ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়লেন প্রাক্তন সাংসদ তরুণ মণ্ডল
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২৯ মার্চ ২০২৬
২০০৯ সালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার জয়নগর লোকসভা কেন্দ্র থেকে কংগ্রেস-তৃণমূল জোটের সমর্থনে জয়ী হয়েছিলেন ডাঃ তরুণ কুমার মণ্ডল। পেশায় চিকিৎসক এই প্রাক্তন সাংসদ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ হাওড়া বিধানসভা এলাকায় বসবাস করেন। ওই বিধানসভার ২৭৯ নম্বর বুথে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত ছিল।
বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার খসড়া তালিকা প্রকাশের পর তাঁর নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁকে শুনানির জন্য ডাকা হয়েছিল। তিনি সেখানে একাধিক সরকারি নথি জমা দেন। কিন্তু সেই ধাপ পার হওয়ার পরও চূড়ান্ত তালিকায় তাঁর নাম ‘বৈধ’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না হয়ে উল্টে ‘বিয়োজন’ তালিকায় চলে গিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, একই পরিবারের ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র লক্ষ্য করা গিয়েছে। তাঁর স্ত্রী মহুয়ার নামও প্রথমে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকলেও শেষপর্যন্ত তাঁকে বৈধ ভোটার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, একই পরিস্থিতিতে দু’জনের ক্ষেত্রে ভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়া হল কেন?
এই ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রাক্তন সাংসদ তরুণ কুমার মণ্ডল। তিনি একটি স্মারকলিপিও জমা দেন। তিনি দাবি করেন, ‘আমি সরকারি চাকরি করেছি, পেনশন পাই, সাংসদ ছিলাম—সব নথি দিয়েছি। কিন্তু আমাকে জানানো হল। এখন বিষয়টি ট্রাইবুনাল দেখবে। কথাবার্তায় মনে হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কোনও আগ্রহ নেই।’
তিনি আরও জানান, এই বিষয়ে লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছেও নথি-সহ বিস্তারিত চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ‘আমি যদি এই পরিস্থিতির শিকার হই, তাহলে সাধারণ মানুষের কী অবস্থা হচ্ছে, তা সহজেই অনুমেয়। পুরো প্রক্রিয়াটাই পূর্বনির্ধারিত বলে মনে করা হচ্ছে।’ প্রাক্তন সাংসদের ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, তিনি আইনি পথে লড়াই চালিয়ে যাবেন। ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হয়ে নিজের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করবেন। তবে সাধারণ মানুষের পক্ষে এই প্রক্রিয়া কতটা সহজ, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া চলছে। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা তা খতিয়ে দেখছেন। গোটা প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধানে রয়েছেন বিচারপতি সুজয় পাল।
এদিকে, শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দলের একাধিক প্রার্থীর নাম ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় থাকায় দ্রুত হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়ে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। যদিও পরবর্তী তালিকায় শশী পাঁজা এবং কাজল শেখের নাম বৈধ তালিকায় উঠে এসেছে। তবুও এখনও কয়েকজনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রাক্তন সাংসদের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় এই বিতর্ক আরও জোরালো হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।