টিকিট বাতিলের চার্জ থেকে আয় কত? হিসাবই নেই রেলের কাছে
বর্তমান | ২৮ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ট্রেনের টিকিট বাতিলের পর ক্যানসেলশন চার্জ থেকে কত আয় হচ্ছে, তার কোনো হিসাব রেলের কাছে নেই। শুক্রবার রাজ্যসভায় বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জুন খাড়্গে এসংক্রান্ত বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেছিলেন। তার লিখিত জবাবেই রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব এমন উত্তর দিয়েছেন। এর পরেই এবিষয়ে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। রেল বিশেষজ্ঞ মহল প্রশ্ন তুলছে, আয়ের পরিমাণ কি প্রকাশ্যে আনতে চাইছে না রেল বোর্ড? এদিন খাড়্গের লিখিত প্রশ্নের নির্দিষ্ট জবাবের পরিবর্তে ট্রেনের টিকিটে রেল কত ভরতুকি দেয়, তার সবিস্তার তথ্য পেশ করেছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব।
রাজ্যসভায় রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরে ট্রেনের টিকিটে প্রায় ৬০ হাজার ২৩৯ কোটি টাকা ভরতুকি দিয়েছে রেলমন্ত্রক। যা প্রায় ৪৩ শতাংশ ছাড়ের সমতুল। অর্থাৎ, কোনো টিকিটের দাম ১০০ টাকা হলে রেল যাত্রীদের মেটাতে হয়েছে মাত্র ৫৭ টাকা। বাকি ৪৩ টাকা দিয়েছে রেলই। প্রসঙ্গত, দীর্ঘ ছ’বছর ধরে রেলের টিকিটে কনসেশন বন্ধ রয়েছে। দেশব্যাপী করোনা মহামারির সময়ই এই পদক্ষেপ নেয় কেন্দ্র। সারা দেশে করোনা পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হয়ে গেলেও রেলের টিকিটে কনসেশন আর ফেরেনি।
অন্যদিকে, এদিন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের কলকাতা মেট্রো সংক্রান্ত এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো পুরোপুরি চালু হয়ে যাওয়ার পর ‘গ্রিন লাইনে’ দৈনিক যাত্রীর পরিমাণ প্রায় ৭৮ হাজার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ লক্ষ ৪ হাজারে পৌঁছে গিয়েছে। উল্লেখ্য, এসপ্ল্যানেড-শিয়ালদহ শাখার কাজ বাস্তবায়িত হওয়ার পর ২০২৫ সালের আগস্ট মাস থেকে এই ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো করিডর পুরোপুরিভাবে যাত্রী পরিবহণ শুরু করেছে। এরপরেই বৃদ্ধি পেয়েছে যাত্রীদের দৈনিক সংখ্যা। শুক্রবার রাজ্যসভায় লিখিত জবাবেও সেকথাও উল্লেখ করেছেন অশ্বিনী বৈষ্ণব।