লখনউ: পারস্পরিক সম্মতিতে কোনো বিবাহিত পুরুষ যদি লিভ-ইন সম্পর্কে থাকেন, তাহলে তা অপরাধ নয়। সম্প্রতি এক মামলায় এমনই পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাইকোর্টের। বিচারপতি জে জে মুনির ও বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, যুগলকে যেন গ্রেপ্তার না করে পুলিশ। তাঁদের নিরাপত্তার বিষয়টি অবিলম্বে সুনিশ্চিত করতে হবে। এমনকি মহিলার পরিবারের সদস্যরা যাতে ওই লিভ-ইন কাপলের কোনো ক্ষতি না করে, তার উপরও নজর রাখতে হবে। একইসঙ্গে আদালতের বক্তব্য, কোনো সামাজিক মতামত বা নৈতিকতার দ্বারা যেন নাগরিক অধিকার রক্ষার বিষয়টি প্রভাবিত না হয়।
উত্তরপ্রদেশের শাহজাহানপুরের ঘটনা। বিবাহিত নেত্রপালের সঙ্গে লিভ-ইনে রয়েছেন অনামিকা। আর তা নিয়েই ঝামেলার সূত্রপাত। গত ৮ জানুয়ারি শাহজাহানপুরের জৈতিপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন অনামিকার মা কান্তিদেবী। তাঁর বক্তব্য, ওইদিন সকালে ধর্মপাল নামে এক ব্যক্তির সহযোগিতায় তাঁর মেয়েকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে যায় অভিযুক্ত নেত্রপাল। এরপর ফৌজদারি মামলা শুরু হয়। সম্প্রতি সেই মামলাকে চ্যালেঞ্জ করে এলাহাবাদ হাইকোর্টে রিট পিটিশন দাখিল করেন অনামিকা ও নেত্রপাল। তাঁরা জানান, উভয়ই প্রাপ্তবয়স্ক এবং পারস্পরিক সম্মতিতে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন। তখনই অপর পক্ষের আইনজীবী জানান, নেত্রপাল বিবাহিত। তারপরও অন্য মহিলার সঙ্গে সহবাস রীতিমতো অপরাধ।
শুনানি শেষে আদালতের বক্তব্য, অপরাধের কোনো জায়গা নেই। কারণ তাঁরা পারস্পরিক সম্মতিতে একে অন্যের সঙ্গে রয়েছেন। এক্ষেত্রে আইন ও নৈতিকতাকে আলাদা করতে হবে। এখানেই শেষ নয়। যুগলের দাবি, অনার কিলিংয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। লিভ-ইনে থাকা তরুণীর পরিবারের তরফে বারবার মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি জানতে পেরে তাঁদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার জন্য পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, কোনো অজুহাতেই যুগলের বাড়িতে ঢুকতে পারবেন না পরিবারের লোকজন। তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগও করা যাবে না। মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ এপ্রিল।