রামনবমীর মিছিলে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ। সেই অশান্তির ঘটনায় বিজেপিকে দায়ী করে রানিগঞ্জের জনসভা থেকে তোপ দাগেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এখানেই শেষ নয়, বেহালায় দোকান ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই পরিস্থিতির জন্য বিজেপি এবং কমিশনকেই নিশানা করে মমতা বলেন, ‘আপনারা আমায় দোষ দেবেন না। আমার হাত থেকে সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। সব নিজের মতো অফিসারদের নিয়োগ করেছে।’
রামনবমীর মিছিলে অশান্তিকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রঘুনাথগঞ্জ। বাড়িঘর ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ। অশান্তিতে আহত কমপক্ষে ৪০ জন। RSS নেতা-সহ ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সেই ঘটনায় অভিযুক্তদের কাউকে ছাড়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,‘আমার হাত থেকে লোক সরিয়ে নিয়ে রঘুনাথপুরে অশান্তি করেছে বিজেপি। দুঃখের সঙ্গে বলছি, রামনবমী আমাদের ছেলেমেয়েরাও করে। শিবরাত্রি, দুর্গাপুজো, ছটপুজো, কালীপুজো সব করে। কিন্তু হিংসা করে না। রামনবমীর মিছিল করো, আপত্তি নেই। আমি কেন জগন্নাথ ধাম করেছি। খুব পাপ করেছি। রোজ প্রশ্ন করা হয়। জিজ্ঞাসা করুন, কারও বাড়ি ভাঙচুরের অধিকার কে দিল রঘুনাথগঞ্জে? মিছিল থেকে বেরিয়ে দোকান লুটপাট করেছ। একটাকেও ছাড়ব না। মানুষ বিচার করবে।’
এখানেই শেষ নয়, রামনবমীতে জেলায় জেলায় অশান্তি নিয়ে সরব মমতা। এর জন্য কমিশনের আমলা থেকে পুলিশ রদবদলকে দায়ী করেন তিনি। মমতার আরও অভিযোগ, অস্ত্র নিয়ে রামনবমীর মিছিল করা হয়েছে। কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তাঁর কথায়,‘পরশু সিউড়িতে বন্দুক উঁচিয়ে মিছিল করেছ। কেন প্রশাসন পদক্ষেপ করছে না? আমার থেকে সব কেড়ে নিয়েছে। উকুন বাছার মতো করছে। নিজেদের লোক নিয়োগ করেছে। ওরা জানে না, যতই বাছো বাংলায় আমরাই থাকব।’
রাজ্যের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা নিয়ে কমিশনকে তোপ মুখ্যমন্ত্রীর। বেহালায় দোকান ভাঙার ঘটনা কমিশনের তুমুল সমালোচনা করেন তিনি। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করেন। তিনি বলেন, ‘ববি কলকাতার মেয়র হলেও কমিশন সব নিয়োগ করেছে। শুক্রবার বেহালায় অনেক দোকান ভেঙে দিয়েছে। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। যে দোকান বুলডোজ়ার চালিয়ে ভেঙেছে, আমি আবার গড়ে দেব। আমি ক্ষমাপ্রার্থী। এগুলো আমাদের নির্দেশে হয়নি। এরা সারা জীবন থাকবে না। সরলে আমরা আবার গড়ে দেব। এরা সকলকে সরিয়ে বুলডোজা়র চালাচ্ছে, যা ইচ্ছা তাই করছে। আমি নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও সব ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছে। কেন্দ্র সরকারের দুই শয়তান মিলে অত্যাচার করেছে বাংলায়। এখানে যদি আসবার চেষ্টা করে সকলকে তাড়িয়ে দেবে। বুলডোজ়ার চালাবে।’
SIR নিয়ে রানিগঞ্জের সভা থেকেও সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, ‘মানুষের ভোট কাটার জন্য এসআইআর। ওটাই তোমাদের মৃত্যুবাণ। বাংলার সর্বনাশ করতে গিয়ে দেশের ক্ষমতা হারাবে।’ কমিশনের কার্যকলাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মুখ্যমন্ত্রী। এখনও পর্যন্ত প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকার তথ্য পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘এক এক বুথে শুনছি ৫০০ নাম থাকলে ৪০০ বাদ। মজা হচ্ছে? কী হচ্ছে? বিজেপি সব সীমা পার করে যাচ্ছে। প্রথম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা কোথায়? নরেন বলল, এক কোটি। আমি বললাম, এক কোটি ২০ লক্ষ। প্রথমেই ৫৮ লক্ষ বাদ। তার পরে ৬০ লক্ষ লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। তার মানে, একটা মেয়ের বিয়ে হয়েছে, সে পদবি বদলেছে। সে জন্য লজিস্টিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি। আমার নামের অনেক বানান লিখতে পারি। আমার নামের বানান কী লিখব, আমার অধিকার। কিন্তু বিজেপির ভ্যানিশ কমিশন AI দিয়ে নাম ভুল করে দিয়েছে। বিচারকদের নামও বিচারাধীন। আজ পর্যন্ত জানাতে পারল না কার নাম আছে, কার নেই। যাঁর নাম নেই ট্রাইব্যুনালে যেতে হবে।’
অফিসার বদল নিয়েও কমিশনকে তুলোধোনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, 'বিজেপির ভ্যানিশ কমিশন, কত নাম বাদ দিয়েছে। এমনকি যাঁরা এলাকা চিনতেন, এমন ৫০ থেকে ১০০ অফিসারকে তামিলনাড়ু থেকে কেরালায় পাঠিয়েছে। যাতে এখানে গুন্ডা ঢুকতে পারে, ড্রাগ ঢুকতে পারে ও টাকা ঢোকাতে পারে। তাই যেই সব অফিসার এখন দায়িত্বে রয়েছেন, তাঁদের বলব মানুষকে দেখুন। আমাকে দেখতে হবে না।’