• যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেস্টে শব্দতাণ্ডব, আইনি প্রশ্ন তুলে চিঠি স্থানীয় বাসিন্দার
    এই সময় | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেস্টের (বার্ষিক উৎসব) আনন্দই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের কাছে। অভিযোগ, রাত ১০টার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে লাগামহীন ভাবে মাইক ও লাউডস্পিকার বাজানো হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করেছেন এক স্থানীয় বাসিন্দা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সেলিমপুরের ওই বাসিন্দা তাঁর চিঠিতে শুধুমাত্র শব্দদূষণের প্রসঙ্গই তোলেননি, ছাত্র সংসদের ব্যানারে এই রকমের অনুষ্ঠান আয়োজন করা নিয়ে গুরুতর আইনি প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

    জানা গিয়েছে, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান শাখার ছাত্র সংসদের (সায়েন্স ফ্যাকাল্টি স্টুডেন্টস ইউনিয়ন) উদ্যোগে ২৫ থেকে ২৮ মার্চ হয়েছে বার্ষিক উৎসব, ‘সংস্কৃতি’। এই উৎসব ঘিরেই বিতর্কের সূত্রপাত। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ওই চিঠিতে অভিযোগকারী লিখেছেন, ‘রাত ১০টার পর থেকে এই প্রবল শব্দের দাপটে আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাপক ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এলাকার শিশু, বয়স্ক এবং অসুস্থরা গভীর রাত পর্যন্ত চলা এই লাগামহীন মাইকের আওয়াজে মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। রাত ১০টা পর্যন্ত হলে আমরা তা–ও কষ্ট করে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু এই শব্দ-সন্ত্রাস প্রতি বছরই নিয়ম করে ঘটে চলেছে।’

    চিঠিতে একটি প্রাসঙ্গিক আইনি দিকও তুলে ধরেছেন ওই বাসিন্দা। তাঁর প্রশ্ন, কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ভোট না হওয়া পর্যন্ত ছাত্র সংসদের ব্যানারে কোনও কর্মসূচি বা কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদের নির্বাচন হয়েছিল ২০২০–তে। কী ভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ছাত্র ইউনিয়নের নামে এত বড় উৎসবের আয়োজন করা হলো?

    এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল বলেন, ‘আমি এখনও পর্যন্ত ওই চিঠিটি দেখিনি। সোমবার দপ্তরে গিয়ে চিঠিটি ভালো করে খতিয়ে দেখে এই বিষয়ে আমার বক্তব্য জানাব। তবে আমি মনে করি, উৎসব হলেও পড়ুয়াদের অবশ্যই শব্দবিধি মেনে চলা উচিত।’

    অন্য দিকে, অনুষ্ঠানের আয়োজকত এক ছাত্র নিজেদের দায় কিছুটা স্বীকার করে বলেন, ‘এই উৎসবটি মূলত সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাই মিলে আয়োজন করেছে। বর্তমানে ছাত্র সংসদের কোনও সরকারি বা অফিশিয়াল পদাধিকারী নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি নিজস্ব কমিটি রয়েছে, যারা এই রকমের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয় এবং সব কিছুর উপরে নজরদারি চালায়। তবে আমরা স্বীকার করছি যে, মাইক বাজানোর ক্ষেত্রে আমাদের আরও একটু বেশি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত ছিল।’

  • Link to this news (এই সময়)