• ক্রোমোলিথোগ্রাফের অভিনব প্রদর্শনী শহরে, খদ্দরের শাড়িতে ফুটল রাজা রবিবর্মার ছবির প্রিন্ট
    এই সময় | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ২০১৯–এ দিল্লির পরে ২০২৬–এ কলকাতা—অভিনব এক প্রদর্শনীর সাক্ষী থাকল মহানগর। দক্ষিণ কলকাতার ট্রাই আর্ট অ্যান্ড কালচারের উদ্যোগে যে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে, কলকাতা অতীতে তেমন প্রদর্শনী খুব বেশি দেখেনি। এই প্রদর্শনী খদ্দরের শাড়িতে ছাপা রাজা রবিবর্মার ছবির ক্রমোলিথোগ্রাফের।

    ক্রোমোলিথোগ্রাফি হলো উনিশ শতকের এক রকমের ছাপার প্রযুক্তি। এই পদ্ধতিতে বিভিন্ন রঙের তেলভিত্তিক কালি একের পর এক স্তরে বসিয়ে উজ্জ্বল এবং বহুবর্ণের ছবি তৈরি করা হতো। সাধারণত এই রকমের ছবিতে প্রতিটি রঙের জন্য আলাদা আলাদা চুনাপাথরের প্লেট ব্যবহার হতো। অনেক সময়ে প্রত্যেক ছবির জন্য ২০ থেকে ৪০টি পর্যন্ত আলাদা আলাদা রং ব্যবহার হতো। ত্রিবাঙ্কুরের দেওয়ান টি মাধব রাওয়ের পরামর্শে রবিবর্মা ১৮৯৪–এ মুম্বইয়ের ঘাটকোপারে একটি লিথোগ্রাফিক ছাপাখানার প্রতিষ্ঠা করেন। এই ছাপাখানা থেকে প্রধানত হিন্দু দেবদেবীদের ছবির ক্রমোলিথোগ্রাফ ছাপা হতো। পাশাপাশি মহাভারত, রামায়ণ এবং পুরাণের কাহিনি অবলম্বনে বিভিন্ন দৃশ্যের উপরে ভিত্তি করেও তৈরি হতো বিভিন্ন ছবি। খুবই জনপ্রিয় হয়েছিল এই ক্রমোলিথোগ্রাফ। ১৯০৬–এ রবিবর্মার মৃত্যুর পরে বহু বছর এই ছবির হাজার হাজার কপি ছাপা হয়।

    এই প্রদর্শনীতে ১৮টি হাতে বোনা খদ্দরের শাড়ি প্রদর্শিত হয়েছে। এই শাড়িগুলোতে রবির আঁকা ছবির ক্রমোলিথোগ্রাফ রয়েছে। শ্রীকাকুলমের আদিবাসী মহিলারা এই শাড়ি তৈরি করেছেন। তাতে ছবির লিথোগ্রাফ সেলাই করা হয়েছে। খদ্দর এক সময়ে সাধারণ ঘরোয়া সুতো কাটা কাপড় ছিল। পরে গান্ধীজির উদ্যোগে সেটি জাতীয়তাবাদের প্রতীক হয়ে ওঠে। এখন এটি বিলাসবহুল হস্তশিল্প হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

    তবে, খদ্দরের উপরে এমন ভাবে ক্রমোলিথোগ্রাফ ছবির প্রিন্ট করানোর নেপথ্যে বড় ভূমিকা নিয়েছিলেন গান্ধীজির এক সময়ের সহযোগী অভিরাজ বলদোতা। এই প্রদর্শনী প্রসঙ্গে ট্রাই আর্ট অ্যান্ড কালচার–এর পক্ষ থেকে মুসকান কৌর সুকেরচাকিয়া বলেন, ‘এখানে যত রং ব্যবহার করা হয়েছে, তার সবই ভেষজ। এই প্রদর্শনীতে একই সঙ্গে খদ্দরের উদ্ভাবনশক্তি, জৌলুস ও বহুমুখীতা এবং ভারতের একান্ত নিজস্ব আঁকার শৈলীর এক অসামান্য মেলবন্ধন ঘটেছে। শিল্পরসিকরা জানাচ্ছেন, রবিবর্মা ভারতের ‘নবরত্ন শিল্পী’–দের অন্যতম। ১৯৭০–এর দশকে আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তত্ত্বাবধানে এক কমিটি তৈরি করেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। সেই কমিটি ন’জন শিল্পীর সৃষ্টিকে ‘জাতীয় সম্পত্তি’–র স্বীকৃতি দিয়ে তাঁদের শিল্পকর্ম ভারতের বাইরে পাঠানোর উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এই তালিকায় রাজা রবিবর্মা ছাড়াও নাম রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গগনেন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু, যামিনী রায়, অমৃতা শেরগিল, নিকোলাস রেরিখ এবং শৈলজ মুখোপাধ্যায়ের মতো দিকপাল শিল্পীর।

  • Link to this news (এই সময়)