অভিষেক পাল, ভগবানগোলা: ভোরে ব্যাপক ঝড়বৃষ্টির পর সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। মাঝেমধ্যে সূর্যের দেখা মিললেও দুপুর ২টোর পর ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি নামে। ভগবানগোলার বাহাদুরপুরে তখন তৃণমূলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন। সভা শুরুর প্রায় তিনঘণ্টা আগেই চেয়ার দখল করেছেন ঘরের মেয়ে-বউরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শেষ পর্যন্ত অভিষেক হেলিকপ্টারে আসতে না পারলেও তাঁর বক্তব্য শোনার জন্য হাজার হাজার মানুষ বিকেল পর্যন্ত বৃষ্টিতে ভিজে অপেক্ষা করে।
ভগবানগোলার তৃণমূল প্রার্থী রেয়াত হোসেন সরকারের সমর্থনে শনিবার অভিষেকের জনসভা করার কথা ছিল। ঠিক ছিল, লাভপুরের জনসভা সেরেই তিনি বাহাদুরপুরে আসবেন। এদিন সভাস্থলে ব্যাপক জনসমাগম হয়। সভায় আসা মানুষ বৃষ্টিতে ভিজেও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে স্লোগান দিতে থাকেন। এদিনের সভায় তৃণমূলের জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার, সাংসদ আবু তাহের খান, জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা, তৃণমূল প্রার্থী শাওনি সিংহ রায়, সৌমিক হোসেন সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অপূর্ববাবু বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিচ্ছে। এক-একটি বিধানসভায় লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। একের পর এক লিস্ট বেরচ্ছে, আর বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। বিজেপি বাংলার মানুষকে ভোট দিতে না দিয়ে এরাজ্যের ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে। মোদি-শাহের সরকার মানুষের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিচ্ছে। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে এখানে রেয়াত হোসেন সরকারকে জয়ী করতে হবে।
অপূর্ববাবু বলেন, সভা চলাকালীন বৃষ্টি শুরু হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তখন পরিস্থিতির বিষয়ে বীরভূম থেকে বারবার খোঁজ নিচ্ছিলেন। প্রচুর মানুষের সমাগম দেখে তিনি আসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এই আবহাওয়ায় হেলিকপ্টারের পাইলটরা কিছুতেই অনুমতি দেননি। তবে আগামী দিনে তিনি এই মাঠেই সভা করবেন বলে জানিয়েছেন। প্রার্থী রেয়াত হোসেন সরকার বলেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শীঘ্রই আসবেন বলে কথা দিয়েছেন। আমরা তাঁর অপেক্ষায় থাকলাম।
ভগবানগোলার লহরপাড়ার তারা বিবির প্রিয় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেখানেই তৃণমূলের জনসভা হয়, তিনি সেখানেই হাজির হন। এদিন সভাস্থলে ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, দিদিকে আমি খুব ভালোবাসি। দিদির দলের সেনাপতি আসছেন শুনে আমি না এসে থাকতে পারি? দুপুরে সভা হওয়ার কথা থাকলেও আমি সকালেই বাড়ি থেকে বেরিয়েছি।
বেলডাঙার বড়ুয়ার বিশু মালাকার সভাস্থলের পাশেই মিষ্টির বাক্স নিয়ে বিক্রি করছিলেন। সভা শেষে তিনি বলেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন মানেই প্রচুর মানুষের ভিড় হবে। এটা জেনেই আমি বাহাদুরপুরে এসেছি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় না এলেও আমার সমস্ত মিষ্টি বিক্রি হয়ে গিয়েছে।