• মেয়েদের চোখের জলে অমলিন অভয়ার স্মৃতি, পানিহাটিতে নির্যাতিতার মায়ের প্রচারে উঠল ভিন্ন স্বরও
    এই সময় | ২৮ মার্চ ২০২৬


  • অশীন বিশ্বাস, পানিহাটি

    পানিহাটি থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়ে শুক্রবার থেকে পুরোদমে প্রচার শুরু করলেন আরজি করের নিহত তরুণীর মা। গেরুয়া উত্তরীয় গলায় ঝুলিয়ে রাজনীতির ময়দানে নেমে প্রথম দিনেই বর্তমান বিধায়ক নির্মল ঘোষ এবং এ বারের তৃণমূল প্রার্থী পানিহাটির ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার তীর্থঙ্কর ঘোষের পাড়ায় ঘুরলেন তিনি। উন্নয়ন, অনুন্নয়নের প্রশ্নের থেকে মেয়ের বিচারকেই ভোট প্রচারে হাতিয়ার করেন বাবা–মা। অনেক জায়গাতেই মহিলারা বাড়ি থেকে বেরিয়ে এসে অভয়ার মাকে জড়িয়ে ধরেন, কেউ কেউ তাঁকে দেখে কেঁদে ফেলেন। কোথাও আবার শঙ্খ এবং উলুধ্বনির মাধ্যমে তাঁকে স্বাগত জানাতে বেরিয়ে আসেন মহিলারা।

    তা হলে কি ঘরের মেয়ের ন্যায়বিচারই এ বার ভোটে পানিহাটিতে প্রধান ইস্যু? নির্যাতিতার মা বলেন, ‘আমার মেয়ের জন্য মানুষ অনেক আন্দোলন করেছেন। পানিহাটির মামুষ সঙ্গে থাকলে বিচার আমি পাবই।’ একধাপ এগিয়ে বাবা বলেন, ‘আমার মেয়ের দেহ সে দিন যে ভাবে বর্তমান বিধায়ক নির্মল ঘোষের নেতৃত্বে দ্রুত দাহ করা হয়েছিল, তার বিরুদ্ধে বিধায়কের ওয়ার্ড থেকেই তৃণমূলকে শূন্য করার আহ্বান নিয়ে মানুষের কাছে হাজির হয়েছি। প্রথম দিনেই বিপুল সমর্থন পেয়েছি।’

    যা নিয়ে তৃণমূল এবং সিপিএমের কটাক্ষ, বিজেপিতে গিয়েছেন বলেই কি বিচার মিলবে? তবে সে সবে নির্যাতিতার বাবা-মা কিংবা বিজেপি কর্মীরা কান দিতে নারাজ। এ দিন সোদপুর রাজা রোডের মুখ থেকে শুরু করে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রজাতন্ত্রপল্লি, ২, ৩ নম্বর দেশবন্ধুনগরে প্রচার সারেন নির্যাতিতার মা। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে তৃণমূল প্রার্থীর ওয়ার্ডেই ঘরের মহিলারা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে নির্যাতিতার মায়ের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। নির্যাতিতার মা কে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন ঝর্ণা দে নামে এক মহিলা। ‘আপনার মনের কষ্ট বুঝতে পারছি।’ ৩ নম্বর দেশবন্ধু নগরে নাতিকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন এক প্রৌঢ়া। তিনি বলেন, ‘যে দিন আমাদের ডাক্তার ম্যাডামকে ধর্ষণ করে খুন করা হয় সে দিনই আমার নাতি জন্মেছিল। হাসপাতালে বসেই নাতি হওয়ার আনন্দের খবরের সঙ্গে নৃশংসতার খবরটিও পেয়েছিলাম।’

    স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ অবশ্য অভয়ার মৃত্যুকে হাতিয়ার করে তাঁর মা–বাবার রাজনীতির ময়দানে নামাকে ভালো চোখে দেখেননি। অনেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন বিজেপি শাসিত রাজ্যে নারীনিগ্রহ, হাথরাস, উন্নাওয়ের ভয়াবহ ধর্ষণের কাহিনি। নির্যাতিতার মা প্রচার সেরে বেরিয়ে যাওয়ার পরে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তরুণী মন্তব্য করেন, ‘যে বিজেপি নিজেদের রাজ্যে মেয়েদের সুরক্ষা দিতে পারে না, সেই দলে গিয়ে উনি নিজের মেয়ের বিচার পাবেন এমনটা আশা করাই ভুল। অভয়ার মৃত্যুর সঙ্গে রাজনীতিকে না জড়ালেই ভালো হতো।’

    তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ বলেন, ‘আমি কাকিমার যন্ত্রণায় সহমর্মী। ঘটনার দিন আমার বাবাই আরজি করে দাঁড়িয়ে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছিলেন। কলকাতা পুলিশের পরিবর্তে বিজেপির শাখা হিসেবে কাজ করা যে সিবিআইয়ের উপরে তাঁরা ভরসা করেছিলেন সেই সিবিআই আজও সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে পারেনি। সেই বিজেপিরই হাত ধরলেন ওঁরা।’ বিধায়ক নির্মল ঘোষ বলেন,‘নির্বাচনের রাজনীতি করতে এসে মানুষের সমর্থন হারালেন ওঁরা।’ নির্যাতিতার হয়ে আন্দোলন করতে গিয়ে জেল খেটে আসা পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত বলেন, ‘এ রকম ঘটনা আবার ঘটলে আমরা রাস্তায় নামব। নির্যাতিতার বিচারের দাবি থেকে আমরা সরে আসিনি।’

  • Link to this news (এই সময়)