• নিজের আনা ৬ পুলিশ পর্যবেক্ষককে কেন সরাল কমিশন, চাপান–উতোর রাজনৈতিক শিবিরে
    এই সময় | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: মালদার পুলিশ পর্যবেক্ষক, বিহারের বিজেপি নেত্রীর স্বামী জয়ন্ত কান্তকে সরিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সেই সঙ্গে সরানো হয়েছে বাংলার আরও পাঁচ পুলিশ পর্যবেক্ষককে। তৃণমূলের অভিযোগের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ বলে কমিশন সূত্রের খবর। যদিও জয়ন্ত কান্ত ছাড়া বাকি কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ কমিশনের কাছে দায়ের হয়নি। তার পরও নিজের আনা সেই পুলিশ পর্যবেক্ষকদের কমিশন নিজেই কেন সরিয়ে দিল, তা নিয়ে চাপান–উতোর শুরু হয়েছে রাজনৈতিক শিবিরে।

    কমিশন সূত্রের খবর, আসন্ন বিধানসভা ভোটে জয়ন্ত কান্ত মালদার মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর ও বৈষ্ণবনগর বিধানসভা কেন্দ্রের পুলিশ অবজ়ার্ভার ছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা, ২০০৯ সালের বিহার ক্যাডারের আইপিএস জয়ন্ত কান্তর স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী। সেই জয়ন্ত কান্ত কী ভাবে নিরপেক্ষতার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করবেন? এই প্রশ্ন তুলে তৃণমূল সরাসরি অভিযোগ দায়ের করে নির্বাচন কমিশনের কাছে। তৃণমূলের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর কথায়, ‘এর (জয়ন্ত কান্তকে মালদার পুলিশ অবজ়ার্ভারের দায়িত্ব থেকে সরানো) থেকেই প্রমাণিত হয় যে, আমরা সঠিক ছিলাম। বাকিদের বিষয়েও আমাদের নানা অভিযোগ ছিল। তবে তা প্রকাশ্যে আনার আগেই কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে।’ অরূপের সংযোজন, ‘আসলে চুরি ধরা পড়ে যেতেই সাবধানী পদক্ষেপ করেছে কমিশন। কিন্তু আমরা ছেড়ে কথা বলব না। বিজেপির হয়ে ব্যাটিং করতে নামা কমিশনকে এর জবাব দিতে হবে।’ যদিও বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ রাহুল সিনহার পাল্টা দাবি, ‘এতে প্রমাণিত হয় যে, নির্বাচন কমিশন তাদের কাজে কতটা স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ। অভিযোগের সারবত্তা থাকুক বা না–থাকুক, কোনও রকম রাজনৈতিক সংস্রব ছাড়া ভোট পরিচালনা করার জন্যই কমিশন ব্যবস্থা নিয়েছে অভিযোগ ওঠা মাত্র। তৃণমূল যদি ভেবে থাকে, প্রতি বারের মতো নিজেদের প্রশাসকদের দিয়ে ভোট করাবে, তা হলে কমিশন কিন্তু সেটা হতে দেবে না।’

    রাজ্যে এ বার ৮৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক পাঠিয়েছে কমিশন। এক–একজন পুলিশ পর্যবেক্ষককে গড়ে তিন–চারটি বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, শুধু মালদা নয়, আরও পাঁচ জন পুলিশ পর্যবেক্ষককে সরানোর কথা জানিয়েছে কমিশন। জঙ্গিপুর, রঘুনাথগঞ্জ ও সাগরদিঘিতে নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জামুড়িয়া, আসানসোল দক্ষিণ, আসানসোল উত্তর, কুলটি, বারাবনি, খড়্গপুর সদর, পিংলা, খড়্গপুর এবং ডেবরার দায়িত্বে থাকা পুলিশ পর্যবেক্ষকদেরও পাল্টানো হয়েছে। আবার বাগদা ও বনগাঁ উত্তরে এবং হাবড়া, অশোকনগর ও আমডাঙায় আনা হয়েছে নতুন পুলিশ পর্যবেক্ষক। কেন তাঁদের সরানো হলো, তা নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তিনি কেবল বলেন, ‘পর্যবেক্ষক হিসেবে কাকে রাজ্যের ভোটে পাঠাবে, কাকে সরিয়ে দেবে, সেটা ইসি–র নিজস্ব সিদ্ধান্ত।’

    এই রদবদলের আগেই পুলিশ পর্যবেক্ষকদের নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সরব হয়েছিল তৃণমূল। তাদের অভিযোগ, কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ভূমিকা নিচ্ছে এবং বিজেপি-ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদেরই বাংলায় অবজ়ার্ভার করে পাঠানো হচ্ছে। শুধু পুলিশ পর্যবেক্ষক নয়, সাধারণ পর্যবেক্ষকের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছে তৃণমূল। সাধারণ পর্যবেক্ষক ধীরজ কুমার (মালদার গাজোল বিধনসভা কেন্দ্র), অজয় কাটেসারিয়া (বনগাঁ দক্ষিণ), গন্দম চন্দ্রুডু (বালিগঞ্জ), অরিন্দম ডাকুয়া (মধ্যমগ্রাম)— এই চার জনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে তৃণমূল লিখিত ভাবে নির্বাচন কমিশনে জানিয়েছিল। তবে তাঁদের ব্যাপারে কমিশন কোনও পদক্ষেপ করেছে কি না, শনিবার রাত পর্যন্ত সেটা জানা যায়নি।

  • Link to this news (এই সময়)