সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: বিরোধীদের ‘পত্রবোমা’য় ফাঁপড়ে সংসদের দুই সচিবালয়। লোকসভা-রাজ্যসভা। ইস্যু: মুখ্য নির্বাচন কমিশার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ। দুর্ব্যবহার, নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগে তদন্ত না করা, এসআইআরের নামে বাংলার লক্ষ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া, ঘুরপথে এনআরসির চেষ্টা, সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ সহ বিরোধীরা যে নোটিস (চিঠি) দিয়েছে, তা কী করে বাতিল করা হবে, ভেবে উঠতে পারছে না দুই সচিবালয়। এই ঢিলেমি দেখে আঁতাতের অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
জানা গিয়েছে, সরকারের শীর্ষস্তর চাইছে, নোটিসে ত্রুটি বের করে বাতিল করা হোক। কারণ, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর লিখিত আপত্তি (ডিসেন্ট নোট) সত্ত্বেও যে জ্ঞানেশ কুমারকে মোদি-শাহর সরকার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার পদে বসিয়েছে। এবার তাঁকেই সরানোর জন্য কী করে সংসদে পরোক্ষে সরকার সহমত হবে? তাই চিঠিতে খুঁত বের করে বাতিলের প্রবল চেষ্টা চলছে বলেই বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও ১১ পাতার চিঠি দুটি সবদিক সতর্ক থেকে এমনভাবেই লেখা, যে ত্রুটি বের করা সহজ হচ্ছে না। সেই কারণেই নোটিস দুটি নিয়ে সিদ্ধান্ত জানানোর বিষয়টি দীর্ঘায়িত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ।
সরকার তথা সচিবালয়ের সিংহভাগ মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গ সহ পাঁচ রাজ্যের নির্বাচন মিটে গেলে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ ইস্যু ফিকে হয়ে যাবে। তাই সময় পার করার চেষ্টা চলছে। গত ১২ মার্চ লোকসভার ১৩০ জন সাংসদের সই সম্মলিত জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের চিঠি লোকসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছে জমা পড়েছে। একইদিনে রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ একই বয়ানের চিঠিতে সই করে জমা করেছেন রাজ্যসভার সেক্রেটারি জেনারেলের কাছেও।
লোকসভায় কমপক্ষে ১০০ অথবা রাজ্যসভার ৫০ সদস্যর সই হলেই চলে। এক্ষেত্রে তা প্রয়োজনের চেয়ে বেশি আছে। এবং প্রতিটি স্বাক্ষর ব্যক্তিগতভাবে করা। ডিজিটাল সিগনেচার নয়। নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত থাকায় তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যেপাধ্যায় সংসদে আসছেন না। তাই কলকাতায় স্বাক্ষরের পাতা পাঠিয়ে তাঁর সই সংগ্রহ করে দিল্লিতে আনা হয়েছে। তারপরই গত ১২ মার্চ তা জমা করা হয়েছে।
সেই থেকে দু’ সপ্তাহ পার। কোনো উচ্চবাচ্য নেই। এমনকি প্রাপ্তিস্বীকার করে সংসদের দুই কক্ষের রেকর্ডে বিষয়টি এখনও পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুক্রবার ক্ষোভে ফেটে পড়েছে তৃণমূল। এদিন দলের রাজ্যসভার দলনেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন বলেন, ‘বিজেপি সরকার আর কমিশনের খুল্লাম খুল্লা আঁতাত স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। চিঠি দেওয়ার পর ১৪ দিন পরেও কোনো উচ্চবাচ্য নেই। সংসদীয় গণতন্ত্রকে তামাশা বানিয়ে ছেড়েছে। যদি নোটিসে ভুল থাকে, বাতিল করে দিক। কেন দিচ্ছে না?’