এই সময়: চার দশকেও খুনের বিচার শুরু হয়নি! সেই মামলার শুনানিতে বিচারপতি জয় সেনগুপ্তের হতাশ পর্যবেক্ষণ, ‘ঘটনা দুঃখজনক।’
২০১৯–এ কলকাতা হাইকোর্ট একটি খুনের মামলার দ্রুত ট্রায়াল শুরু করতে পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু তারপরেও কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় এ বার বিচার শেষ করতে ছ’ সপ্তাহের সময় বেঁধে দিল হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশ, কোনওরকম ভাবে অপ্রয়োজনে শুনানিতে স্থগিতাদেশ না দিয়ে দ্রুত বিচার শেষ করতে হবে।
কোচবিহারের দিনহাটার শালমারায় ১৯৮৭–র ১৫ জুলাই সিপিএম এবং প্রয়াত কমল গুহর সমাজতান্ত্রিক ফরোয়ার্ড ব্লকের মধ্যে ঝামেলায় তিনজন খুন হন। সেই ঘটনায় ৮০ জন অভিযুক্ত। তাঁদের মধ্যে এক অভিযুক্ত হাইকোর্টে মামলা দায়ের করে অভিযোগ করেন, মামলার বিচার ঝুলে থাকায় তিনি এনবিএসটিসির চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পরেও পেনশন সহ যাবতীয় আর্থিক প্রাপ্য আটকে রয়েছে। সম্পূর্ণ নথি খতিয়ে দেখে হাইকোর্ট বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, ১৯৮৭–তে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরে কয়েকজন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়, আর কয়েকজন পালিয়ে যায়। ১৯৯০–এ পুলিশ মামলার চার্জশিট জমা দেয়। নিয়ম অনুযায়ী, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট থেকে বিচারের জন্য এই মামলার ফাইল পাঠানোর কথা সেশন কোর্টে। কিন্তু এতবছরেও সেই ফাইল পাঠানো হয়নি। অথচ এর আগে হাইকোর্টই ২০১৯–এ দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু সেই নির্দেশও কার্যকর হয়নি।
যাবতীয় নথি দেখে বিচারপতি সেনগুপ্ত তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রশাসনিক গাফিলতি বা ত্রুটির জন্য কোনও অভিযুক্তকে ভোগান্তি পোহাতে বাধ্য করা যায় না। কেন এত বছরেও ফাইল সেশন কোর্টে যায়নি, তার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা পায়নি হাইকোর্ট। হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দিয়েছে, আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে এই মামলার নথি সেশন কোর্টে পাঠিয়ে বিচার করতে হবে। প্রয়োজনে হাজির ও পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আলাদা করেও এই বিচার শেষ করতে হবে। আবেদনকারী অনিল চন্দ্র বর্মনের আইনজীবী সুমন স্নেহানবিস (মণ্ডল) অভিযোগ করেন, ‘২০১৯–এ হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন অজুহাতে মামলাটি এগোয়নি, বিশেষ করে কিছু অভিযুক্ত পলাতক থাকায় বিলম্ব ঘটেছে। মামলার জটিলতার কারণে অবসর নেওয়ার পরেও তাঁর মক্কেল পেনশনের সুবিধা পাচ্ছেন না। আইনজীবীদের বক্তব্য, ‘নতুন বিএনএস অনুযায়ী, নথি পাঠানোর জন্য ১৪ দিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।’