নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান এবং সংবাদদাতা, কাটোয়া ও কালনা: বর্ধমানের ১৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকেই বাদ চলে গিয়েছে ৭৮৩জন ভোটারের নাম। ২৬ নম্বর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ৬০৮জন ভোটারকে। তাঁদের অধিকাংশই সংখ্যালঘু। এভাবেই বর্ধমান শহরের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকা থেকে বহু সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ চলে গিয়েছে। জামালপুরের দাদপুর গ্রামে ১২৬জন ভোটারের নাম বাদ গিয়েছে। তাঁদের ৯০ শতাংশই সংখ্যালঘু ভোটার। ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের ১ নম্বর পার্টে ২২১জনের নাম বাদ চলে গিয়েছে। ৫ নম্বর পার্ট থেকে ১২১জনের নাম বাদ গিয়েছে। তৃণমূলের দাবি, এসআইআর শুরুর পর্বে বিজেপি নেতারা যে অঙ্ক কষে দিয়েছিল, সেভাবেই নাম বাদ গিয়েছে। বিজেপির সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সমঝোতা স্পষ্ট। যদিও বিজেপির দাবি, রাজনৈতিক নেতারা বিভিন্ন সময় নানা মন্তব্য করেন। তার মানে এই নয়, কোনো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নেতাদের কথায় চলে।
আউশগ্রামের রামনগর অঞ্চলের উপপ্রধান জিয়াউল হকের নামও তালিকা থেকে বাদ চলে গিয়েছে। তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর নাম রয়েছে। অথচ আমার নাম বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এভাবে চক্রান্ত করে হয়রানি করা হচ্ছে। আউশগ্রাম-২ ব্লকের রামনগর পঞ্চায়েতে ১৩০০ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। পুবার গ্রামে চারটি বুথে ২২৯জনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ওই চারটি বুথে ৬৮৭জনের নাম বাদ পড়েছে। ছোড়া কলোনিতে ২০০জনের নাম বাদ পড়েছে। দেবীপুর গ্রামে ১৮৬জনের নাম বাদ পড়েছে। পুবার গ্রামের বাসিন্দা শেখ আব্দুল বলেন, আমার স্ত্রী ও ছেলের নাম বাদ চলে গিয়েছে। এভাবে পরিবারের অর্ধেকজনের নাম বাদ পড়েছে। শুনানিতে আমরা সব নথি দেখিয়েছি। তারপরেও নাম বাদ পড়েছে।
জেলায় সংখ্যালঘু এবং মহিলা ভোটারদের নাম বেশি সংখ্যায় বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক মেয়ের বিয়ের আগে পদবি খাতুন ছিল। বিয়ের পর বিবি হয়েছে। সেক্ষেত্রেও নাম বাদ চলে গিয়েছে। একইভাবে শেখ বানান হেরফের হলেও তাঁর নাম ভোটার তালিকায় রাখা হয়নি। বর্ধমান দক্ষিণ, জামালপুর, পূর্বস্থলী দক্ষিণ সহ বিভিন্ন বিধানসভা কেন্দ্রেই এই অবস্থা।
বর্ধমান শহর তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তন্ময় সিংহরায় বলেন, নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে জেতানোর দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু, ওরা বাংলার মা-মাটি- মানুষের ক্ষমতা জানে না। সাধারণ মানুষ বিজেপিকে ছুড়ে ফেলবে। নির্দিষ্ট এলাকা টার্গেট করে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বিজেপি নেতারা যা বলেছে, সেটাই ওরা করেছে। ওরা সবাইকেই রোহিঙ্গা ভাবছে।
শনিবার ভাতারে এসে বিজেপি নেতা সৌমিত্র খাঁ বলেন, নির্বাচন কমিশন তাদের মতো কাজ করছে। রাজনৈতিক বক্তব্যর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে মিলিয়ে দেওয়া যাবে না। অনেক সময় অঙ্ক কষে আন্দাজ করা যায়। সেটাই করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জেলায় এখনো বহু ভোটারের নাম বিচারাধীন রয়েছে। তবে, সেই সংখ্যাটা সঠিক কত? সেই তথ্য কমিশন দেয়নি। দু’দফায় প্রকাশ হওয়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী জেলায় সংখ্যালঘু ভোটার সব থেকে বেশি বাদ গিয়েছে। মতুয়া ভোটারের নামও বেশ কিছু জায়গায় বাদ গিয়েছে। যেসমস্ত সংখ্যালঘু পরিবার বংশ পরম্পরায় এরাজ্যে বসবাস করছেন, তাঁদের নামও বাদ গিয়েছে। বর্ধমান শহরের ১৯ বা ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের কেউই ‘রোহিঙ্গা’ নয় বলে তৃণমূলের অভিযোগ।