নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যে আসন্ন নির্বাচন যাতে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ হয়, তার জন্য এখন থেকেই তৎপর প্রশাসন। ইতিমধ্যে রাস্তায় রাস্তায় শুরু হয়ে গিয়েছে নাকা চেকিং। আর সেখানে কড়াকড়ির কোনো কমতি নেই। সন্দেহজনক মনে হলেই ব্যাগপত্র খুলে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে সবকিছু। এক দল যুবকের ব্যাগ তল্লাশি করার সময় একটি লম্বা ব্লুটুথ স্পিকার পাওয়া যায়। সেটির সামনের অংশ অর্ধ খোলা অবস্থায় ছিল। সেটা দেখে সন্দেহ হয় কর্তব্যরত আধিকারিকদের। শেষ পর্যন্ত ওই যন্ত্রটি খুলে পুলিশের সন্দেহ নিরসন করতে হয়েছে যুবকদের। ডায়মন্ডহারবারে একটি নাকা চেকিংয়ে দেখা গিয়েছে এমনই দৃশ্য।
জেলার প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নাকা চেকিং পয়েন্ট বসানো হয়েছে। রয়েছে স্ট্যাটিক সার্ভেইলেন্স টিম। বেআইনিভাবে টাকা, অস্ত্র ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে যাতে কেউ পাচার করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে নদীপথে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় যাঁরা আসছেন, তাঁদের কাউকে সন্দেহ হলেই বা বড়ো ব্যাগ নিয়ে এলেই ফেরিঘাটে পরীক্ষা করছেন আধিকারিকরা। রাতের পাশাপাশি দিনেও চলছে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি। কোনো কোনো জায়গায় টিফিন বক্স, বড়ো সুটকেসের মধ্যে ছোটো ছোটো ব্যাগ থাকলে সেসব খুলে পরীক্ষা করছেন আধিকারিকরা। কে কোথা থেকে আসছেন, কোথায় যাচ্ছেন, সব তথ্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, একটি মাছিও যাতে গলতে না পারে, সেভাবে নজর রাখতে বলা হয়েছে। অন্যবারের চেয়ে এবার এই নাকা চেকিং নিয়ে যথেষ্ট কড়া মনোভাব নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাই ব্যাগ খুলে তল্লাশির পাশাপাশি অন্য কোনো সামগ্রী নিয়ে সামান্য সন্দেহ হলেই খুলে দেখা হচ্ছে। এই নাকা চেকিং শুরুর কিছুদিন আগে নোদাখালি থানা এলাকার ফেরিঘাটে বিপুল পরিমাণ মদ বাজেয়াপ্ত করেছিল পুলিশ। সূত্রের খবর, ওই মদ হাওড়া থেকে নদীপথে এদিকে আনা হচ্ছিল। সুন্দরবন এলাকায়ও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।