বন্ধ কয়লাখনি রাজ্যের হাতে তুলে দেওয়ার আর্জি মমতার, রানিগঞ্জে পুনর্বাসন প্রকল্পে দু’টি ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণা
বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
সুমন তেওয়ারি, অণ্ডাল: বন্ধ কয়লাখনি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বেসরকারি সংস্থার হাতে নয়, বন্ধ কয়লাখনি রাজ্য সরকারকে দেওয়ার আর্জি জানালেন তিনি। শনিবার অণ্ডাল ব্লকের খান্দরার জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘যাঁরা কয়লাখনি বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁদের বলব, নিজেরা না চালাতে পারলে আমাদের দিয়ে দিন। আমরা রাজ্য সরকার থেকে চালাব। কোনো কর্মীর যাতে চাকরি না যায় তার দায়িত্ব নেব। এনিয়ে আমি অনেকবার চিঠি দিয়েছি কেন্দ্রকে।’ এরপরই অবৈধ খাদান প্রসঙ্গে বলতে নেত্রী বলেন, ‘বেআইনি খাদান থেকে বিজেপি টাকা রোজগার করবে আর তৃণমূলকে চোর বলবে?’ রানিগঞ্জে পুনর্বাসন প্রকল্পে আর একটি নয়, দু’টি ফ্ল্যাট দেওয়া হবে বলে জানালেন মমতা।
ইসিএলের কর্মকাণ্ড নিয়ে খনি অঞ্চলে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। কয়লা বিক্রি হচ্ছে না, এই অজুহাতে সময়মতো বেতন দিতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছে ইসিএল। ৪৫হাজার স্থায়ী কর্মী ও বহু অস্থায়ী কর্মী ইসিএলে কাজ করেন। আর্থিক ক্ষতির অজুহাত দেখিয়ে বহু শ্রমিককে তারা বিভিন্ন জায়গায় বদলি করে দিচ্ছে। আবার বন্ধ খাদানগুলিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। যার জেরে হাজার হাজার শ্রমিক পরিবার উদ্বেগে রয়েছে। ঠিক সেইসময় মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
রাজ্য সরকার কয়লাখনি অধিগ্রহণের ব্যাপারে আগ্রহী হওয়ায় শ্রমিকরা আশার আলো দেখছেন। পাশাপাশি বহু বন্ধ খাদানে অবৈধভাবে কয়লা কাটতে গিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। বন্ধ খাদানগুলি রাজ্য সরকার বৈধভাবে খুলতে পারলে স্থানীয় মানুষের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাই মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণায় খেটে খাওয়া মানুষজন খুব খুশি।
কয়লাখনি এলাকায় পুনর্বাসন নিয়েও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি বলেন, রানিগঞ্জ ধসপ্রবণ এলাকা। ৭০০কোটি টাকা দিয়ে ৬ হাজার ফ্ল্যাট বানিয়েছি। আরও চার হাজার বানাব। পরিবার পিছু একটা নয়, দু’টি করে ফ্ল্যাট দেব। পরিবার পিছু দশ লক্ষ টাকা করে ধরা হয়েছে। আপনাদের অনুরোধ করব, ধসপ্রবণ এলাকায় থাকবেন না। পুনর্বাসন প্রকল্পগুলিতে চলে আসুন। আমি নির্দেশ দিচ্ছি না, অনুরোধ করছি। ধস হলে বহু মানুষ বিপদে পড়বে।
উল্লেখ্য, রানিগঞ্জ পুনর্বাসন প্রকল্পে ২৯হাজার পরিবারের সুবিধা পাওয়ার কথা। এর আগে কয়েকজন উপভোক্তার হাতে ফ্ল্যাটের চাবিও তিনি তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু, অনেকে সেখানে যাননি। আগে পরিবার পিছু একটি করে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা ছিল। এবার দু’টি করে ফ্ল্যাট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্য সরকার ডিভিসিকে জমি দিয়েছে। সেখানে নতুন বিদ্যুৎ কারখানা গড়ে উঠছে। স্থানীয়রা কাজ পাবেন। আরও বহু শিল্প আসছে। গ্যাস উত্তোলনের জন্য ২২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে। কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকে আক্রমণ করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, এদের আমলে সিএলডব্লু ধুঁকছে। ইসিএল, বিসিসিএলের আধুনিকীকরণ নেই। বিজেপি শুধু করছে লুট, দিচ্ছে ঝুট।
তৃণমূল প্রার্থী মলয় ঘটক বলেন, এই এলাকায় সাতটি কোলিয়ারি ছিল। তারমধ্যে ছ’টিকেই বেসরকারি হাতে তুলে দিয়েছে ইসিএল। এব্যাপারে বিজেপির বিধায়ক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, রাজ্য সরকারের ভাণ্ডার শূন্য। তাই কোলিয়ারি থেকে টাকা রোজগারের রাস্তা খুঁজছে। সিপিএমের জেলা সম্পাদক গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ইসিএল তো বকলমে তৃণমূল নেতাদের হাতে কোলিয়ারিগুলি তুলে দিচ্ছে। সরকারিভাবে তাঁদের হাতে খনি গেলে আরও বেশি লুট হবে।