• অভয়ার বিচার নাকি অভয়ার মায়ের হার? কাটবে শূন্যের গেরো? একান্ত সাক্ষাৎকারে কলতান
    প্রতিদিন | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের অন্যতম ‘হেভিওয়েট’ কেন্দ্র পানিহাটি। নেপথ্যে, দেড় বছর আগের আর জি কর কাণ্ড। যে-অভয়াকে কেন্দ্র করে সেই ন্যক্কারজনক আর জি কর কাণ্ড, তাঁর বাড়ি এই বিধানসভা কেন্দ্রেই। তাঁর ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন কলতান দাশগুপ্তও। পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের বামফ্রন্ট সমর্থিত সিপিআইএম প্রার্থী। অন্যদিকে, এই কেন্দ্রেই বিজেপির প্রতীকে লড়ছেন রত্না দেবনাথ, অভয়ার মা। চ্যালেঞ্জ থেকে প্রচার স্ট্র্যাটেজি নিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকারে কলতান দাশগুপ্ত।

    প্রশ্ন: যাঁর মেয়ের বিচারের দাবিতে রাস্তায় নামলেন, পথ দখল করলেন, এমনকী জেল খাটতে হল, আজ তার বিরুদ্ধেই সম্মুখ সমর — কতখানি চ্যালেঞ্জিং?

    উত্তর: আমরা যখন গাড়ি আটকেছিলাম, তখন জানতাম না কে তৃণমূল কে বিজেপি। যখন রাতদখল হয়েছিল, জনতার চার্জশিট হয়েছিল, তখনও জানতাম না। আগামিকাল যদি আবারও এমন কোনও ঘটনা দেখি, খবর পাই, তাহলে আবার গিয়ে গাড়ি আটকাব। এই চ্যালেঞ্জ বামপন্থীরা সবসময় গ্রহণ করেছে, যেমনই পরিস্থিতি থাক, সমস্ত শক্তি দিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়ে যেতে হবে।

    প্রশ্ন: আপনার প্রচারে নারী নিরাপত্তার বিষয়টি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। পার্টি অফিসের নিচে টাঙানো ফেক্সে অনুযায়ী, ‘অভয়ার ন্যায়বিচার ধামাচাপা দিতে তৃণমূল-বিজেপির সেটিং রাজনীতির প্রতিবাদে’ আপনাকে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অভয়ার মায়ের বিরুদ্ধে প্রচার করা কতটা কঠিন?

    উত্তর: আমরা তো কারও বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে প্রচার করছি না! বিজেপির রাজনীতির বিরুদ্ধে প্রচার করছি। কাকিমা (অভয়ার মা) যে পঞ্চাশটি প্রশ্ন করেছিলেন সিবিআইকে, সে-প্রশ্নের দ্রুত উত্তর আমরা এখনও চাই। সিবিআই-এর হলফনামা বদলে গিয়েছে। কেন? ওইদিন সকালবেলা সমস্ত এদিক-ওদিকের ডাক্তারবাবুরা চলে এলেন, প্রমাণ লোপাট হল। হাসপাতাল ভাঙচুরের মত ঘটনা পশ্চিম বাংলায় ঘটে গেল। সমস্ত ষড়যন্ত্রের উত্তর চাইতেই রাস্তায় নেমেছি। শুধু আর জি কর নয়। হাথরস-উন্নাও-পার্কস্ট্রিট-কামদুনি-সাউথ ক্যালকাটা ল কলেজে যা হয়েছিল, বা ভারতকে গর্বিত করা মেডেলজয়ী অ্যাথলিটদের সঙ্গে যা হয়েছিল, সমস্ত ঘটনার প্রতিবাদেই আমরা লড়াই।

    প্রশ্ন: প্রতিদ্বন্দ্বীকে এখনও ‘কাকিমা’ সম্বোধন করলেন। প্রচারের সময় বা অন্য কোথাও বিজেপি প্রার্থীর মুখোমুখি হলেও কি তিনি ‘কাকিমা’ই থাকবেন?

    উত্তর: কাকিমা বরাবরই কাকিমা, বিজেপির সিম্বল বরাবরই বিজেপির সিম্বল। বিজেপির রাজনীতি সারা জীবনের বিরোধীতা।

    প্রশ্ন: সম্প্রতি আপনি তাঁর বাড়ি গিয়েছিলেন, দেখা করেন, তখনও কি ন্যূনতম ইঙ্গিত পাননি?

    উত্তর: আর জি কর কাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে কাকু-কাকিমার সঙ্গে আলাপ। মীনাক্ষী হোক বা আমি, বা অন্য যাঁরা গিয়েছিলেন, কখনওই কাকু-কাকিমার সঙ্গে কী কথা হয়েছে, তা বাইরে বলিনি। আমাদের রাজনীতি তাই শিখিয়েছে। এদিনও কী কথা হয়েছে, তা নিয়ে কিছু বলতে চাই না তাই।

    প্রশ্ন: অভয়ার পরিবারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে যে, তাঁদের মেয়েকে নিয়ে আপনারা রাজনীতি করেছেন। বলা হয়েছে, অভয়ার বিচার থমকে আপনাদের জন্য। আপনি যে সিপিআই(এম)-এর পানিহাটির প্রার্থী, তা তাঁরা জানতেন আপনি যখন গিয়েছিলেন। এই সৌজন্য সাক্ষাতের সময় কখনওই কি আঁচ পাননি?

    উত্তর: বামপন্থীরা বিচার আটকে রেখেছে, এই ধরনের কথা আমরা কোনওদিন শুনিনি। বামপন্থীরা চিরকাল বিচারের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে। অভয়ার জন্য যে আন্দোলন, তাতে নেমে আপনিও নিশ্চয়ই এমন বহু মুখ দেখেছেন, যারা বামপন্থী রাজনীতি করেন না বা বামবিরোধী রাজনীতি করেন। কেউ নিজস্ব রাজনৈতিক মতাদর্শ গোপন রাখেন, কেউ আবার নিজেকে ‘অরাজনৈতিক’ দাবি করেন। ফলে তাঁদের একত্রিত হওয়ার পিছনে একটিই উদ্দেশ্য কাজ করেছে। অভয়ার বিচার। পাঁচ হাজার মানুষকে এক জায়গায় জড়ো করতে পারব ভেবে লড়াই শুরু করিনি। তবে এ’কথা জানতাম যে বিচার না-পাওয়া পর্যন্ত লড়াই শেষ করা যাবে না।

    প্রশ্ন: কিন্তু আপনাদের বিরুদ্ধে বিচার ব্যবস্থাকে ‘ব্যারিকেডিং’ করা, বিচার আটকে রাখার অভিযোগ প্রথম নয়। বলা হয় যে, রাজ্য সরকার শিক্ষক নিয়োগ করতে চাইলে আপনারাই আদালতে যান।

    উত্তর: বামপন্থীরা তো এই রাজ্যে সরকারে নেই! সরকার ওএমআর শিট-এ জালিয়াতি করছে, ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল সার্কুলার বের করছে যার বিরুদ্ধে চাকরিপ্রার্থীরাই মামলা করছেন। বিচারক মেরিট-ডিমেরিট দেখেই রায় দেন। নিশ্চিতভাবে ওখানে ত্রুটি-ষড়যন্ত্র-দুর্নীতি হয়েছে বলেই বিচারক এমন রায় দিচ্ছেন। যে-দুর্নীতি কোর্ট অবধি স্বীকার করে নিয়েছে, সেই দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে সরকার কখনও কখনও ভুল কথা রটিয়েছে। যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা কেন চাকরি পেল না, সেই প্রশ্নের উত্তর তো বামপন্থীরা দেবে না! তারা তো তাদের লড়াইতে পাশে ছিল। তাদের হয়ে আমাদের নেতৃত্ব জেল খেটেছেন, রাস্তায় মার খেয়েছেন। তৃণমূল সরকার সবসময় বিরোধিতাকে ভয় পায়।

    প্রশ্ন: আর জি কর কাণ্ড যেন এবারের বিধানসভা নির্বাচন তথা বঙ্গীয় রাজনীতিতে অদ্ভুতভাবে জড়িয়ে গিয়েছে। আপনি, মীনাক্ষী- যাঁরা এই আন্দোলনের মুখ ছিলেন, আপনারা প্রথম থেকেই বাম কর্মী। আচমকাই বিজেপি প্রার্থী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন অভয়ার মা। অন্যদিকে এ মামলার সঙ্গে জড়িত আইনজীবী মেনেকা গুরুস্বামী বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ। কীভাবে দেখছেন গোটা বিষয়টাকে?

    উত্তর: যে-কেউ নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেন, যেকোনও রাজনৈতিক দলের সাংসদ হতে পারেন। প্রসঙ্গত বলি, আমার এক সুইডেনবাসী বন্ধু, যাঁর সঙ্গে আমার এই আন্দোলন চলাকালীন আলাপ, তাঁর হোয়াটসঅ্যাপের প্রোফাইল পিকচার আজও বলছে ‘তিলোত্তমার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই’। হাজারও, লাখো মানুষ ওই আন্দোলনকালে জুড়ে গিয়েছিলেন আমাদের সঙ্গে। আমি এমন দম্পতির উদাহরণ দিতে পারি, যাদের অভয়া আন্দোলনে গিয়ে প্রথম দেখা। এ তো কেবল প্রেম-ভালোবাসার ব্যাপার নয়। যে-আবেগ নিয়ে মানুষ শাসকের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল, সেই লড়াই আজও জারি রয়েছে।

    প্রশ্ন: আপনাকে সম্প্রতি এক মন্দিরে নমস্কার করতে দেখা গিয়েছে। দীপ্সিতাকে মন্দিরে হাতজোড় করতে দেখা গিয়েছে। মীনাক্ষী ইদ মিলন উৎসবে অংশ নিয়েছেন, আবার যজ্ঞে আহুতি দিয়েছেন। আপনার পার্টি অফিসে ধূপধুনো দেখানো হচ্ছে। তবে কি বামপন্থীরা নীতিগত অবস্থানে বদল আনল? মন্দির-মসজিদ-ধর্ম প্রসঙ্গে কমনীয়তা এল খানিক? মনে রাখতে হবে এই পার্টি অফিসেই যাঁদের ছবি রয়েছে, তাঁদের মধ্যে অন্যতম সুভাষ চক্রবর্তী। তাঁকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া বিতর্ক কিন্তু আমরা কেউ ভুলিনি।

    উত্তর: পার্টি অফিসের ভেতরে যে ধূপ দেখেছেন, ওটা মশার! পানিহাটিতে জঞ্জাল জমে, নোংরা জল জমে এমন অবস্থা যে চারপাশে মশা উড়ছে! দ্বিতীয়ত, প্রচারের সময় এক বাড়িতে যাবো, অন্যটায় যাবো না, তা করা চলে না। সম্ভবত চৈতন্যদেবের স্মৃতি-বিজড়িত এক জায়গায় গিয়েছিলাম। পুজো চলছিল সে সময়। সেখানে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় হয়। ওঁদেরই কেউ মালা পরিয়ে দেন। ‘করবেন না, এগুলো আমাদের সংস্কৃতি নয়’— এমনটা তো বলা চলে না সে অবস্থায়। ভিন্ন মতের আদানপ্রদানই আমাদের সংস্কৃতি। এর সঙ্গে ধর্মান্ধতা-ধর্মচর্চার সম্পর্ক নেই। এমন বহু মানুষ আছেন যাঁরা ধর্ম মানেন, আবার বামপন্থীদের ভোট দেন। এমনও মানুষ বহু আছেন যাঁরা ধর্ম মানেন না, আবার বামপন্থীদের ভোটও দেন না। যে চৌত্রিশ বছর বামপন্থীরা সরকারে ছিল, নতুন করে তেত্রিশ হাজার প্রাইমারি স্কুল হয়েছে। কটা নতুন মন্দির-মসজিদ-গির্জা হয়েছে, আপনি-আমি বলতে পারব না। আজ এসব দিয়ে সরকারের ভালোমন্দের বিচার হচ্ছে। কিন্তু আসল ন্যারেটিভ তো এটাই হওয়া উচিত যে, স্কুল-কলেজ হল কি-না, রাস্তাঘাট সারাই হল কি-না।

    প্রশ্ন: বামফ্রন্ট মোট সাতবার সরকার গঠন করেছে। অথচ এখন কালের নিয়মে শূন্য। গত কয়েক বছরে সামাজিক মাধ্যম হোক বা ফিল্ডে, এই শূন্যের কটাক্ষ সইতে হয়েছে আপনাদের। চলতি নির্বাচন প্রচারেও তাঁর ব্যত্যয় হয়নি। কেমনভাবে মোকাবিলা করছেন এই কটাক্ষ?

    উত্তর: বামপন্থীরা বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না। বিধানসভায় তাদের উপস্থিতি নেই, এ যেমন বাস্তব, তেমনই এ কথাও বাস্তব যে বামপন্থী নেতাদের গায়ে কোনও কাদার দাগ নেই! সুভাষ চক্রবর্তীকে কোনওদিন দুর্নীতির জন্যে জেল খাটতে হয়নি। কিন্তু বর্তমান পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমন একাধিক মন্ত্রী রয়েছেন, যারা টিকিট পেয়েছেন এবং পাননি, তাদের দুর্নীতির অভিযোগে জেল খাটতে হয়েছে। বামপন্থীরা কখনও দুর্নীতির সঙ্গে আপোষ করবে না। বিধানসভা নির্বাচনে আমরা এই টার্গেটেই লড়ছি যে, বিধানসভায় বামপন্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে হবে। কেবল নামের আগে বিধায়কের ট্যাগ, চারপাশে মানুষের ভিড় আমাদের লক্ষ্য নয়। আজ বামপন্থীরা বিধানসভায় নেই বলে বাজেট অধিবেশনে আলোচনা হচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী বেশি ধার্মিক না বিরোধী দলনেতা। অথচ আলোচনা হওয়া উচিৎ ছিল, জিনিসপত্রের দাম এত বাড়ছে কেন? পরিযায়ী শ্রমিকের যন্ত্রণা মেটাতে কী করা যেতে পারে? পানিহাটির কটন মিলগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একে একে; সেই জমিতে কী করা হবে?

    প্রশ্ন: বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বারবার বলছেন, শূন্যর গেরো এবার কাটবেই। দল আর মহাশূন্যে থাকবে না। আপনি প্রচারে মানুষের কাছাকাছি যাচ্ছেন, কেমন রেসপন্স পাচ্ছেন?

    উত্তর: মানুষ এখানকার পুর-পরিসেবা নিয়ে বিরক্ত। এই পার্টি অফিসের আশেপাশেও জমা জঞ্জাল, জমা জল, মশা। পানিহাটিতে চব্বিশ ঘণ্টা পরিশ্রুত পানীয় জল আসে না। এতদিন হয়ে গেল এই সরকারের। একের পর এক স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যেগুলো খোলা আছে, সেগুলোতে ড্রপআউটের সংখ্যা ভীতিপ্রদ। কোথায় যাচ্ছে তারা? ড্রপআউট ছাত্রদের ডেটা সরকারের কাছে থাকছে না। কাছেই বিরাট অমরাবতীর মাঠ, সেই মাঠের জমি বিক্রি করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছিল। বামপন্থীরা লড়াই করে তা রুখেছে। অভয়ার দেহ টেনে-হিঁচড়ে শ্মশানে নিয়ে গিয়ে, সৎকার করিয়ে দেওয়া হয়। বাবা-মা শেষবার মেয়েকে পেলেন না। আজ যদি আমার-আপনার মেয়ের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটত, আমরা বিক্ষুব্ধ হতাম না? এই বিক্ষুব্ধ মানুষের কাছে গিয়েই বলেছি যে, ‘যারা এর বিচার করতে পারছে না, এই নির্বাচনে আপনি তাদের বিচার করুন’।
    তৃণমূল নেতাদের বলব, ২০২১ সালে ওদের যে ইস্তেহারটা বেরিয়েছিল, সেটা হাতে করে যেন প্রচারে যান। গতবার যে ক’টা গ্যারান্টির কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো ‘ভোকাট্টা’ হয়ে গিয়েছে। এবার নতুন গ্যারান্টি এসেছে। এ-ও যে আসলে মোদিজীর মত ফেক গ্যারান্টি, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না।

    প্রশ্ন: ৪ মে আপনার দলকে কোন জায়গায় দেখছেন? কতগুলি আসন জিততে পারেন বলে ধারণা?

    উত্তর: আমি জ্যোতিষী নই। সংখ্যার হিসেব দিতে পারব না। এটুকু বলতে পারি, বামপন্থীদের শক্তি বৃদ্ধি হলেই পানিহাটি বাঁচবে। বাংলা বাঁচবে। বামপন্থীরা যে এজেন্ডায় রাজনীতি করছে, সেটাই আসলে বাংলা বাঁচানোর রাজনীতি।

    প্রশ্ন: আপনাদের দলের বিরুদ্ধে ‘পক্ককেশে’র যে-তকমা লেগে থাকত, সাম্প্রতিক অতীতে তা ভেঙে গিয়েছে। একঝাঁক তরুণ মুখ পথে নেমে আন্দোলন করছে। আবার উলটোদিকে প্রাক্তন নেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়, কিংবা কয়েকদিন আগে পর্যন্ত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আন্দোলন করা কমরেড প্রতীক উর রহমান দল ছেড়েছেন। তাহলে কি এই তারুণ্যকে বেছে নেওয়া ভুল? বৃদ্ধতন্ত্রই ঠিক ছিল?

    উত্তর: তৃণমূল দলটির সূচনালগ্ন থেকে এখনও পর্যন্ত, ওদের সর্বভারতীয় সভাপতি এবং রাজ্য সভাপতি বদলায়নি। একই মানুষ রয়ে গিয়েছেন। ফলে তারুণ্য, গণতন্ত্রের কথা ওদের মুখে মানায় না। আবার বিজেপি বলতেই যে দুটো মুখ মনে পড়ে, নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ— তাঁদের চুলের রং কী, তা নিয়ে খুব একটা আলোচনার জায়গা নেই। বরং বামপন্থীরাই বারবার নতুন প্রজন্মের কমরেড তৈরি করে গিয়েছে। তার মধ্যে দু’-একজন গরু-ছাগল হাটে বিক্রি হতে পারে! তবে মনে রাখবেন, ওরা কিন্তু আর কোনওদিন এসে আমাদের পাশে এক মঞ্চে বসতে পারবে না। এই গ্যারান্টি বামপন্থীরাই দিতে পারে। তৃণমূল বা বিজেপি পারবে না। আজকে যাকে বন্ধু বলছে কালকে ‘শুভেন্দু’ বলে গাল দিতে হবে। পরশুদিন তাকেই আবার মালা পরিয়ে ঘরে তুলতে হবে। বামপন্থী রাজনীতিতে এই গ্লানির কোনও জায়গা নেই।

    প্রশ্ন: আপনি দক্ষিণ কলকাতার মানুষ। জন্ম, পড়াশোনা, রাজনীতি — পুরোটাই দক্ষিণ কলকাতায়। সেখান থেকে এত দূরে এখানকার স্থানীয় সমস্যা কেমনভাবে অনুভব করছেন? কী কী ইস্যু নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়দের কাছে?

    উত্তর: ’২১ সালে মুখ্যমন্ত্রী যখন নন্দীগ্রামে প্রার্থী হয়েছিলেন তাঁকে কেউ ‘বহিরাগত’ বলেছিল কি-না আমার জানা নেই।

    প্রশ্ন: আপনাকে বলছি নাকি?

    উত্তর: না, আপনি বললেন ‘এতদূর…’, তাই ভবানীপুর থেকে নন্দীগ্রামের দূরত্বটা হিসেব করলাম। বিরোধী দলনেতা এবার নন্দীগ্রাম থেকে ভবানীপুরে এসে প্রার্থী হয়েছেন। একই দূরত্ব। তাঁদের এই ধরনের কোনও প্রশ্ন করা হয় কি-না, আমাদের জানা নেই। পানিহাটির প্রসঙ্গে বলি, আমায় কিছু নতুন করে বলতে হচ্ছে না। মানুষই বলছেন তাঁদের কী কী সমস্যা আছে, আমাদের কী কী কাজ করতে হবে। আমরা মনোযোগ দিয়ে তা শুনছি। মনে রাখবেন, একমাত্র বামপন্থীরাই ‘কিউআর কোড’ সামনে রেখে মানুষকে বলেছিল, তাঁদের এলাকায় কী কী সমস্যা রয়েছে, তা জানাতে। এখানের মানুষ জঞ্জালের কথা লিখেছেন। পরিশ্রুত পানীয় জল নেই, সে কথা লিখেছেন। স্কুল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, স্কুলে মিডডে মিল দেওয়ার ব্যবস্থা থাকছে না। মিউনিসিপালিটি এলাকায় কাঁচা রাস্তা। অল্পবয়সি ছেলেমেয়েরা কাজের জন্য বাইরে চলে যাচ্ছে, এলাকার বহুতলগুলোতে শুধু বয়স্ক বাবা-মা রয়ে যাচ্ছেন। কেন বাইরে চলে যাওয়া সেই যুবাদের ফিরিয়ে এনে কাজের ব্যবস্থা করা হবে না? বেঙ্গল কেমিক্যালে নতুন নিয়োগ কেন হবে না? কেন কটন মিল বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে সেখানে নতুন নিয়োগ হবে না? এসবই মানুষ কিউআর কোডের মাধ্যমে জানতে চেয়েছেন।

    প্রশ্ন: এর বাইরে এমন কিছু আছে যা, আপনি জিতে এলে পানিহাটির জন্য করতে চান?

    উত্তর: মানুষ যা বলেন, আমরা তার বাইরে কিছু বলি না। মানুষ যেভাবে বিকল্প পানিহাটিকে দেখতে চাইছেন, আমাদের বিকল্পের পানিহাটির ইস্তেহার সেরকমই হবে।

    প্রশ্ন: তৃণমূল কংগ্রেস কিন্তু ইতিমধ্যেই তাদের ইস্তেহার প্রকাশ করেছে। সেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান— নানা কথা বলা হয়েছে। মমতা বন্দোপাধ্যায় ১০টি প্রতিজ্ঞার কথা বলেছেন, যা তিনি জিতে এসে রাজ্যবাসীকে দিতে চান।

    উত্তর: তৃণমূল নেতাদের বলব, ২০২১ সালে ওদের যে ইস্তেহারটা বেরিয়েছিল, সেটা হাতে করে যেন প্রচারে যান। গতবার যে ক’টা গ্যারান্টির কথা বলা হয়েছিল, সেগুলো ‘ভোকাট্টা’ হয়ে গিয়েছে। এবার নতুন গ্যারান্টি এসেছে। এ-ও যে আসলে মোদিজীর মত ফেক গ্যারান্টি, তা বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা না।

    প্রশ্ন: এবার র‍্যাপিড ফায়ার। অভয়ার বিচার, না তাঁর মাকে ভোটযুদ্ধে হারানো? কোনটা জরুরি?

    উত্তর: অভয়ার বিচার।

    প্রশ্ন: সেক্ষেত্রে যদি অভয়ার মায়ের কাছে হারতে হয়?

    উত্তর: এটা তো র‍্যাপিড ফায়ার হল না! আমরা এই ষড়যন্ত্রের কাছে হার স্বীকার করতে রাজি নই। আমরা এই ষড়যন্ত্রকে হারাতে চাই।

    প্রশ্ন: এসএফআই না ডিওয়াইএফআই?

    উত্তর: এসএফআই। আবেগ সবসময় এসএফআই-এর বেশি।

    প্রশ্ন: শূন্যের গেরো কাটবে?

    উত্তর: অবশ্যই।

    প্রশ্ন: ৪ মে কারা সরকার তৈরি করছে?

    উত্তর: সে তো আবার ভবিষ্যদ্বাণীই হল! এটুকু বলতে পারি, সংবাদমাধ্যম যেমন দেখানোর চেষ্টা করছে, ৪ মে অনেক জায়গায় সেই হিসেব উল্টে যাবে!
  • Link to this news (প্রতিদিন)