এপ্রিল মাস থেকে শুরু সেন্সাসের কাজ, প্রথম পর্বে শুধুমাত্র গৃহগণনা
বর্তমান | ২৮ মার্চ ২০২৬
সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: অসমের এনআরসিতে বাদ পড়েছে লক্ষ লক্ষ মানুষ। বিহারে বাদ দেওয়া হয়েছে এসআইআর তালিকা থেকে। বাংলায় বিচারাধীন নাম দিয়ে বাদ দেওয়ার পথ প্রশস্ত হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই একটাই উপায়। ট্রাইবুনালে যাওয়া। অসমের ফরেন ট্রাইবুনালে আবেদন পর্বের চূড়ান্ত বিহিত আজও হয়নি। কারণ অসমের এনআরসি তালিকায় চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা যায়নি এখনও। আদালতের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও। এনআরসি অথবা এসআইআর, দুইি শেষ পর্যন্ত সেন্সাসের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। কারণ নির্বাচন কমিশনের থেকে ডেটা সংগ্রহ করবে সেন্সাস বিভাগ।
১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে চলেছে দেশে সেন্সাসের কাজ। প্রথম দফার সেন্সাস হবে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর। যদিও এপ্রিল মাসে যেহেতু পাঁচ রাজ্যের ভোট, তাই নির্বাচন হওয়া রাজ্যগুলির সেন্সাসের প্রথম দফার কাজ শুরু হবে মে মাসে। অর্থাৎ নির্বাচন পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর। কিন্তু সবথেকে বড় প্রশ্ন হল, বিচারাধীন ও নাম বাদ যাওয়াদের সেন্সাসে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না। প্রথম দফার যে কাজ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে, সেখানে এনআরসি এবং এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া অথবা বিচারাধীনদের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা নেই বলে জানা যাচ্ছে। সেন্সাস সূত্রের খবর, এই পর্বে গৃহতালিকা গণনা হবে শুধু। অন্য কোনও ব্যক্তিগত প্রশ্ন করা যাবে না। ৩৩টি প্রশ্ন করা হবে। যা গৃহ এবং গৃহবাসী সংক্রান্ত। কিন্তু অনিশ্চয়তা আগামী বছর। গৃহগণনার কাজ সমাপ্ত হলে আগামী বছর ফেব্রুয়ারি মাসে হবে জণগণনা। প্রশ্ন ও সংশয় উঠছে, এসআইআর এবং এনআরসিতে যাদের নাম বাদ যাচ্ছে অন্তিম তালিকায়, তাদের কি সেন্সাসের শেষ পর্যায় অর্থাৎ জনজণনা প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে? এখনও পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক, নির্বাচন কমিশন, সেন্সাস দপ্তর এই নিয়ে আলোচনা করবে বলে জানা গিয়েছে। এপ্রিল থেকে যে সেন্সাস শুরু হচ্ছে, সেখানে প্রশ্ন থাকবে বাড়ির উপকরণ নিয়ে, শৌচাগার আছে কি না, পানীয় জলের উৎস কী, বাড়ি কার নামে, মালিক কোন জাতিভুক্ত, কতগুলি ঘর রয়েছে, একটি বাড়িতে দম্পতির সংখ্যা কত, বিদ্যুৎ আছে কি না, রান্না করার জ্বালানি কী, বাড়িতে পরিবহণ কী কী আছে, প্রধানত কোনও শস্য খাদ্য হিসেবে নেওয়া হয় ইত্যাদি প্রশ্নই থাকবে এই প্রথম দফার সেন্সাস প্রক্রিয়ায়। কাস্ট সেন্সাস এখন হবে না। জনগণনার সঙ্গে কাস্ট সেন্সাস করা হবে বলে জানা যাচ্ছে। অতএব এসআইআরকে আপাতত কোনও মানদণ্ড ধরা হচ্ছে না।