• প্রার্থী দুই চিকিৎসক, প্রচারে বেরিয়েও দেখছেন অসুস্থকে
    এই সময় | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • বিশ্বদেব ভট্টাচার্য, আসানসোল

    পশ্চিম বর্ধমানের দুই জনপ্রিয় চিকিৎসক এ বার জেলার দু'টি আসনে বিজেপির প্রার্থী। রোজ দু'বেলা রোগী সামলে তাঁরা ভোটের প্রচার সারছেন। আবার প্রচারে ব্যস্ত থাকার সময়ে কারও অসুস্থতার কথা জানতে পারলে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর চিকিৎসাও করছেন। দু'জনেই প্রায় দিনই প্রচারে বেরোচ্ছেন স্টেথোস্কোপ সঙ্গে নিয়ে। তাঁদের একজন বরাকরের বাসিন্দা অজয় পোদ্দার, তিনি প্রার্থী হয়েছেন কুলটি আসনে। অন্য জন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বিজন মুখোপাধ্যায়, বিজেপি তাঁকে দাঁড় করিয়েছে জামুড়িয়া আসনে।

    গত বিধানসভা নির্বাচনে প্রথম ভোটের ময়দানে পা রেখেছিলেন চিকিৎসক অজয় পোদ্দার, বিজেপি তাঁকে দাঁড় করিয়েছিল কুলটি আসনেই। প্রথম বারেই জয়ী হন তৃণমূল প্রার্থীকে ৭০০ ভোটে হারিয়ে। দল এ বার ফের তাঁকে প্রার্থী করেছে। তিনি জানালেন, সকালে অন্তত ১০ জন রোগীকে চেম্বারে দেখে প্রচারে বেরোচ্ছেন। রাতেও ছ'সাত জনকে দেখেন। আর প্রচারে বেরোচ্ছেন স্টেথোস্কোপ সঙ্গে নিয়েই। প্রচারের মধ্যেও রাস্তায় অসুস্থ কাউকে দেখলেই তাঁকে পরীক্ষা করে লিখে দিচ্ছেন প্রেসক্রিপশন। এ বার জিতলে এলাকায় কোন কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন, প্রশ্নের উত্তরে বললেন, 'এই কুলটি এলাকায় বিদ্যানন্দপুর-সহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের করুণ অবস্থা। বিদ্যানন্দপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোজ চিকিৎসকের আসার কথা, আসেন না। আবার পুরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডেই একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকার কথা, সেটাও নেই। এ নিয়ে বহু বার আবেদন করেও সাড়া পাইনি। দল ক্ষমতায় এলে চেষ্টা করব এটাকে কার্যকরী করতে।'

    জামুড়িয়ার বিজেপি প্রার্থী স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ বিজন মুখোপাধ্যায়ও ভোটের ময়দানে এই নিয়ে দু'বার। জামুড়িয়ার বীজপুর এলাকার বাসিন্দা এই চিকিৎসক গত বিধানসভা নির্বাচনে রানিগঞ্জে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন। তবে কুলটির অজয় পোদ্দারের মতো তিনি জিততে পারেননি, তৃণমূল প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন সাড়ে তিন হাজারের মতো ভোটের ব্যবধানে। তিনিও জানালেন, রোজ খুব সকালে এবং দুপুরে চেম্বারে রোগী এলে দেখেন। প্রচারের সময়েও কেউ শারীরিক সমস্যার কথা বললে বিনা ভিজিটে দেখে দিচ্ছেন। এমনকী প্রচারে ঘুরতে ঘুরতে কাউকে দেখে অসুস্থতা রয়েছে বলে মনে হলেও তিনি নিজেই ডেকে নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন, প্রয়োজনে প্রেসক্রিপশন লিখে দিচ্ছেন। চিকিৎসার মাধ্যমেই তো অনেকের সেবা করা যায়, তা হলে রাজনীতিতে কেন, প্রশ্নের উত্তরে তিনি বললেন, 'সত্যিকারের সামাজিক পরিবর্তন করতে গেলে রাজনীতির শক্তিটাও দরকার। যদি এ রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়তে পারে, তা হলে মানুষের কাছে সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর আরও অনেক সুযোগ পৌঁছে দিতে পারব।'

  • Link to this news (এই সময়)