শ্যামগোপাল রায়
লোকসভা ভোটে দমদমে তৃণমূলের প্রার্থী জিতলেও পুরসভা এলাকায় মাত্র ৬১৫ ভোটে এগিয়ে থেকে মানরক্ষা করেছিল ঘাসফুল শিবির। বিধানসভা নির্বাচনে সেই ব্যবধান বাড়াতে মরিয়া রাজ্যের শাসকদলের নেতারা মানুষের বাড়ি–বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ক্ষোভ বোঝার চেষ্টা করছেন। পরিস্থিতি বুঝে কোথাও কোথাও পাড়া বৈঠক করা হচ্ছে। শাসক শিবিরের এই কর্মসূচিকে স্রেফ ‘লোক দেখানো’ বলে কটাক্ষ করছে বিজেপি ও বাম নেতৃত্ব।
ওই বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে দমদম পুরসভার ২২টি এবং দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড। দমদমের ২২টি ওয়ার্ডে অবাঙালি ভোটারের আধিক্য দক্ষিণ দমদমের তুলনায় বেশি। ২০১৯-এ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি দমদম পুর এলাকায় ৫ হাজার ভোটে এগিয়ে থাকলেও ২০২১-এ তৃণমূল সেই খরা কাটিয়ে ১১ হাজার ভোটের লিড নিয়েছিল। কিন্তু ২০২৪-এ সেই লিড তলানিতে ঠেকতেই নড়েচড়ে বসেছে তৃণমূলের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক। কারণ, ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে দমদম পুরসভার ২২টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১১টিতেই এগিয়ে ছিল বিজেপি। বিজেপি নেতা অতীন রায় বলেন, ‘পাঁচ বছর ধরে যাঁরা পুরসভার জমি আর সরকারি অর্থ লুটপাট করেছে, এখন হারের ভয়ে মানুষের দুয়ারে গিয়ে কান্নাকাটি করছে।’ স্রেফ কয়েকটা বৈঠক করে এই জনরোষ থামানো যাবে না বলে দাবি অতীনের।
বাম শিবিরের দাবি, তৃণমূল ও বিজেপির এই তরজা আসলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। সিপিএম নেতা পলাশ দাসের মতে, ‘লোকসভা ভোটে মানুষ একরকম মেরুকরণ দেখলেও বিধানসভা স্তরে প্রকৃত উন্নয়ন আর রুটি-রুজির প্রশ্নে ভোট দেবে।’ বিরোধীদের বক্তব্য, ‘দমদম শহরে নিকাশি সমস্যা থেকে শুরু করে পানীয় জল, পার্কিংয়ের পরিকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই পুরসভা ব্যর্থ।’ বিরোধীদের অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিচ্ছেন তৃণমূল পরিচালিত পুরসভার চেয়ারম্যান হরিন্দর সিং। তাঁর দাবি, ‘লোকসভা ও বিধানসভার ফলাফলে কিছুটা ফারাক আছে। গত লোকসভা ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের পাশাপাশি পুরসভার উন্নয়নমূলক কাজ, ‘পাড়ায় সমাধান’ প্রকল্প তুলে ধরা হচ্ছে।’