পুলিশের চাকরি থেকে অবসর নিতে আর মোটে বাকি ছিল একমাস। তার আগেই ডিউটিতেই মর্মান্তিক ভাবে মৃত্যু হলো সেই পুলিশ কর্মীর। শুক্রবার রাতে আচমকা শুরু কালবৈশাখী ঝড়ের দাপট। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গী হয়ে জেলায় জেলায় নামে বৃষ্টি। সেই ঝড়বৃষ্টির তাণ্ডবে বিশাল এক গাছের ডাল ভেঙে পড়ল পুলিশের গাড়ির উপর। তাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ৫৯ বছর বয়সি সন্তোষ ছেত্রী। এই ঘটনায় আহত তাঁর তিনি সহকর্মী। শুক্রবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ মেদিনীপুর সদরের গুড়গুড়িপাল থানার সারেঙ্গাশোল এলাকায় ঘটে দুর্ঘটনা।
মৃত পুলিশকর্মী সন্তোষ ছেত্রী কর্মরত ছিলেন মেদিনীপুরের গুড়গুড়ি পাল থানায়। মেদিনীপুর শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের নেপালি পাড়ার বাসিন্দা আরও তিন পুলিশকর্মীর সঙ্গে শুক্রবার রাতে বেরিয়ে ছিলেন রুটিন টহলে। সেই সময়েই আচমকা ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়।
ঝড়ের দাপটে বেশ কিছু এলাকায় রাস্তার উপর পড়ে যায় গাছ। রুটিন টহল দেওয়ার সময় গুড়গুড়িপাল থানার পুলিশের গাড়ি চাঁদড়া থেকে থানার দিকে ফিরছিল। চাঁদড়ার সারেঙ্গাশোল এলাকায় হঠাৎ করেই চলন্ত গাড়ির উপর ঝড়ে ভেঙে পড়ে বিশাল গাছের ডাল। সঙ্গে সঙ্গে দুমড়ে-মুচড়ে যায় পুলিশের গাড়িটি। স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ সরিয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্থ পুলিশ কর্মীদের উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানেই সন্তোষ ছেত্রীকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।
ঘটনায় শোকের ছায়া পুলিশ মহলে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পুলিশ কর্মী আগামী এপ্রিলেই কর্মজীবন থেকে অবসর নিতেন। অন্যদিকে বেলদার রাধানগর এলাকায় বাড়ি ফেরার পথে ঝড়ে রাস্তায় পড়ে থাকা গাছে বাইকের ধাক্কায় আহত হন এক ভিলেজ পুলিশ। প্রথমে বেলদা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, সেখান থেকে স্থানান্তরিত হয়ে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
প্রসঙ্গত, দুর্ঘটনায় আহত অন্য পুলিশ কনস্টেবল সৌরভ সাউয়ের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরিত করা হয়েছে। মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ASI অপূর্ব পাত্র এবং সিভিক ভলান্টিয়ার সুশান্ত মাহাত। খবর পেয়ে মেদিনীপুর হাসপাতালে পৌঁছন পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। খোঁজ নেন চিকিৎসার বিষয়ে। পরে সৌরভকে গ্রিন করিডর করে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করেন পুলিশ সুপার।