ঋতভাষ চট্টোপাধ্যায়, সিউড়ি
পরীক্ষা হয়েছিল মার্চে। আগামী মে মাসের মাঝামাঝি উচ্চমাধ্যমিকের (Higher Secondary Exam 2026) রেজাল্ট বেরনোর কথা। অভিযোগ, তার আগেই সিউড়ির ঐতিহ্যবাহী বীরভূম জিলা স্কুলের (Birbhum Zilla School) ছাত্রছাত্রীদের একাংশের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার নম্বর ফাঁস (Higher Secondary Practical Exam Marks Leaked Social Media) হয়ে গেল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভোটের মুখে এই ঘটনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। উদ্বিগ্ন অভিভাবকরাও। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক কাউন্সিলের রাজ্য সচিব পার্থ কর্মকার।
প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা সাধারণত স্কুলেই হয়। বীরভূম জেলা স্কুলেও তাই হয়েছিল। উচ্চমাধ্যমিকের ফিজিক্সের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল চলতি মাসের ৯ মার্চ। পরীক্ষা নিয়েছিলেন বীরভূম জেলা স্কুলেরই এক শিক্ষক। এর পরে সেই খাতা স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কাছে জমা দেওয়ার কথা। তিনি খাতা পাঠাবেন কাউন্সিলে। কিন্তু অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের কাছে খাতা জমা দেওয়ার আগেই তার ছবি ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। পড়ুয়ারা কত নম্বর পেয়েছেন ফাঁস হয়ে গিয়েছে পুরোটাই।
ফাঁস হওয়া ছবিতে (সত্যতা যাচাই করেনি এই সময় অনলাইন) দেখা যাচ্ছে, প্র্যাক্টিক্যাল খাতার সামনের পাতার উপরে রয়েছে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের লোগো। তার ঠিক পাশেই খাতার সিরিয়াল নম্বর। নীচে ছাত্রদের নাম, রোল নম্বর, রেজিস্ট্রেশন নম্বর, পরীক্ষকের স্বাক্ষরও রয়েছে। ছাত্ররা কত নম্বর পেয়েছে, দেখা যাচ্ছে তাও। যে সব ছাত্রদের খাতা ফাঁস হয়েছে তারা প্রত্যেকেই ৩০-এর মধ্যে ৩০ পেয়েছে।
এই ছবি ভাইরাল হতেই উদ্বিগ্ন অভিভাবকরা কাঠগড়ায় তোলেন পরীক্ষককে। শিক্ষকদের একাংশের দাবি, খাতায় যে পরীক্ষকের স্বাক্ষর রয়েছে তিনি ওই স্কুলেরই শিক্ষক প্রবীর গোপ। অভিভাবকদের অভিযোগ, ওই শিক্ষকের কাছে যারা পড়ত, তারাই ভালো নম্বর পেয়েছে। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন প্রবীর। তিনি সরাসরি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ওই ছাত্রছাত্রীরাও কেউ আমার কাছে পড়ে না।’ বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি বীরভূম জেলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন সাহাও। তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে হলে প্রধান শিক্ষক জানান, তিনি এখন নির্বাচনের কাজে ব্যস্ত আছেন। আগামী সোমবার স্কুলে গিয়ে বিষয়টা দেখবেন।
গোটা ঘটনা তদন্ত করে দেখা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন উচ্চমাধ্যমিক কাউন্সিলের রাজ্য সচিব পার্থ কর্মকার। তিনি বলেন, ‘তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তবে এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন উচ্চমাধ্যমিক কাউন্সিলের বীরভূম জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক অভিজিৎ নন্দন। তাঁর কথায়, ‘গত পনেরো বছরে এমন ঘটনা ঘটেনি। হোম ভেন্যুতে এই ধরনের ঘটনা কতটা সত্যি, আগে আমাদের দেখতে হবে।’
ভোটের মুখে প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষার নম্বর ফাঁসের ঘটনায় তৃণমূলের দিকেই আঙুল তুলেছে বিজেপি। বীরভূম বিজেপির শিক্ষক সংগঠনের মোহন সিনহা বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতি, প্রশ্ন ফাঁস যে অব্যাহত, এটা তার প্রমাণ। এই সরকারের হাতে মেধাবী ছাত্রদের অপমৃত্যু হচ্ছে।’ তবে বিজেপির অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল সমর্থিত পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষক সংগঠনের জেলা আহ্বায়ক প্রলয় নায়েক। তাঁর সাফ কথা, ‘সরকারি বা সরকার পোষিত স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকারা প্রাইভেট টিউশন করতে পারেন না। এটা অপরাধ। তবে এই ঘটনার সঙ্গে যদি কোনও শিক্ষক যুক্ত থাকেন, তাঁর উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।’