রানিগঞ্জের ধসপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শনিবার রানিগঞ্জ বিধানসভার খান্দরার জনসভা থেকে খনি এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর। ধসপ্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের অন্যত্র সরে যেতে অনুরোধ করেন তিনি। এর জন্য সরকারের তরফ থেকে বাড়ি ও নগদ সাহায্য দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন মমতা।
এ দিন রানিগঞ্জের মঞ্চে বক্তব্যের শুরুতেই ধসপ্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের কাছে বিশেষ অনুরোধ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,‘আমি মা, ভাই, বোনেদের কাছে অনুরোধ করব, মনে রাখবেন মানুষের জীবন সবচেয়ে বেশি দামি। রানিগঞ্জ ধসপ্রবণ এলাকা। যে কোনও দিন বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আপনারা ওই অঞ্চল থেকে সরে আসুন।’
এখানেই শেষ নয়, মুখ্যমন্ত্রী জানান ইতিমধ্যেই পুনর্বাসনের জন্য সরকারি স্তরে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। তাঁর কথায়, ‘ইতিমধ্যে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা খরচ করে ৬ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি করেছি। আরও ৪ হাজার ফ্ল্যাট তৈরি হচ্ছে। একটা নয়, দু’টো করে ফ্ল্যাট সরকার আপনাদের দেবে। যদি আপনার শিফট করেন। শিফটিংয়ের খরচও দেবে। এতে পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। তাতে যদি কিছু বাড়ে তো বাড়বে। মনে রাখবেন, জীবনের সঙ্গে টাকার কোনও তুলনা হয় না। আপনারা ভাবুন নতুন করে। কারণ, যদি কোনওদিন ধস নামে, হাজার হাজার মানুষ ধসের তলায় চলে যাবে। আমরা এটা চাই না। আমরা চাই জীবন সম্পদ রক্ষা হোক। আমি আপনাদের জোর করছি না, আবেদন করছি।’
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা নিয়ে প্রবল আপত্তি জানিয়েছে গেরুয়া শিবির। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মডেল কোড অফ কনডাক্টের তোয়াক্কা করেন না। মানুষ এটা ভালোভাবে নিচ্ছেন না।’
উল্লেখ্য, খনি অঞ্চল রানিগঞ্জের একাংশ। কয়লা খনিতে ধস নামার সঙ্গে সঙ্গে মাঝেমধ্যেই রানিগঞ্জ-আসানসোলের রাস্তায় বিরাট ধস নামতে দেখা যায়। এই অঞ্চলের ধস নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আগেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। খনি অঞ্চলের ধস কবলিত এলাকার বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য বহুতল আবাসন (ফ্ল্যাট) তৈরি করেছে রাজ্য সরকার। অন্ডাল বিমাননগরীর ভিতরে এই আবাসন তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ধস কবলিত এলাকার একটি পরিবারও ওই আবাসনে আসেননি।
কখনও মন্ত্রী মলয় ঘটক, আবারও কখনও বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় আবেদন করেছেন বাসিন্দাদের। কিন্তু কোনও কাজ হয় নি। এই ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অজানা নয়। গত প্রায় দু'বছর ধরে আবাসন তৈরি হয়ে পড়ে আছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, এক কামরার ওই ফ্ল্যাট অত্যন্ত ছোট। তাতে এতজনের ঠাঁই হওয়া সম্ভব নয়। সেই কথা মাথায় রেখেই নয়া প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রীর। এ দিন সভা থেকে নতুন করে পুনর্বাসন প্রসঙ্গের উত্থাপন করেন মমতা। বাসিন্দাদের জন্য পুনর্বাসন প্রকল্প আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে তিনি দুটো করে ফ্ল্যাটের সঙ্গে শিফটিংয়ের খরচ দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, কয়লা খনি প্রসঙ্গেও এ দিনের মঞ্চ থেকে বিজেপিকে নিশানা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন,‘যারা কয়লাখনি বন্ধ করেছেন, বলব, নিজেরা চালাতে না পারলে আমরা চালাব। এদিকে বেনামি খাদান থেকে বিজেপি টাকা রোজগার করে। তৃণমূলকে চোর বলে। সবচেয়ে বড় ডাকাত, স্বৈরাচারী বুলডোজ়ারের দল ওরা। ভোটার তালিকায় নাম কাটার দল।’