। তাঁর এই পদক্ষেপের পরেই পাল্টা আক্রমণে নামে তৃণমূল। বিজেপির বিরুদ্ধেও ‘চার্জশিট’ পেশ করা হয়।
তৃণমূলের তরফে এই পাল্টা ‘চার্জশিট’ তুলে ধরেন
,
এবং
। সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র ভাষায় বিজেপি ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আক্রমণ করেন তাঁরা।
সাংবাদিক বৈঠকে
-এর ‘জুলিয়াস সিজার’-এর প্রসঙ্গ টেনে ব্রাত্য বসু বলেন, ‘বিচারক এবং দাগী অপরাধী যখন একই আসনে বসে, তখন যে পরিস্থিতি তৈরি হয়, আজকের এই চার্জশিট পেশও তারই প্রতিফলন।’
তিনি আরও কটাক্ষ করে বলেন, ‘আদালত কাকে যেন তড়িপাড় বলেছিল?’
ব্রাত্যের অভিযোগ, যাঁরা নিজেদের রাজ্যে নারী সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেননি, তাঁরাই বাংলায় এসে এই ধরনের চার্জশিট পেশ করছেন। তাঁর কথায়, ‘এসআইআর করে বাংলায় শেষ পেরেক পুঁততে চাইছে বিজেপি, কিন্তু তা সফল হবে না। বাংলার মানুষ সেই পেরেক উপড়ে ফেলবে। বাংলায় নারী শক্তিরই জয় হবে।’
সরাসরি প্রধানমন্ত্রী
এবং
-কে নিশানা করে বলেন, ‘কোনও জোকার সিংহাসনে বসলে সে রাজা হয় না, বরং প্রাসাদটাই সার্কাসে পরিণত হয়।’
তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের ‘বাংলাদেশি’ বলে অপমান করা হয়েছে এবং তাঁদের উপর অত্যাচার চালানো হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘যিনি একসময় নিজের রাজ্যেই ঢুকতে পারতেন না, পালিয়ে বেড়াতেন, তিনিই আজ বাংলার মানুষের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছেন—এটা আস্পর্ধা ছাড়া আর কিছু নয়।’
মহুয়ার দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাকে বঞ্চিত করে আসছে বিজেপি এবং বাঙালিদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে। তাই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই চার্জশিটের কোনও গুরুত্ব নেই বলেই মত তাঁর।
বলেন, তিনি দীর্ঘদিন বিজেপিতে থাকার ফলে দলের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে অবগত। তাঁর কটাক্ষ, ‘একজন অভিযুক্ত ব্যক্তি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী—এমনটা একমাত্র ভারতবর্ষেই সম্ভব।’
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপির স্বভাবই হল বারবার মিথ্যে কথা বলা এবং সেটাকেই জোর দিয়ে প্রচার করা। তাঁর কথায়, ‘আজও চার্জশিট পেশের নাম করে সেই একই কাজ করেছেন অমিত শাহ।’
বিজেপির ‘চার্জশিট’ এবং তৃণমূলের পাল্টা আক্রমণ—সব মিলিয়ে ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠছে। দুই পক্ষের এই বাকযুদ্ধ যে আগামী দিনে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট।