পরনে সাদা পাজামা-পাঞ্জাবি, গলায় বিজেপির উত্তরীয়। ভরা বাজারে ত্রিপল বিছিয়ে বসে আছেন রানিবাঁধ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম টুডু (BJP Candidate)। সামনে ডাঁই করে রাখা আলু, পটল, অন্য সব্জি। তার পাশে টাটকা শাক। হাতে দাঁড়িপাল্লা নিয়ে কুমড়ো ওজন করছেন তিনি, ‘দাদা, খুব সস্তা, নিয়ে যান’। ভিড় করে এলেন আশপাশের সাধারণ মানুষ। শনিবার বাঁকুড়ার (Bankura) রানিবাঁধ ব্লকের ঝিলিমিলির পাড়াডি হাটে এমনই দৃশ্যের সাক্ষী থাকলেন এলাকার লোকজন।
২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোট (West Bengal Assembly Election 2026) বাঁকুড়ায়। তার আগে জোরকদমে চলছে প্রচার। এ দিন রানিবাঁধের ঝিলিমিলিতে বড় হাট বসে। প্রচারের এই সুযোগ ছাড়তে চাননি বিজেপি প্রার্থী ক্ষুদিরাম। দলীয় কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে পাড়াডির হাটে হাজির হয়ে যান তিনি। সেখানে ব্যবসায়ী, সবজি বিক্রেতা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। এই সবের মাঝে আচমকাই এক সব্জি বিক্রেতার পাশে দাঁড়িপাল্লা হাতে বসে পড়েন তিনি। শুরু হয় বেচাকেনা।
রীতিমতো দক্ষ বিক্রেতার মতো বেচাকেনা করলেন ক্ষুদিরাম। খদ্দেরও সামলালেন। ‘নিয়ে যান, একদম টাটকা’ বলে হাঁকও পাড়লেন। পুঁইশাকে জলের ছিটে দিতেও দেখা যায় ক্ষুদিরামকে। বিজেপি প্রার্থীকে এমন বেশে দেখে তাঁকে ঘিরে দাঁড়ান স্থানীয় বাসিন্দারা। কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়।
কৃষক পরিবারের ছেলে ক্ষুদিরাম। মাটির সঙ্গে তাঁর নাড়ির টান। ছোটবেলায় বাবাকে চাষের কাজে সাহায্য করতেন। সেই ফসল বিক্রি করতেন হাটে। সবজি বিক্রির ফাঁকে নিজেই জানালেন সেই কথা। ক্ষুদিরাম বললেন, ‘হাটে পরিচিত একজন সব্জি বিক্রি করছিলেন। তাঁকে দেখে আর লোভ সামলাতে পারিনি।’ সঙ্গে বলে দিলেন, ‘আমি কৃষক পরিবারের সন্তান। এসব আমার কাছে নতুন কিছু নয়।’
প্রচারে বেরিয়ে বিজেপি প্রার্থীর সব্জি বিক্রিকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি তৃণমূল। বাঁকুড়া সাংগাঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি তারাশঙ্কর রায়ের কথায়, ‘এ সব নাটক। তৃণমূলের কাছে হারবে বুঝে মানুষের মন ভোলাতে চাইছে। কিন্তু এতে কোনও লাভ হবে না।’