আজকাল ওয়েবডেস্ক: বোলপুরে ভোটের আবহে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন এক ভিলেজ পুলিশ কর্মী। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর হয়ে দেওয়াল লিখতে গিয়ে শেষমেশ সাময়িক বরখাস্ত হতে হল তাঁকে। ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
জানা গিয়েছে, বোলপুর থানার অধীনস্থ ভিলেজ পুলিশ কর্মী বিশ্বজিৎ পাত্রকে সম্প্রতি দেখা যায় তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহের সমর্থনে দেওয়াল লিখতে। বোলপুরের মুলুক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দেওয়ালে রং–তুলি হাতে তিনি দলের প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ আঁকছিলেন। সেই দৃশ্য কেউ মোবাইলে বন্দি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে–একজন পুলিশি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি কীভাবে প্রকাশ্যে কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারে অংশ নিতে পারেন?
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেয় বীরভূম জেলা পুলিশ প্রশাসন। জেলা পুলিশ সুপার সূর্যপ্রতাপ যাদব বিষয়টি সামনে আসার পরই সংশ্লিষ্ট ভিলেজ পুলিশ কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি জানানো হয়েছে, নির্বাচন প্রক্রিয়া চলাকালীন তিনি আর কোনও ধরনের পুলিশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যুক্ত কোনও কর্মীর পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা বরদাস্ত করা হবে না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বোলপুরের বিজেপি প্রার্থী কড়া ভাষায় কটাক্ষ করে দাবি করেন, রাজ্যে গ্রিন পুলিশ, ভিলেজ পুলিশ ও সিভিক ভলান্টিয়ারদের কার্যত শাসক দলের ক্যাডার হিসেবেই ব্যবহার করা হয়। তাঁর অভিযোগ, এদের মূল কাজ বিরোধী শিবিরের উপর নজরদারি চালানো এবং সেই তথ্য দলীয় নেতৃত্ব বা পুলিশের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ফলে একজন ভিলেজ পুলিশের তৃণমূলের হয়ে দেওয়াল লিখতে দেখা যাওয়াটা অস্বাভাবিক নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন, তাঁদের দল ক্ষমতায় এলে এই ধরনের কর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা ও নিরপেক্ষ কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেও রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিভিক ভলান্টিয়ার ও অনুরূপ বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। শৃঙ্খলাভঙ্গ, দুর্ব্যবহার থেকে শুরু করে অপরাধমূলক ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগও উঠেছে একাধিকবার। সেই প্রেক্ষাপটে বোলপুরের এই ঘটনাটি নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল এই বাহিনীগুলির প্রশিক্ষণ, ভূমিকা ও নিরপেক্ষতা নিয়ে।
ভোটের মুখে এমন একটি ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উস্কে দিয়েছে। একদিকে প্রশাসন নিরপেক্ষতার বার্তা দিতে চাইছে, অন্যদিকে বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলকে আক্রমণ শানাচ্ছে। সব মিলিয়ে, এক ভিলেজ পুলিশের দেওয়াল লিখন ঘিরেই বোলপুরের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও কয়েক ধাপ বেড়ে গেল।