• শেষ পর্বের ভোটে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মানুষই বিজেপির দফারফা করে ছাড়বে, কুলপির সভা থেকে অভিষেকের হুংকার
    বর্তমান | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:  দক্ষিণ ২৪ পরগনা তৃণমূলের গড় শুধু নয়, দুর্জয় ঘাঁটি। সেটা নির্বাচনে বারবারই প্রমাণিত হয়েছে। মত ঘাসফুল শিবিরের। আর এই জেলা এবারও বিজেপির দফারফা করে ছাড়বে। কুলপিতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বর্ণালি ধাড়ার সমর্থনে প্রচারে এসে এমনই হুংকার দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। উৎসাহী কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই জেলায় বরাবরই নির্বাচন হয় শেষ দফায়। আর বহিরাগত বিজেপিকে দফারফা করেন এখানকার মানুষ। এবারও সেই দায়িত্ব নেবেন এখানকার ভোটাররা। সারা রাজ্যে যখন বিজেপির হাত-পা, কোমর ভেঙে দিয়ে রাজনৈতিকভাবে আধমরা করে দেয় মানুষ, তখন শেষটা হয় এই জেলাতেই। এবারও বিজেপির প্রার্থীদের জমানত জব্দ করতে হবে।

    ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে বিদায়ী বিধায়ক যোগরঞ্জন হালদার ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু ১৪টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে কুলপি এবং করঞ্জলি গ্রাম পঞ্চায়েতে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল। সে-কথা মনে করিয়ে দিয়ে এবার  মার্জিন ছাপিয়ে ব্যবধান ঠিক করে দিলেন তৃণমূলের সেনাপতি। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এবার এই বিধানসভা থেকে ৪০ হাজার ভোটে প্রার্থীকে জেতাতে হবে। পিছিয়ে থাকা দুই পঞ্চায়েতেও জিততে হবে বলে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। সবাইকে এককাট্টা হয়ে লড়াই করার কথা বলেন অভিষেক। যেসব উন্নয়নমূলক কাজ শেষ করা যায়নি,  চতুর্থবার তৃণমূল সরকার হলে কুলপিতে সেসব শেষ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড। কুলপিতে কী কী কাজ হয়েছে, তারও তালিকা এদিন তুলে ধরেন কর্মী-সমর্থকদের সামনে। বাংলার বাড়ি থেকে রাস্তা, কতজন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পান, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন কতজন প্রভৃতি তথ্য এদিন জানান অভিষেক। এছাড়া বিজেপিকে আক্রমণ শুরু করার আগে কুলপির পদ্মপার্টির প্রার্থীকে তীব্র আক্রমণ করেন অভিষেক।

    তৃণমূল সেনাপতিকে দেখার জন্য এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে তিনি কী বার্তা দেন, তার শোনার জন্য এদিন পুরুষ মহিলা উভয়ের মধ্যেই বাড়তি উন্মাদনা দেখা যায়। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরেই সভাস্থলে আসেন অভিষেক। তার অনেক আগে থেকেই গোটা ময়দান ভরে উঠেছিল। মাঠের ধারে গ্যালারি ছিল। সেখানে পুলিশ প্রথমে কাউকে ঢুকতে না দিলেও পরে ভিড়ের চাপে সেই অংশটি খুলে দেওয়া হয়। পড়ন্ত বেলার রোদ মাথায় নিয়ে মহিলা যুবক এমনকি বাড়ির বাচ্চাদের নিয়ে কেউ ছাতা মাথায় দিয়ে কেউ-বা শাড়ির আঁচল মাথায় রেখে অপেক্ষা করতে থাকেন অভিষেকের। মঞ্চে আসার পর যেন উন্মাদনার বাঁধ ভেঙে যায় অপেক্ষারত জনতার।
  • Link to this news (বর্তমান)