগুড়িতে ১২ ঘণ্টার বন্ধের ডাক দিল বঙ্গীয় হিন্দু মহামঞ্চ। সূত্রের খবর, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ ও আরএসএসের মতো সংগঠনগুলিও এই বন্ধকে সমর্থন করতে পারে। মহামঞ্চের সভাপতি বিক্রমাদিত্য মণ্ডলের সরাসরি অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে শাসকদলের ঘনিষ্ঠতা থাকার কারণেই পুলিশ তাকে ধরতে গড়িমসি করছে। চৈত্র মাসের এই তপ্ত আবহাওয়ায় শিলিগুড়ির রাজপথ এখন বিচারের দাবিতে উত্তাল।
ভোটের মুখে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দড়ি টানাটানিও তুঙ্গে। শিলিগুড়ির বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর ঘোষ ঘোষণা করেছেন, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তিনি যাবতীয় নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রাখবেন। জংশন এলাকায় অবস্থানে বসার পাশাপাশি বৃহস্পতিবার মানববন্ধন কর্মসূচিতেও শামিল হন তিনি।
শঙ্করের প্রশ্ন, “পরিবারটি গরিব বলেই কি পুলিশি সক্রিয়তায় খামতি, নাকি শাসকদলের যোগসাজশই কাল হচ্ছে?” অন্যদিকে, তৃণমূলও হাত গুটিয়ে বসে নেই। দার্জিলিং জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিব্রেওয়াল ও কাউন্সিলার সঞ্জয় পাঠকের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধি দল পুলিশ কমিশনারের কাছে গিয়ে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। যদিও বাম নেতা অশোক ভট্টাচার্য ও বাম প্রার্থী শরদিন্দু চক্রবর্তীর দাবি, বিজেপি ও তৃণমূল। উভয় দলই এই স্পর্শকাতর ইস্যুটিকে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে।
শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের সন্ধানে তল্লাশি জারি রয়েছে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তের মাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জানা গিয়েছে যে ওই ব্যক্তি অন্তত ১১টি সিমকার্ড ব্যবহার করতেন। এদিকে, এই ঘটনার আবহে শিলিগুড়ির মেয়র তথা তৃণমূল প্রার্থী গৌতম দেবকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কুৎসা ছড়ানোর অভিযোগে একটি ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে সাইবার ক্রাইম থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। চৈত্র সেলের ভিড় আর নির্বাচনী প্রচারের ধুলোবালির মাঝে শিলিগুড়ির মানুষের নজর এখন সোমবারের বন্ধের দিকে। দোষী শাস্তি পায় কি না, নাকি রাজনীতির গোলকধাঁধায় হারিয়ে যায় এক কিশোরীর মৃত্যুর বিচার, এখন সেটাই দেখার।