এই সময়, কাটোয়া: পূর্ব বর্ধমান জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল। কাটোয়া মহকুমা তো বটেই, কালনা, ভাতার-সহ পার্শ্ববর্তী জেলা বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়ার বড় অংশের মানুষ নিয়মিত কাটোয়া হাসপাতালে আসেন চিকিৎসা করাতে। সময়ের সঙ্গে হাসপাতালের কলেবর ও পরিকাঠামোও বেড়েছে। যদিও রোগীরা চাইছেন পরিষেবার দিক দিয়ে আরও উন্নত হোক এই হাসপাতাল। রোগীরা চান, চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়ুক, সঙ্গে হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স বা স্বাস্থ্য কর্মীদের ব্যবহার আরও ভালো হোক।
কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে বর্তমানে মোট বেড ২৯৮টি। কয়েক দিন আগেই এইচডিইউ বিভাগের বেড সংখ্যা বাড়ানো হয়ছে ১২টি। মূল ভবনের পাশে তৈরি হয়েছে নতুন ভবনও। নিয়মিত আউটডোর পরিষেবাও দেওয়া হয়ে থাকে হাসপাতালে। প্রত্যেক দিন কয়েকশো রোগীর আনাগোনা লেগে থাকে এই হাসপাতালে। কিছুদিন ধরে কাটোয়া হাসপাতালের আউটডোরে বুধবার ও শনিবার সন্ধেতেও প্রসূতি ও মেডিসিনের চিকিৎসক বসছেন। হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা রোগীরা জানাচ্ছেন, কাটোয়া হাসপাতালে পরিষেবা পেতে খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে না তাঁদের। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসক দেরিতে আসা বা হাসপাতালে দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার মতো ঘটনা ঘটলেও, জরুরি ভিত্তিতে পরিষেবাও মিলছে।
যদিও এই হাসপাতালে একাধিক বার রোগীমৃত্যুর ঘটনাও সামনে এসেছে। হাসপাতালে বিক্ষোভ, ভাঙচুরের মত ঘটনাও ঘটেছে একাধিক বার। কেতুগ্রামের বাসিন্দা রুবিনা খাতুন, নাসরিন বেগম বলছিলেন, 'আমাদের কিছু হলে এই হাসপাতাল ছাড়া তো অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই। কোনও সময়ে ভালো পরিষেবা মেলে, কখনও আবার দুর্ব্যবহারও করা হয়।' কাটোয়ার সৌমেন দাস, রাজু সাহার বক্তব্য, 'অনেক ক্ষেত্রে উদাসীন থাকেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাতেই সমস্যা তৈরি হয়। হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুর ঘটনাও তো ঘটে মাঝেমধ্যেই।' সাহেবা খাতুনের বক্তব্য, 'নার্সরা প্রায়শই রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। কেউ পরিজন নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন বা চিকিৎসার জন্য আসেন। তাঁদের মানসিক অবস্থাও সব সময়ে ঠিক থাকে না। তাঁদের প্রতিও সহানুভূতি থাকা উচিত।'
হাসপাতালের তরফে জানানো হয়েছে, রোগীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার যাতে না-হয়, তার জন্য নিয়মিত নার্সিং স্টাফের সঙ্গে কথা বলা হয়। নতুন কর্মীদের শেখানো হয়, রোগী বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কী ধরনের ব্যবহার কড়া উচিত। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসার নানোন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। আরজি করের লিফট দুর্ঘটনার পরে নতুন করে এই হাসপাতালের লিফটের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।