দোকানপাট খোলা, চলছে যানবাহন। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়ে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। চলছে কেন্দ্রীয় বাহিনীর টহলদারি। শনিবার সকাল থেকে অনেকটাই শান্ত পরিবেশ মুর্শিদাবাদ জেলার জঙ্গিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের রঘুনাথগঞ্জ এলাকা। গোটা থানা এলাকায় বিএনএস ১৬৩ ধারা (পুরোনো ১৪৪ ধারা) জারি করা হয়েছে। নতুন করে কোথাও কোনও প্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
শনিবার সকাল থেকে দফায় দফায় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ করে। সেখানে পুলিশের বড় কর্তারাও হাজির ছিলেন। পুলিশ প্রশাসন এলাকার পরিবেশ দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে চাইছেন। যদিও এ দিন সকাল থেকে এলাকার দোকানপাট খোলা রয়েছে।
অশান্তির ঘটনায় জখম মোট ৪৫ জন জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। ১৫-১৭ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন। জখম ব্যক্তিদের দেখতে ওই রাতেই জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে পৌঁছন জঙ্গিপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা এ বারের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল প্রার্থী জাকির হোসেন। জখম ব্যক্তিদের সঙ্গে দেখা করে তাঁদের স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খোঁজখবর নেন তিনি। সেই সঙ্গে হাসপাতালের মধ্যে থেকে সুপারকে ফোন করে তিনি উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার ব্যাপারেও জানান।
জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের সুপার কাশীনাথ পাঁজা জানান, ওই ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ৪৭ জন ভর্তি হয়েছিলেন। তার মধ্যে শনিবার সকালে দু'জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনার পরে ১৫-১৭ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ দিন সকালে জঙ্গিপুর হাসপাতালে পৌঁছন জঙ্গিপুরের সাংসদ খলিলুর রহমান, রঘুনাথগঞ্জের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূলের প্রার্থী মহম্মদ আখরুজ্জামান, জঙ্গিপুরের পুরপ্রধান মফিজুল ইসলাম-সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁরাও হাসপাতাল সুপারের সঙ্গে কথা বলেন এবং জখম ব্যক্তিদের শারীরিক অবস্থার কথা জানতে চান।
শুক্রবার ঘটনাস্থল থেকে বেশ কয়েক জনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। সেই সঙ্গে ওই রাতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ বেশ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করে। জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার সুপার সুরিন্দর সিং বলেন, ‘অশান্তির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট, সংঘর্ষ, দোকানে ভাঙচুর, আগুন জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট-সহ বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ফুটেজ, সমাজমাধ্যম ও বিভিন্ন তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে দোষীদের চিহ্নিতকরণের কাজ চলছে।’ ঘটনার দিন পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার না করার অভিযোগ অস্বীকার করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, ‘এটা ঠিক নয়। পুলিশ সক্রিয় থাকায় ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করার ফলে বড় কোনও ঘটনা ঘটতে পারেনি।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার বিকেলে রামনবমী মিছিলকে কেন্দ্র করে সীসাতলা, নিস্তা ও ফুলতলা বাসস্ট্যান্ড এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দোকান ভাঙচুর থেকে গাড়িতে ভাঙচুর চালানো, ভ্যান রিকশাতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া, দোকানের ভিতরে ঢুকে লুটপাট চালানো— সব মিলিয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পাল্টা পাথর ছোড়া থেকে ডিজে বক্সে ভেঙে ফেলার অভিযোগও রয়েছে।