বাংলায় SIR (Special Intensive Revision) শুরুর পর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন মতুয়ারা। বিপুল নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। সেটাই যেন সত্যি হলো। শুক্রবার প্রকাশিত দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে বনগাঁ (Bongaon) দক্ষিণ বিধানসভার চাঁদপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৩ নম্বর বুথে ১৮৬ জনের মধ্যে ১৮৩ জনের নাম বাদ পড়েছে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বাদ যাওয়া ভোটারদের অধিকাংশই মতুয়া সম্প্রদায়ের বলে অভিযোগ।
শুক্রবার রাতে দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট (supplementary list) প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩৭ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এর মধ্যে বাদ গিয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ নাম। সেখানেই দেখা যায়, চাঁদপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের ১৭৩ নম্বর বুথ থেকে বৈধ ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে মাত্র একজনের।
জানা গিয়েছে, ওই বুথে ১৮৬ জনের নাম ‘বিচারাধীন’ ছিল। দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি লিস্টে ১৮৩ জনের নামই বাদ পড়েছে। দু’জনের নাম এখনও রয়েছে ‘বিচারাধীন’। নাম উঠেছে মাত্র একজনের। লিস্ট দেখার পর থেকেই চরম উৎকন্ঠায় রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চরম উদ্বেগে রয়েছেন চাঁদপুরের সুরজিৎ সাহা। তিনি বলেন, ‘গোটা গ্রামে হাহাকার পড়ে গিয়েছে। সবার এখন একটাই চিন্তা, কী ভাবে নাম উঠবে?’
গ্রামের অনেকেরই ১৯৮৮ সালের ভোটার তালিকায় নাম উঠেছে। অনেকের কাছে ১৯৮৪ সালের বর্ডার স্লিপ রয়েছে। তাঁরা বলছেন, ‘সব প্রমাণ দেখিয়েছি। তার পরেও কেন নাম বাদ দেওয়া হলো, বুঝতে পারছি না।’ গ্রাম ছেড়ে তাঁরা কোথাও যাবেন না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের কথায়, ‘আমাদের নাগরিকত্ব দিতেই হবে।’
এই ঘটনায় রাজনৈতিক টানাপড়েন তুঙ্গে উঠেছে। বিজেপির দিকে আঙুল তুলে বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের সহ-সভাপতি প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, ‘এটা বৈধ ভোটারদের বাদ দেওয়ার চক্রান্ত। বিজেপি আসলে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে চাইছে। কিছু হয়ে গেলে তার দায় কে নেবে?’ তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বনগাঁ বিজেপির সাংগঠনিক সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘সব নথিপত্র থাকলে নাম বাদ যাওয়ার কথা নয়।’