• সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে নাম বাদ খোদ প্রিসাইডিং অফিসারের! কৃষ্ণনগরে চাঞ্চল্য
    এই সময় | ২৮ মার্চ ২০২৬
  • ৩০ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন আজিজুল হক বিশ্বাস। ভোটের কাজও করছেন সমান তালে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) প্রিসাইডিং অফিসারের (Presiding Officer) দায়িত্ব পড়েছে তাঁর কাঁধে। শুক্রবার ভোটের ট্রেনিংও নিয়েছিলেন। কিন্তু রাতে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট (Special Intensive Revision) প্রকাশের পরে দেখা যায়, আজিজুলের নাম বাদ। নদিয়ার (Nadia) কৃষ্ণনগরের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দিকে আঙুল তুলেছেন আজিজুল।

    আজিজুল হক বিশ্বাস কৃষ্ণনগর কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক। ২০০২-এর ভোটার লিস্টে তাঁর নাম ছিল। তবে গত কয়েক বছর তিনি পদবি থেকে ‘বিশ্বাস’ বাদ দিয়েছেন। শুধু লেখেন, ‘আজিজুল হক’। SIR শুরুর পরে এতেই বিপত্তি বাঁধে বলে দাবি তাঁর।

    ‘হক’ আর ‘বিশ্বাসের’ টানাপড়েনে শুনানিতে ডাক পড়ে আজিজুলের। তাঁর অভিযোগ, ‘নির্বাচন কমিশন নথি যাচাইয়ের জন্য ১৩টি প্রমাণপত্রকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আমি সব ক’টাই দেখিয়েছি। কিন্তু তার পরেও দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট থেকে আমার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।’

    গত ৩০ বছর ধরে ভোটের কাজ করছেন। এ বারও প্রিসাইডিং অফিসারের ট্রেনিং নিয়েছেন। কিন্তু তালিকায় নাম না থাকায় সবই বৃথা হয়ে গেল দাবি করে আজিজুলের প্রশ্ন, ‘আমি নিজেই যদি ভোটার না হই, তা হলে বুথ সামলাব কী ভাবে?’

    ভোটার তালিকায় প্রিসাইডিং অফিসারের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক টানাপড়েন। কমিশন ও বিজেপির দিকে আঙুল তুলেছেন কৃষ্ণনগর ব্লক তৃণমূলের সভাপতি সৌমাল্য ঘোষ। তিনি বলেন, ‘সম্পূর্ণ ইচ্ছাকৃত ভাবে করা হয়েছে। এ ভাবে অনেকেরই নাম বাদ দিয়েছে। আসলে SIR-এর নামে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার।’ তবে বিজেপির দাবি উড়িয়ে দিয়ে নদিয়া উত্তরের বিজেপির মিডিয়া কনভেনর সন্দীপ মজুমদার বলেন, ‘গাইডলাইন মেনে নথিপত্র জমা দিলে এই রকম সমস্যায় পড়তে হতো না।’

  • Link to this news (এই সময়)