‘হিটলারি অত্যাচার চালাচ্ছে কমিশন’, এসআইআরে মানুষের হয়রানি নিয়ে তীব্র আক্রমণ মমতার
বর্তমান | ২৮ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বাংলা দখলে বিজেপি-কমিশন আঁতাত—এই একটি দাবিই লাগাতার করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই অভিযোগের বাস্তবতা প্রমাণেই যেন উঠেপড়ে লেগেছে নির্বাচনের নীতি নির্ধারক সংস্থাটি। এসআইআরের নামে হয়রানি, নাম বাদ যাওয়া, অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশের দাবি সত্ত্বেও মানুষ তা দেখতে পাচ্ছে না। কমিশনের এই ‘তুঘলকি’কেই আরও চড়া সুরে শুক্রবার আক্রমণ করলেন মমতা। এহেন খামখেয়ালি আচরণ এবং সিদ্ধান্তকে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’ বলে তোপ দাগলেন তিনি। এবং তাঁর সাফ কথা, কমিশনের অত্যাচার ‘হিটলারকেও ছাপিয়ে গিয়েছে’।
প্রথমে সন্ধ্যা ৬টা। তারপর রাত ৯টা। এবং সব শেষে রাত ১২টা। সোমবার এমন দীর্ঘ টালবাহানার পরই ‘নামমাত্র’ প্রকাশ হয়েছিল প্রথম অতিরিক্ত তালিকা। শুক্রবার দ্বিতীয়। কিন্তু যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁরা কি তা দেখতে পেয়েছেন? ঠিক কতজনের নাম চূড়ান্ত তালিকায় ঢুকল? ‘ডিলিটেড’ ভোটাররা কোথায় আবেদন করবেন? উত্তর না থাকা এই সব প্রশ্নের ভিতের উপর দাঁড়িয়েই মমতার হুংকার, এভাবে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই। যা চলছে, তা হিটলারকেও ছাপিয়ে যাচ্ছে। গণতন্ত্রকেই ভ্যানিশ করে দিচ্ছে। মানুষের অধিকার ভ্যানিশ করে দিচ্ছে। এদের দেখে আমার ঘৃণা হয়। লজ্জা হয়।’
মঙ্গলবার উত্তরবঙ্গ থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন মমতা। বৃহস্পতিবার দুবরাজপুরে সভা করে বিশেষ কাজে কলকাতায় ফেরেন তিনি। কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণের সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পরে তাঁর বিমান। এসবের তোয়াক্কা না করেই ফের শনিবার জেলা সফরের সূত্রে এদিনই দুর্গাপুর উড়ে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে বলেছেন, বৃহস্পতিবার পাইলটের দক্ষতায় তাঁরা প্রাণে বেঁচেছেন। তবে ‘বিচারাধীন’ ভোটারদের তালিকার প্রসঙ্গ উঠতেই কমিশনের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তিনি। সুর সপ্তমে তুলে বলেন, ‘বুকের পাটা থাকলে তালিকা প্রকাশ করুক। মানুষকে জানতে দিক, কার নাম আছে আর কার নাম নেই। যাদের নাম নেই তাদের জেলায় জেলায় ট্রাইবুনালে গিয়ে নাম তোলার ব্যবস্থা করে দিন। আমরা বিনা পয়সায় আইনজীবী দিয়ে সাহায্য করব।’
এদিন তালিকা প্রকাশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে মমতা। কমিশনের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ থাকলেও তালিকা ঠিকভাবে প্রকাশ হচ্ছে না কেন? কার স্বার্থে?’ এছাড়া বিচারাধীন ভোটার তালিকা যাচাই নিয়ে তাঁর কাছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য রয়েছে বলেও জানিয়েছেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘বেছে বেছে কিছু সম্প্রদায়ের লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। একটি পরিবারের পাঁচজনের মধ্যে চারজনের নাম বাদ দিয়েছে। সুতির একটি বুথে ৫০০ জনের মধ্যে ৪০০ নাম বাদ পড়েছে। বসিরহাটে একটা বুথে ৬০০ জনের মধ্যে ৪০০ জন বাদ গিয়েছেন। এই হয়রানি কেন?’ তৃণমূল সুপ্রিমোর হুংকার, বিজেপি-কমিশনের এই ‘জমিদারি’র বিরুদ্ধে মানুষই জবাব দেবে। তাঁর তোপ, ‘মনে রাখবেন ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। আজ রামনবমীর দিন বলে গেলাম।’