• ‘ভয়’কে সরিয়ে ‘ভরসা’র আশ্বাস বিজেপির
    আজকাল | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: এক, দুই বছর নয়। চার্জশিটে বিজেপি তুলে এনেছে ২০১১ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত ঘটা রাজ্যে বিভিন্ন ঘটনার উদাহরণ। পুরোপুরি ১৫ বছর না হলেও প্রায় ১৫ বছরের এই সালতামামি প্রকাশে জোর দেওয়া হয়েছে অনুপ্রবেশ থেকে আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা থেকে শুরু করে সংস্কৃতি, স্বাস্থ্য, শিল্প, কৃষি থেকে নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনা। আলাদা করে তুলে ধরা হয়েছে উত্তরবঙ্গের কথাও। শনিবার যা নিয়ে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ-র দাবি, বাংলার মানুষ এবার তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারকে সরিয়ে বিজেপিকে বরণ করে নেবেন। মোট ৩৯ পৃষ্ঠার এই বইয়ে ছত্রে ছত্রে তুলে ধরা হয়েছে তৃণমূলের 'অপশাসন'-এ এই বাংলা কতটা সমস্যায় আছে! 

    অন্যান্য দুর্নীতির মধ্যে এই চার্জশিটে একটি দুর্নীতি হল লটারি দুর্নীতির মালিকের তৃণমূলকে চাঁদা দান। ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে। দুই নেতা অনুব্রত মণ্ডল এবং বিবেক গুপ্তের নাম উল্লেখ করে বিজেপির দাবি তাঁরা বেআইনিভাবে 'জ্যাকপট বিজয়ী' হয়েছেন এবং লটারির মালিক তৃণমূলকে বিপুল অঙ্কের টাকা ইলেক্টোরাল বন্ড বা নির্বাচনী চাঁদা হিসেবে দিয়েছেন। সমস্যা হল যে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে এই নির্বাচনী তহবিল গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছে সেই বন্ডে সবচেয়ে বেশি টাকা দেশে বিজেপির ঘরেই ঢুকেছে এবং সেখানে কিছু কিছু সংস্থা আছে যাদের কার্যকলাপের বিরুদ্ধেও অতীতে অভিযোগ উঠেছে। 

    রাজ্য এখন সরগরম  এসআইআর-এর তালিকা প্রকাশ নিয়ে। দেখা যাচ্ছে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম এই তালিকা থেকে উধাও। যাদের মধ্যে রয়েছেন এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী তৃণমূল প্রার্থীও। অমিত শাহ এদিন দাবি করেছেন অন্য রাজ্যে এসআইআর নিয়ে সমস্যা তৈরি না হলেও একমাত্র এই রাজ্যেই তৈরি হয়েছে এই সমস্যা। যার পিছনে অনুপ্রবেশকারী ভোটারদের নাম রেখে দেওয়াই তৃণমূলের উদ্দেশ্য বলে শাহের দাবি। কিন্তু সব ছাপিয়ে যে প্রশ্নটা বড় হয়ে দেখা দিয়েছে বা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে তোলা হচ্ছে সেটা হল এত অল্প সময়ের মধ্যে এই এসআইআর করার কি খুব প্রয়োজন ছিল? না কি এটা স্রেফ নির্বাচনের দিকে তাকিয়েই? 

    চার্জশিটে বিজেপি তুলে ধরেছে বীরভূমের বগটুই হত্যাকাণ্ড থেকে আরজি কর-এর ঘটনা। ‌অথচ এই দুই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ভারই কিন্তু সিবিআইয়ের উপর। আর যদি তদন্তের কথাই ধরতে হয় তাহলে দেখা যাবে ২০২২ সালের ১২ ডিসেম্বর বগটুই কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত লালন শেখের সিবিআই হেফাজতেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। পড়ে আছে আরজি কর কাণ্ড। যেখানে কিন্তু বারবার তদন্ত ঠিকমতো হচ্ছে না বলে আঙুল উঠেছে সিবিআইয়ের দিকেই। আপাতত সামনে নির্বাচন। ফলে যে যার ঘাড়ে দায় চাপাতেই ব্যস্ত। 

    বাকি রয়েছে 'ভরসাপত্র'। এখন দেখার সেখানে কী কী ভরসা থাকে।
  • Link to this news (আজকাল)