• বাঘাযতীন খুন কাণ্ড: অভিযুক্ত শার্প শ্যুটারের বিরুদ্ধে ৪০টির বেশি মামলা বিভিন্ন থানায়
    বর্তমান | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুরের পূর্ব ফুলবাগানে গুলি চালানোয় মূল অভিযুক্ত সুকুমার রজক ওরফে দাসের বিরুদ্ধে খুন, অপহরণ, গুলি চালানো সহ ৪০টির বেশি মামলা রয়েছে। শার্প শ্যুটার হিসাবে পরিচিত সুকুমার। দক্ষিণ শহরতলীর এক কুখ্যাত ডনের হাত ধরে তার অপরাধ জগতে হাতেখড়ি। গুলিকাণ্ডে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চাঞ্চল্যকর এই তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো 

    হলেও সুকুমারের খোঁজ মেলেনি। এদিকে এই ঘটনায় আকাশ মণ্ডল ওরফে মুখিয়া নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    বুধবার গভীর রাতে পাটুলি থানার বাঘাযতীন সংলগ্ন পূর্ব ফুলবাগান এলাকায় একটি আবাসনের ছাদে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় রাহুল দে নামে এক যুবকের। জিৎ মুখোপাধ্যায় নামে এক যুবক শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাত নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। জিতের ফ্ল্যাটের ছাদে মদ্যপানের আসর চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। ঘটনায় ধৃত চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, দলের মাথা হল জয়ন্ত ঘোষ। তাদের সঙ্গে রয়েছে শার্প শ্যুটার সুকুমার। তদন্তে জানা গিয়েছে, ৯০ দশকের শেষে সে দক্ষিণ শহরতলীর এক ডনের দলে নাম লেখায়। তার কাছে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ নেয়। ডনের দলে মূল শ্যুটার হয়ে ওঠে। টালিগঞ্জ লেক, রিজেন্ট পার্ক, সোনারপুর, নরেন্দ্রপুর, বারুইপুর থানা এলাকায় একাধিক খুনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ডনের সঙ্গে কলকাতা ও শহরতলী লাগোয়া এলাকায় অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করত। খুন, অপহরণ তোলাবাজি নিয়ে ৪০টি ঘটনায় অভিযুক্ত সে। খুনের ঘটনায় সে ও তার ‘গুরু’ ধরা পড়ে প্রেসেডিন্সি সংশোধনাগারে বন্দি ছিল। মাদক মামলায় অভিযুক্ত মায়ানমারের ড্রাগ কিং পিন বৈখাকিমাকে ২০০৩ সালের সেপ্টম্বর মাসে দক্ষিণ শহরতলীর ওই ডন ও সুকুমার 

    মিলে জেল পালাতে সাহায্য করে। এই দুজনই জেল থেকে পালালেও পরে ধরা পড়ে যায়। কিন্তু সাক্ষীর অভাবে কোনো মামলায় সাজা না হওয়ায় জামিনে বাইরে রয়েছে।

    তদন্তকারীরা জেনেছেন, বারুইপুর, নরেন্দ্রপুর, পূর্ব যাদবপুর, রিজেন্ট পার্ক এলাকার দুষ্কৃতী দলের সঙ্গে তার ওঠাবসা রয়েছে। কোনো দুষ্কৃতীদের দল অপারেশনে গেলে তাকে শার্প শ্যুটার হিসাবে ভাড়া নিয়ে যায়। অভিযোগ, সুপারি নিয়ে সে বহু লোককে খুন করেছে। ধৃতেরা জেরায় পুলিশকে জানিয়েছে, তাদের সঙ্গে সুকুমার এসেছিল। জয়ন্ত তাকে দায়িত্ব দিয়েছিল জিৎকে খুন করার। তাহলে রাহুলকে কেন সে গুলি করল, তা স্পষ্ট হচ্ছে না অফিসারদের কাছে। জয়ন্তের পরিকল্পনা মতো সে ওই যুবককে গুলি করে, নাকি মিস টার্গেট গুলি রাহুলের লেগেছিল, উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা।   
  • Link to this news (বর্তমান)