• জবাব দিন ভোটের লাইনেই: অভিষেক
    বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • পিনাকী ধোলে, লাভপুর: নোটবাতিল থেকে আধার কার্ড, এসআইআর কিংবা হালের গ্যাস সংকট—কেন্দ্রের বিজেপি সরকার প্রতিবারই লম্বা লাইনে দাঁড় করিয়েছে আম জনতাকে। লাগাতার হয়রানির শিকার হয়েছেন সাধারণ মানুষ। আর সেই কারণেই এবারের লড়াইটা আর শুধু জেতার নয়, বিজেপিকে ৫০ আসনের নীচে নামিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করারও। শনিবার বীরভূমের লাভপুরে নির্বাচনি সভায় সেকথা স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মা ফুল্লরা মেলার মাঠে উপচে পড়া ভিড়ের সামনে দাঁ঩঩ড়িয়ে আবেদনও জানালেন, ‘আমাদের যারা কখনো নোটবন্দি বা কখনো এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য লাইনে দাঁড় করিয়ে নাকাল করেছে, তাদের যোগ্য জবাব ভোটের লাইনে দাঁড়িয়েই দিতে হবে। যারা যে ভাষা বোঝে, তাদের সেই ভাষাতেই প্রত্যাঘাত করুন।’ সেই সঙ্গে এও বুঝিয়ে দিলেন, বিজেপিকে ‘বেলাইন’ করার চূড়ান্ত লগ্ন উপস্থিত।

    লাভপুরের বিধায়ক তথা জোড়াফুল শিবিরের প্রার্থী অভিজিৎ সিংহের সমর্থনে এই সভা জনসমুদ্রের চেহারা নিয়েছিল। মঞ্চে দাঁড়িয়েই মোদি সরকারের ‘লুটতরাজ’ আর মমতার ‘জনদরদী’ শাসনের তুলনামূলক খতিয়ান পেশ করেন অভিষেক। মনে করিয়ে দেন, ২০১৪ সালে ৪০০ টাকার গ্যাস আজ ১,১০০ টাকা ছুঁয়েছে। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে তাঁর কটাক্ষ, ‘একদিকে জনবিরোধী মোদি সরকার জনগণের পকেট লুটছে, অন্যদিকে জনদরদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষের দু’হাত ভরিয়ে দিচ্ছেন।’ সেকারণে এই ভোটকে আর পাঁচটা নির্বাচন নয়, বরং অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধের ভোট বলে জানান তিনি। বলেন, ‘৪ মে যখন ভোটগণনা হবে তখন যেন বিজেপি চোখে সরষেফুল দেখে।’

    বিজেপির সাংগঠনিক দৈন্যদশা নিয়ে বিদ্রুপের সুর ছিল অভিষেকের গলায়। তাঁর কটাক্ষ, ‘এখনও ৩০টি আসনে প্রার্থীই ঘোষণা করতে পারেনি। তারা নাকি আবার তৃণমূলকে হারাবে!’ তৃণমূলের চতুর্থবার ক্ষমতায় আসা কেবল সময়ের অপেক্ষা বলেই প্রত্যয়ী দাবি করেছেন তিনি। অভিযোগ জানিয়েছেন, বিজেপি কোথাও মাথা তুলে দাঁড়ালে গরিব মানুষের বাড়ি বা দোকান ভাঙা ছাড়া আর কিছুই করবে না। রামনবমীর মিছিল ও ধর্মীয় উসকানি নিয়েও গেরুয়া শিবিরকে আক্রমণ করেন অভিষেক। বলেন, ‘বিজেপি মানেই দাঙ্গাবাজ। এরা মদ্যপ অবস্থায় তরোয়াল নিয়ে রামনবমী করে প্রভু রামের অবমাননা করছে।’ খোদ অযোধ্যাও যে বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে সেকথা মনে করিয়ে দিয়ে আরও জানান, তৃণমূলের রাজনীতি অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান আর কর্মসংস্থানের। ধর্মের সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট গোছানো নয়। তবে এদিন সভার শেষে হঠাৎই ছন্দপতন ঘটে। অভিষেক মঞ্চ থেকে নামামাত্র শর্ট সার্কিট থেকে মঞ্চের কাপড়ে আগুন লেগে যায়। যদিও দমকলের তৎপরতায় কোনো অঘটন ঘটেনি।
  • Link to this news (বর্তমান)