এসআইআর বাণেই মৃত্যু বিজেপির, ওদের বাংলা থেকে তাড়াব, হুঁশিয়ারি মমতার
বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
প্রীতেশ বসু ও সুমন তিওয়ারি: রানিগঞ্জ ও রঘুনাথপুর: চরমে পৌঁছেছে বাংলা দখলের লড়াইয়ের উত্তাপ। ভরা বসন্তেই প্রখর গ্রীষ্মের তাপদাহকে উপেক্ষা করে চলছে প্রচার অভিযান। দলীয় কর্মীদের প্রচারে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে চলেছেন পাহাড় থেকে জঙ্গলমহল। আর সর্বত্রই শুনছেন এসআইআরের নামে বিজেপি-নির্বাচন কমিশনের আঁতাঁতের জেরে মানুষের হয়রানির অভিযোগ। পুরুলিয়ার আদিবাসী সমাজ থেকে শুরু করে রানিগঞ্জের কয়লা খাদানের কর্মী—সকলের একটাই প্রশ্ন, আদৌ কি তাঁরা ভোট দিতে পারবেন? কারণ, অনেকের নাম এখনও বিচারাধীন তালিকায়। জনসাধারণের এই উদ্বেগের রেশ ধরেই শনিবার রানিগঞ্জের সভায় বাংলা দখলের গেরুয়া চক্রান্তের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছেন বাংলার অগ্নিকন্যা— ‘মানুষ চূড়ান্ত হয়রানির শিকার। মনে রাখবেন, এসআইআর বাণেই মৃত্যু হবে বিজেপির।’ এবারের নির্বাচনকে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের সঙ্গেও তুলনা করেছেন মমতা, যেখানে তৃণমূল হল পাণ্ডব আর কৌরব শিবির বিজেপি।
এদিন সকালে পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের সভা সেরে পুরুলিয়া চলে আসেন মমতা। জঙ্গলমহলের এই জেলার রঘুনাথপুর এবং কাশীপুরে বিধানসভা কেন্দ্রে পরপর দুটি জনসভা করেন। প্রতিটি জায়গাতেই উপচে পড়া ভিড়কে সাক্ষী রেখে বিজেপিকে বাংলা ছাড়া করার অঙ্গীকার শোনা গিয়েছে নেত্রীর গলায়। গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে দেশকে বেচে দেওয়ার অভিযোগ তুলে মমতার হুঁশিয়ারি, ‘বিজেপি রাজ্যটাকে উঠিয়ে দেওয়ার প্ল্যান করছে। কিন্তু, আমিও বলে রাখছি, প্রথমে ওদের বাংলা থেকে তাড়াব। তারপর রাজনৈতিক ভাবে দেশ থেকে তাড়াব। বাংলা জয়ের পর সব দলকে সঙ্গে নিয়ে আমার টার্গেট হল দিল্লি। ওরা বাংলা টার্গেট করছে, আমরা দিল্লি টার্গেট করব। সর্বনাশী দল দেশকে বিক্রি করে দিচ্ছে। এদের আর রাখা যাবে না।’ একইসঙ্গে নির্দিষ্ট সময়ে তালিকা প্রকাশ না হলে বিচারাধীন সকলকে ভোট দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার দাবি তুলেছেন তিনি।
রঘুনাথগঞ্জে নির্বাচনি উত্তাপ আরও বাড়িয়েছে রামনবমীর মিছিল থেকে বাড়ি দোকানপাট ভাঙচুর, লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনা। বিজেপি একতরফাভাবে সেখানে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ মমতার। তিনি বলেন, ‘রঘুনাথগঞ্জে যা ঘটেছে, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরাও রামনবমী পালন করি। কিন্তু কখনো হিংসা করি না।’ বর্তমানে সমস্ত প্রশাসনিক ক্ষমতাই নির্বাচন কমিশনের হাতে। আর এই ধরনের হিংসা করানোর জন্যই তাঁর হাত থেকে সমস্ত ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে চতুর্থবার সরকার গড়া নিয়ে প্রত্যয়ী মমতার হুঁশিয়ারি— ‘আজ নয় তো কাল, এদের একটাকেও ছাড়ব না।’ এরাজ্যে গণহারে আধিকারিকদের বদলির কারণও ব্যাখ্যা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর যুক্তি, নির্বাচনের সময় বাংলায় টাকা-বেআইনি অস্ত্র ঢোকাতেই বেছে বেছে রাজ্যের আধিকারিকদের সরিয়ে বিজেপির পছন্দের অফিসারদের নিযুক্ত করেছে নির্বাচন কমিশন।
বেহালায় বুলডোজার চালিয়ে দোকান ভেঙে দেওয়ার পিছনেও বিজেপির চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকলেও, বিজেপির পছন্দের আধিকারিককে কলকাতা পুরসভার কমিশনার করা হয়েছে। পুর কমিশনার স্মিতা পান্ডের নাম না নিয়ে তাঁকে সতর্ক করেছেন মমতা। জানিয়েছেন, সরকারে ফিরে এই দোকানগুলি মেরামতির ব্যবস্থা করে দেবেন তিনি। বিজেপিকে ধ্বংসের, হিংসার, স্বৈরাচারী, অত্যাচারীর দল বলে আক্রমণ করার পাশাপাশি আগামী ভোটে তাদের রাজনৈতিকভাবে ‘বরবাদ’ করে দেওয়ার ডাক দিয়েছেন মমতা। বলেছেন, ‘লক্ষ্মণরেখা বলে একটা কথা আছে। সেটা মাথায় রাখবেন।’ বিজেপির বিরুদ্ধে তৃণমূলের কর্মীদের টাকা দিয়ে কেনার অভিযোগও শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।