সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট শহরের ‘লাইফলাইন’ আত্রেয়ী নদীতে এখন জল নেই। শুকিয়ে কার্যত কাঠ। তার প্রভাব পড়ছে বালুরঘাটের জনজীবনে। বিষয়টিকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। দুই ফুলই বিষয়টিকে নির্বাচনের ইস্তাহারে রাখতে চাইছে। আত্রেয়ীর এই দশার জন্য তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ কেন্দ্রকে দায়ী করেছেন। তাঁর অভিযোগ, আত্রেয়ী নদী বাঁচাতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলেনি কেন্দ্র। পাল্টা বিজেপির দাবি, আত্রেয়ীতে কেন্দ্রের তরফে ড্রেজিং সহ অন্য কাজ করতে চাইলেও রাজ্য সরকার উদ্যোগ নেয়নি। ভোটের মুখে আত্রেয়ী নদী নিয়ে দুই ফুলের আকচাআকচি শুরু হয়েছে।
প্রাক্তন সাংসদ তথা এবারের তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা বলেন, বালুরঘাটে বিজেপির বিধায়ক, সাংসদ থাকা সত্ত্বেও কেন্দ্র কিছু করেনি। নদীতে ড্রেজিং করা দরকার। কিন্তু কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কিছু করেনি। কেন্দ্র বাংলার সঙ্গে বঞ্চনা করছে। অর্পিতার আশ্বাস, আত্রেয়ীর ভাঙা ড্যাম ভোটের পর ঠিক করা হবে। প্রচারে বেরিয়ে শহরের ভোটারদের জানাচ্ছেন অর্পিতা।
কোটি কোটি টাকা খরচ করেও আত্রেয়ী ড্যাম কেন ভাঙছে, সে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। বালুরঘাটের বিজেপি প্রার্থী বিদ্যুত্ রায় বলেন, ড্যাম তৈরিতে নানা অনিয়ম করেছে তৃণমূল। সেজন্য ড্যাম ভেঙে রয়েছে।
বিদ্যুতের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার আত্রেয়ীতে ড্রেজিং করতে প্রস্তুত। আমাদের সাংসদ অনেকদিন আগে এব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ্য সরকার এ ব্যাপারে সাহায্য করেনি।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সদর শহর বালুরঘাটের লাইফলাইন আত্রেয়ী নদী। যা বাংলাদেশে উত্পত্তি হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে এপারের কুমারগঞ্জ ঢোকে। সেখান থেকে বালুরঘাট হয়ে ফের ওপারে প্রবাহিত হয় এই নদী। অভিযোগ, এই নদীতে বাংলাদেশ বাঁধ দিয়েছে। ফলে এপারে নানা সমস্যা পোহাতে হয় আত্রেয়ীর পাড়ের বাসিন্দাদের। শুখা মরশুমে নদীতে জল কার্যত থাকে না। আবার বর্ষায় হড়পার সৃষ্টি হয়। বালুরঘাট শহরবাসীর জলের চাহিদা মেটায় আত্রেয়ী। কিন্তু বালুরঘাটে আত্রেয়ীর বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পানীয় জলের অভাব দেখা দিয়েছে। সেচের কাজেও জল পাচ্ছেন না কৃষকরা। এই সমস্যা দূর করতে বহুবার বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়ার দাবি উঠেছে। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার এ ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে রাজ্য সরকার প্রায় ৩৩ কোটি টাকা খরচ করে বালুরঘাটে স্বল্প উচ্চতার বাঁধ নির্মাণ করে। তবে নির্মাণের এক বছরের মধ্যে বাঁধের একাংশ ভেঙে যায়। ফলে জলের সমস্যায় বালুরঘাটবাসী। ভোটের আগে যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।