এলপিজির সংকটে দায়ী মোদির বিদেশ নীতিই, দাবি বিরোধী শিবিরের
বর্তমান | ২৮ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ভারতে রান্নার গ্যাস সংকটের জন্য মোদি সরকারের বিদেশ নীতি ব্যর্থ বলেই বিরোধীদের অভিযোগ। সরকার সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে পরিস্থিতির ব্যাখ্যা করে সংকট নেই বলে দাবি করলেও বাস্তবে চিত্র ভিন্ন বলেই বিরোধীদের দাবি। তাই সরকারের ডাকা সর্বদলীয় বৈঠকে না গেলেও শুক্রবার সংসদ চত্বরে অভিনব প্রতিবাদ করল তৃণমূল। নির্বাচনি কাজে দলের সিংহভাগ সাংসদ বাংলায় ব্যস্ত। তাই একা ডেরেক ও’ব্রায়েনই দৃষ্টি কাড়লেন। যদিও রাজ্যসভার অন্দরে তিনি ওই টি শার্ট পরে যাননি।
সামনে-পিছনে লাল এলপিজি সিলিন্ডারের স্টিকার সাঁটা সাদা টি শার্ট পরে এলেন সংসদে। মুখে কোনো স্লোগান নয়। স্রেফ ওই টি শার্ট পরে কিছুক্ষণ সংসদ চত্বরে ঘোরাফেরা করলেন। সাংবাদিকরা কিছু জানতে চাইলে ইশারায় বললেন, টি শার্টেই সব বলা আছে। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিকল্পনা মতো ডেরেকের ওই অভিনব প্রতিবাদের ভিডিও হল ভাইরাল। সমাজবাদী সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে তা তুলে ধরলেন। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারে এখন কম পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন অখিলেশ।
সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বের ধাঁচে কটাক্ষের সুরে লিখেছেন, এলপিজি সিলিন্ডারে কত গ্যাস থাকে? উত্তর এড়িয়ে যাওয়ার উপহাস করে বলেছেন, এই প্রশ্নটা কি যুদ্ধ পরিস্থিতির আগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে। নাকি পরের? গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়ার পরেই ওজন করে বলতে পারব। নয়ত এবার থালির জায়গায় সিলিন্ডার বাজানো হবে। কোভিড কালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বান ছিল থালি বাজানোর।
অন্যদিকে, ডেরেক বলেন, পশ্চিম-এশিয়া পরিস্থিতির জেরে পেট্রল, ডিজেল, রান্নার গ্যাসের যে সংকট শুরু হয়েছে, তার জন্য মোদি সরকারের বিদেশ নীতিই দায়ী। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মন-কি-বাত বলতে লোকসভা-রাজ্যসভায় আসতে পারেন, কিন্তু সর্বদল বৈঠকে নয় কেন? তাছাড়া এখন সংসদের অধিবেশন চলছে, তখন কেন বিষয়টি নিয়ে কোনো কনফারেন্স রুমে আলোচনা হবে? সংসদের অন্দরেই কেন নয়? সরকার বিরোধীদের দাবি না মানাতেই এই সিলিন্ডারের স্টিকার সাঁটা টি শার্ট পরে প্রতিবাদ।