• ‘পছন্দের’ পুলিশকে সরাতেই হিংসা কম রামনবমীতে, দাবি শাহের
    এই সময় | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ভোটমুখী বাংলায় পুলিশ–প্রশাসনের কর্তাদের একের পর এক বদলি নিয়ে প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কাঠগড়ায় তুলেছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল। তবে বাংলায় এসে কমিশনের ভূমিকার তারিফ করলেন অমিত শাহ।

    রামনবমীর শোভাযাত্রাকে কে‍ন্দ্র করে শুক্রবার গোষ্ঠী সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়েছিল মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ। তবে সার্বিক ভাবে এ বছর রামনবমীকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আর কোথাও বড়সড় কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি এখনও। তার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রশংসাই শোনা গেল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে। শনিবার রাজ্যে এসে তাঁর ব্যাখ্যা, এ বছর হিংসা একটু কম হয়েছে। কারণ, ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পরেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পছন্দের’ অফিসারদের সরিয়ে দিয়েছে কমিশন। এ রাজ্যের অধিকাংশ সরকারি অফিসার তৃণমূলের ক্যাডার বলেও আক্রমণ শানিয়েছেন শাহ। বাংলাকে পুরোপুরি হিংসামুক্ত করার জন্য তিনি এ রাজ্য থেকে তৃণমূল সরকারকে মূল সমেত উৎখাত করার ডাক দিয়েছেন শনিবার। বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করতে ঝটিতি সফরে শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতায় পৌঁছন শাহ।

    বাং‍লায় ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পুলিশ–প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক রদবদল করেছে কমিশন। যা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে‍ন তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অঘোষিত রাষ্ট্রপতি শাসন’ বলেও বর্ণনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপির অঙ্গুলিহেলনেই এ সব করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার। যে হেতু কমিশন নিজের মর্জিমাফিক প্রশাসনিক স্তরে রদবদল করেছে, তাই বাংলায় কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে তার জন্য নরেন্দ্র মোদীর সরকার এবং কমিশন দায়ী থাকবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    কিন্তু কমিশন যে রাজ্যের বিভিন্ন অফিসারকে বদলি করে সঠিক পদক্ষেপ করেছে, এ দিন কলকাতায় এসে সেটাই জোর গলায় দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। শনিবার নিউ টাউনের একটি হোটেলে সাংবাদিক বৈঠক থেকে শাহের দাবি, ‘বাং‍লায় রামনবমীর শোভাযাত্রার উপরে প্রতি বছর হামলা হয়। এ বছরই তুলনায় সব থেকে কম হামলা হয়েছে।’ এর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের অফিসারদের কমিশন সরিয়ে দিয়েছে। বদলে নিরপেক্ষ অফিসারদের নিয়োগ করেছে তারা। ফলে সে ভাবে অশান্তি হয়নি এ বারের রামনবমীতে।’ যদিও রামনবমীকে সামনে রেখে অশান্তি পাকানোর বিস্তর প্ররোচনা তৃণমূলের দিক থেকে ছিল বলে শাহের অভিযোগ। কোনও রাজনৈতিক অভিসন্ধি থেকে যে রাজ্য সরকারি অফিসারদের বদলি করা হচ্ছে না, সেটা স্পষ্ট করে তাঁর দাবি, ‘দেশের যে সব রাজ্যে নির্বাচন হচ্ছে, সেখানেই অভিযুক্ত সরকারি অফিসারদের বদলি করা হয়েছে। বাংলায় বেশি হয়েছে কারণ, এখানে অধিকাংশ সরকারি অধিকারিকই একপ্রকার তৃণমূলের ক্যাডার হয়ে গিয়েছেন। আইন–শৃঙ্খলার প্রশ্নে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি অনেক এগিয়ে। মে মাসের পরে বাংলাতেও সুশাসন আসবে।’

    তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য ঠারেঠোরে দাবি করছেন, রাজ্য প্রশাসনের পুরোনো ‘সেট আপ’ থাকলে শুক্রবার রঘুনাথগঞ্জের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো যেত। রাজ্যের শাসকদলের এই যুক্তির যে কো‍নও সারবত্তা নেই, সেটাও এ দিন জোর গলায় দাবি করেন শাহ। তিনি টেনে আনেন ২০২১–এর বিধানসভা ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের কথা। তখন কী ভাবে বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের উপরে হামলা হয়েছে, সে কথা স্মরণ করিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গত বিধানসভা ভোটের পরে বিজেপি কর্মীদের উপরে ব্যাপক সন্ত্রাস চা‍লানো হয়েছিল। তাঁদের বেছে বেছে মারা হয়েছে। মহিলাদেরও ছাড়া হয়নি। ’২১–এর সন্ত্রাসের আবহে বাং‍লার ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে ঝাড়খণ্ডে আশ্রয় নিতে হয়েছিল।’ তাঁর প্রশ্ন, ‘তখন তো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের ডিজি ছি‍লেন। তা হলে এ রকম আতঙ্কের পরিবেশ কেন তৈরি হয়েছিল? এর কোনও ব্যাখ্যা আছে তৃণমূল নেতাদের কাছে?’

  • Link to this news (এই সময়)