• ‘নাম বাদ দেবেন না’, SIR–এর কাজে হুমকির মুখে বিচারকরা! ডিজিকে পদক্ষেপের নির্দেশ হাইকোর্টের
    এই সময় | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • এই সময়: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (সার) প্রক্রিয়ায় কয়েক লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পড়া নিয়ে উদ্বেগ–বিক্ষোভের মধ্যেই বাংলায় ‘সার’ প্রক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে যুক্ত বিচারকরা হুমকির শিকার হচ্ছেন বলে মারাত্মক অভিযোগ সামনে এল। ‘যেন কোনও নাম বাদ না যায়’—এই ভাষাতেই একাধিক জেলায় বিচারকদের ফোনে বা সরাসরি হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ। পর পর এমন অভিযোগ পেয়ে প্রবল ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট। রাজ্য পুলিশের ডিজি–কে এ নিয়ে পদক্ষেপের জন্যে শুক্রবার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।

    সাম্প্রতিকতম অভিযোগটি উত্তরবঙ্গের এক জেলার। সেখানে নির্দিষ্ট জনজাতির লোকেদের নাম কেন কাটা হচ্ছে—এই প্রশ্ন তুলে এক মহিলা বিচারককে প্রথমে ফোনে, পরে সামনাসামনি হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ‘ফল ভালো হবে না’ বলে শোনানো হয় তাঁকে। আবার উত্তর চব্বিশ পরগনায় এক বিচারকের গাড়ির পিছনে ধাওয়া করে ধাক্কা দিয়ে ‘প্রাণ সংশয় হতে পারে’—এই মর্মে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। মুর্শিদাবাদ, মালদা থেকে কোচবিহার—একের পর এক জেলা থেকে পর পর এম‍‍ন অভিযোগ আসতে থাকায় কড়া মনোভাব নিয়েছে হাইকোর্ট। রাজ্য প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুক্রবার বৈঠকে বিচারকদের কাছ থেকে পাওয়া গুরুতর অভিযোগের তথ্যপত্র প্রধান বিচারপতি তুলে দেন রাজ্য পুলিশের ডিজির হাতে। এ সব সহ্য করা হবে না বলে বৈঠকে স্পষ্ট করে দেন প্রধান বিচারপতি। ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা প্রধান বিচারপতির কাছ থেকে নথি নিয়ে অভিযোগের তদন্ত করে পদক্ষেপের আশ্বাস দেন। তবে শনিবার ডিজিকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপেরও জবাব পাওয়া যায়নি।

    সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজ্যের মহকুমা ও জেলা আদালতগুলির শ’পাঁচেক বিচারক প্রথমে দক্ষিণবঙ্গ ও পরে মুর্শিদাবাদ, মালদা–সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে সার–এর বিচারাধীন তালিকাভুক্ত ভোটারদের দাবির বৈধতা যাচাইয়ে যুক্ত রয়েছেন। বাড়িঘর, নিজেদের মূল কর্মস্থল ছেড়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা অন্য জেলায় পড়ে রয়েছেন। পরে ঝাড়খণ্ড ও ওডিশার শ’দুয়েক বিচারকও এ কাজে রাজ্যে এসেছেন। মালদা, মুর্শিদাবাদের মতো জেলায় বিভিন্ন ভাবে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে বিচারকদের অনেকেই হাইকোর্টে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। জেলায় জেলায় বিচারকদের বহু ক্ষেত্রেই স্থানীয় হোটেলে রাখা হয়েছে। সকাল আটটা–সাড়ে আটটায় তাঁরা কাজের জায়গায় পৌঁছে গভীর রাতে ফিরছেন হোটেলে। সরকারি গেস্ট হাউস বা কোনও সরকারি আবাসনে থাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় হোটেলে তাঁদের নিরাপত্তাও তেমন নেই। চাঁচল, কালিয়াচক থেকে জঙ্গিপুর—বহু জায়গায় একই ছবি। সর্বশেষ খবর, লাগাতার হুমকির অভিযোগের প্রেক্ষিতে উত্তরবঙ্গে সার–এর কাজে যুক্ত এক মহিলা বিচারককে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হয়েছে।

    এর পাশাপাশি বিচারকদের তরফে হাইকোর্টে জানানো হয়েছে, বহু জায়গায় বিএলআরও–রা চূড়ান্ত ফাঁকিবাজি করে কাজ করায় এখন বিচারবিভাগীয় অফিসারদের ভুগতে হচ্ছে। কোথাও ফর্মের সঙ্গে নাগরিকের শুধু ছবি আপলোড করা হয়েছে, কোথাও আবার শুধু সই করা ফর্ম কোনও নথি ছাড়াই আপলোড করা হয়েছে। অন্য দিকে, হুমকির জেরে বা অন্য কোনও কারণে কোনও কোনও বিচারক প্রভাবশালীদের কথা মতো কাজ করছেন বলেও নির্দিষ্ট মহল থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এ রকম কোনও ব্যাপারেই হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট কোনও পক্ষ প্রকাশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

  • Link to this news (এই সময়)