• ভোটে বামেদের এজেন্ডা কী? একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন মীনাক্ষী, মুখ খুললেন প্রতীক উর নিয়েও
    প্রতিদিন | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • নেত্রী। ভোট ঘোষণার আগেই ‘পাড়ায় পাড়ায়’ মীনাক্ষী। বিধানসভা দখলের লড়াইয়ে সিপিএমের হয়ে প্রচার শুরু তাঁর। কিন্তু প্রতীক উর থেকে শুরু করে এসআইআর, কী ভাবছেন তিনি? সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালের মুখোমুখি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়।

    প্রশ্ন: জেলায় জেলায় আপনি ঘুরছেন, এসআইআর নিয়ে তো আলোচনা চলছে। পাড়ায় পাড়ায় বৈঠক করছেন। এই এসআইআর নিয়ে আপনাদের দাবিগুলো ঠিক কী?

    মীনাক্ষী: বৈধ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া যাবে না, এই একটাই দাবি।

    প্রশ্ন: বিধানসভা নির্বাচন, ঠিক তার আগে সিপিআইএম বা বামফ্রন্ট, বামপন্থীদের হয়ে মূলত কী কী বিষয় নিয়ে যাচ্ছেন এবং এগোচ্ছেন?

    মীনাক্ষী: মানুষের যা দাবি, কাজ পাচ্ছে না। জিনিসপত্রের দাম বেশি, জাল ওষুধ, ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। ঘর পাচ্ছে না। নর্দমা পরিষ্কার হচ্ছে না, নতুন কোনও কারখানা নেই। যা মানুষের দাবি, মানুষের দাবিতেই সিপিআইএম লড়াই করছে।

    প্রশ্ন: আপনি যখন প্রচার করছেন, ঠিক সেরকম মুহূর্তে আপনার সতীর্থ তৃণমূলের নেতা হলেন এবং তিনি দাবি করছেন যে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের দলকে দেখেই সিপিআইএম বা বাকিরা শিখছে! খোঁচা দিচ্ছেন। প্রতীক উরের কথা বলছি!

    মীনাক্ষী: দেখুন কেউ কিছু কথা বলে দিতেই পারে। কিন্তু আপনারা এই কথা তুলে এত ক্যাম্পেন কেন করছেন, সিপিআইএম কমিউনিস্ট বামপন্থীদের লড়াইয়ের ঘরানা যাঁরা সাংবাদিকতা করেন তাঁদের তো জানা দরকার। না জেনে, হোমওয়ার্ক না করে রাস্তায় নেমে আমরা যদি যেকোনও কথাকে, নন ইস্যুকে ইস্যু করে দিই তাহলে মানুষের রুটি-রুজির কথা আসবে না।

    প্রশ্ন: আপনি বলছেন নন ইস্যুকে ইস্যু করে দেওয়া। কিন্তু কোথাও গিয়ে প্রতীক উর রহমান এবং আপনারা একসঙ্গে মার খেয়েছেন, একসঙ্গে ব্যারিকেড ভেঙেছেন, লড়াই করেছেন। সতীর্থের অন্য দলে যাওয়া এবং বারবার করে আক্রমণ করা, কীভাবে দেখছেন?

    মীনাক্ষী: যখন একসঙ্গে লড়েছি তখন একসঙ্গে ছিলাম। এখন প্রতীক উর ওই দিকে আছে, ওই দিক থেকে যা আক্রমণ করবে বুঝে নিতে হবে আদর্শের জায়গা থেকে বলছে, এটাই তৃণমূলের আদর্শ। ফালতু কথা বেশি বলতে হবে!

    প্রশ্ন: প্রতীক উর রহমানই বলছেন যে আপনারা ওঁদের তৃণমূল কংগ্রেসের পথের…

    মীনাক্ষী: লড়াইটা তৃণমূল বিজেপির বিরুদ্ধে। যারা ১০০ দিনের টাকা লুট করেছে। যারা দুর্নীতি করেছে, যারা এই পশ্চিমবঙ্গকে প্রতিটা দিন নিজেদের যা শক্তি সেই শক্তি থেকে দূরে করেছে এবং এই পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিকে টেনে নিয়ে এসেছে। যতদিন লাল ঝান্ডা ছিল, বিজেপি এখানে দাঁত ফোটানোর সময় সুযোগ ছিল না। তৃণমূলের সবথেকে বড় দোষ হল বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা। সাধারণ মানুষের লড়াইটা তার থেকে আরও অনেক বড়। আপনাদের কাছে আবেদন, একটাবার গ্রামে যান, বস্তিতে যান, ১০০টা বাড়িতে স্যাম্পল সার্ভে করুন, কী বলছে দেখুন! তখন বুঝে যাবেন আমরা এড়াচ্ছি নাকি যার কথা বললেন, তৃণমূল, বিজেপি বলছেন, তারা এড়িয়ে যাচ্ছে! আসলে মানুষের কথা কারা এড়িয়ে যাচ্ছে বুঝবেন।

    প্রশ্ন: রাজ্যসভায় তৃণমূলের চারজন প্রার্থী জিতে গেলেন। রাজ্যসভায় আপনাদের একজনও নেই, তৃণমূল দাবি করেছে আপনারা বিভিন্ন জায়গা থেকে শূন্য হয়ে গেলেন!

    মীনাক্ষী: একজন গোটা আর জি করে তথ্যপ্রমাণ লোপাট করেছেন, তার আগে নারদার লাল ডায়রি পেনড্রাইভের কথা আমরা এখনও ভুলিনি। আরেক জন যিনি সরকার পক্ষের হয়ে অভয়াকাণ্ডের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, যাঁদের রাজ্যসভার এমপির জন্য নমিনেটেড করছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁদের সম্পর্কে কী বলছে, আগে এটা দেখুন আর আসনের বিচার ভোটের বিচার শেষ কথা বলবে না, যদি শেষ কথা বলতো তাহলে ২৬ হাজার চাকরি কেন বাতিল হল! ১০০ দিনের কাজ কেন বন্ধ! অভয়ার ঘটনা কেন বিচার পেত না! যদি ভোটে জিতলেই সবটা হয়ে যায়, ভোটে জিতলে চোর সাধু হয়ে যায় না, ভোটে জিতলে দাঙ্গাবাজ সাধু হয়ে যায় না!
  • Link to this news (প্রতিদিন)