• ‘ওয়ান্টেড’ ধরতে বাস্তবে কী ব্যবস্থা, খুঁটিয়ে দেখছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা
    বর্তমান | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ভোটের সময় ওয়ারেন্ট জারি হওয়া অপরাধীকে ধরতে  বাড়িতে অনেক সময় না-যাওয়ার অভিযোগ উঠে পুলিশের বিরুদ্ধে। থানায় বসেই জিডিতে সমস্ত কিছু লিখে তার রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ে। ভোটের দিন ওয়ারেন্ট থাকা ব্যক্তিকে ভয় দেখাতে বা বুথ দখলে দেখা  গিয়েছে বলে  বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ তোলেন অনেকেই। খাতাকলমে এই রিপোর্ট আর চলছে না এবারের ভোটে। ওয়ারেন্ট থাকা ব্যক্তিদের খুঁজতে পুলিশ কী কী করছে, কতবার গিয়েছে থেকে শুরু করে এর তথ্য পেতে জেনারেল ডায়েরির প্রতিটি পাতা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করছেন পুলিশ পযর্বেক্ষকরা। কোথাও কিছু ফাঁক ধরা পড়লেই ব্যাখ্যা চাইছেন তাঁরা।

    ভোট এলেই থানায় ওয়ারেন্ট এক্সিকিউশন প্রক্রিয়া শুরু হয়। পলাতক অভিযুক্তদের না পেলে সেক্ষেত্রে গোটা বিষয়টি জানিয়ে জেনারেল ডায়েরি করতে হয় সংশ্লিষ্ট অফিসারকে। ওই ডায়েরির কপিসহ সমস্ত তথ্য আদালতে জমা পড়ে। বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকরা জেনেছেন রাজ্য ও কলকাতা পুলিশে গোটা প্রক্রিয়াটি চলে কাগজে কলমে। ঘটনাস্থলে না গিয়েই দেখিয়ে দেওয়া হয় ‘অভিযুক্তকে পাওয়া যায়নি!’ ভোটের দিন পলাতকদের মধ্যে একটা অংশকে এলাকায় ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় বলে পর্যবেক্ষকরা জেনেছেন। তারা বিভিন্ন লোকজনকে হুমকি দেয় বা ছাপ্পা ভোট দিয়ে থাকে। সেই কারণে বিষয়টি নিয়ে এবার কড়া পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা জেনারেল ডায়েরি বুক পড়ে জানার চেষ্টা করছেন ওয়ারেন্ট থাকা অভিযুক্তদের ধরতে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে।

    রাজ্য পুলিশ সূত্রের খবর, এক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকরা প্রথমেই দেখছেন অফিসার ঘটনাস্থলে গিয়ে বিএনএসএসের ধারা অনুযায়ী তার ভিডিয়োগ্রাফি করেছেন কি না। কতবার তাকে ধরতে গিয়েছেন অফিসার, তা দেখা হচ্ছে। সাক্ষী হিসাবে কাদের কাদের নাম রয়েছে, কবে গিয়েছিলেন এবং কখন ফিরেছেন, এইসময়ের মধ্যে ব্যবধান কত, তা মিলিয়ে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। কোথায় কোথায় খুঁজেছেন পলাতক অপরাধীকে এবং না পেয়ে তাকে আদালতের অনুমতি নিয়ে ‘প্রোক্লেমড অফেন্ডার’ দেখানো হয়েছে কি না সেটি পরীক্ষা করছেন তাঁরা। কেউ আত্মসমর্পণ করলে সারেন্ডার স্লিপ যুক্ত করে তা আদালতে জমা পড়েছে কি না তাও বাদ দিচ্ছেন না তাঁরা। গোটা বিষয়টি পরপর ডায়েরি বুকে রয়েছে কি না সেটি খুঁটিয়ে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা, যাতে ঘরে বসেই কেউ রিপোর্ট তৈরি করে আদালতে জমা না দেন। সূত্রের খবর, বেশ কয়েকটি জেলায় এই সংক্রান্ত একাধিক ফাঁকফোকর ধরাও পড়েছে। তাই নিয়ে পর্যবেক্ষকরা ব্যাখ্যাও চেয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।
  • Link to this news (বর্তমান)