গলায় উত্তরীয়। তাতে লেখা ‘জয় শ্রী রাম’। শুধু তাই নয় তাঁর গলাতেও শোনা গিয়েছে ‘জয় শ্রী রাম’ স্লোগান।
শুক্রবার রামনবমীর মিছিলে এই ভাবেই হাঁটলেন অনুব্রত মণ্ডল। তাঁর পাশে ছিলেন বোলপুরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী চন্দ্রনাথ সিংহ-ও।
মিছিল শেষে ফের ‘জয় শ্রী রাম’ কথা বলে দলের প্রার্থীকে আগের তুলনায় আরও বেশি ভোটে জেতানোর আবেদনও করেন অনুব্রত মণ্ডল। এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে বীরভূম জেলার রাজনীতিতে। তবে অনুব্রতকে বিঁধতে ছাড়েননি বিজেপি নেতারা।
প্রতি বছর ঘটা করে কালী পুজো করেন অনুব্রত মণ্ডল। পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা, এই শোভাযাত্রায় হাঁটলেন অনুব্রত। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বোলপুরের বিদায়ী বিধায়ক চন্দ্রনাথ সিংহ। তাঁর দাবি, প্রতি বছরই রামনবমীর মিছিল করা হয়। তবে বিজেপির মতো ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করা হয়না। সম্প্রীতি এবং শান্তির বার্তা দেওয়া হয় সেই মিছিল থেকে। এ বারেও তাই হয়েছে।
যদিও বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে ‘রামনবমী’।
আগের দিনেই বীরভূম জেলার দুবরাজপুরেই জনসভা করেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সভাতেই জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টর প্রতি তাঁর আস্থার কথা আরও এক বার জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। তার পরে দিনেই রামনবমী পালন করেন অনুব্রত মণ্ডল।
রামনবমী উপলক্ষে বোলপুর পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর এবং তৃণমূল কর্মীরা বোলপুরে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রার আয়োজন করে। সেই শোভাযাত্রাতেই অনুব্রত মণ্ডলকে এদিন হাঁটতে দেখা যায়। তিনি শুধু মিছিলেই হাঁটেননি, দিয়েছেন জয় শ্রী রাম স্লোগানও। অনুব্রত মণ্ডল ছাড়াও ছিলেন বোলপুর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী-সহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
অনুব্রত বলেন, ‘রামকে সবাই ভালবাসে আমরাও ভালবাসি। আমরাও রামনবমী মানি। আজকে তো রামনবমী। এই জন্যেই রামনবমীর মিছিল।’
আগেই জেলার সব ক'টি বিধানসভায় জেতার কথা বলেছিলেন অনুব্রত। এ দিনই দাবি করেন এ বারের ভোটে তৃণমূল ২৩০ থেকে ২৩৫ আসনে জিতবে।
আর, চন্দ্রনাথ সিংহের দাবি, এ বার রাম তাঁদের আশীর্বাদ করছে।
যদিও এই নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বীরভূম জেলার বিজেপি নেতা উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, "কিছুদিন আগে অনুব্রত মণ্ডলের নেত্রী জয় শ্রী রাম বললে গাড়ি থেকে নেমে গালাগালি করতেন। আজ সবাইকে রামের পায়ের তলায় আসতে হচ্ছে।’