হবু প্রিসাইডিং অফিসাররাই ‘বিচারাধীন’! কী হবে, জানে না জেলা নির্বাচন দপ্তরও
বর্তমান | ২৮ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: তাঁরা প্রত্যেকে সরকারি স্কুলের শিক্ষক। সেই সুবাদে একের পর এক নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব সামলেছেন। এরকম শিক্ষকরাই প্রশ্ন তুলছেন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে। কারণ, এসআইআরে তাঁরাও রয়েছেন ‘বিচারাধীন’ ভোটারের তালিকায়! তাঁদের প্রশ্ন, ‘আমাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলেও কি নির্বাচনে কাজ করতে হবে?’ শুক্রবার উত্তর ২৪ পরগনা জেলাশাসকের নির্বাচন দপ্তরে শতাধিক শিক্ষক এই অভিযোগ এনে কাঠগড়ায় তুললেন খোদ কমিশনকে। তাঁদের দাবি, পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাই ছাড়াই তাঁদের নাম ‘বিচারাধীন’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ‘বিচারাধীন’ প্রিসাইডিং অফিসারদের ভবিষ্যৎ কী, তার উত্তর নেই জেলা নির্বাচন দপ্তরের কাছেও। জানা গিয়েছে, এঁদের মধ্যে অনেকে ২৫ থেকে ৩০ বছর সরকারি চাকরি করছেন। বহু নির্বাচনে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব সামলেছেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ছিল বলেও দাবি করছেন ওই শিক্ষকরা। তারপরও হঠাৎ কেন তাঁদের ‘বিচারাধীন’ তালিকায় ফেলে দেওয়া হল, তা নিয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ তাঁরা।
এই শিক্ষকদের অভিযোগ, কোনো আগাম নোটিস বা ব্যাখ্যা ছাড়াই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। ফলে, একদিকে যেমন প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে, তেমনই তাঁদের ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেমন, বারাসতের কাজিপাড়া হাইস্কুলের শিক্ষক সামসুল জামান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনই তো আমাদের বারবার ভোট পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। আজ তারাই যদি বলে আমরা সন্দেহজনক, তাহলে এতদিনের কাজের মূল্য কোথায়? আমাদের পাশের পাড়ায় অনেকের সব নথি থাকার পরও নাম বাদ পড়েছে। আমাদেরও সেই ভয় তাড়া করছে। শেষ পর্যন্ত নামটাই বাদ দিয়ে দেবে না তো?’ আর এক শিক্ষক সাইফুল মণ্ডল বলেন, ‘ভোট করানোর সময় আমরা ভারতীয়। আর তালিকায় নাম তোলার সময় আমরা অবৈধ! এ কেমন দ্বিচারিতা? ভেবে পাচ্ছি না আগামীতে কী হবে। শুক্রবার থেকে ট্রেনিং শুরু হয়েছে। আমরা সেখানে অংশও নিয়েছি। বুঝতে পারছি না, নাম না উঠলে কী করতে হবে।’ এখন তাঁদের সামনে বড় প্রশ্ন, দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় কি এই ‘ভুল’ সংশোধন করা হবে? নাকি ‘অভারতীয়’ তকমা নিয়েই তাঁদের অংশ নিতে হবে নির্বাচনে? অনিশ্চয়তার মধ্যে তাঁদের ক্ষোভ বাড়ছে। দ্রুত বিষয়টির সমাধান না হলে এই ক্ষোভ আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল। উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসক তথা জেলা নির্বাচনি আধিকারিক শিল্পা গৌরিসারিয়া বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলে তবেই এ বিষয়ে জানানো যাবে। সবটা হবে কমিশনের নিয়ম মেনে। তাছাড়া, পরবর্তী সাপ্লিমেন্টারি লিস্টেই ওঁদের নাম থাকতে পারে।’