রঘুনাথপুরেই দেড় লক্ষ কর্মসংস্থান, স্থানীয়দের চাকরির ব্যবস্থা: মমতা
বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
সুকান্ত মাহাত, কাশীপুর: ‘দেড় লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে শুধুমাত্র রঘুনাথপুরেই। স্থানীয়দের চাকরির ব্যবস্থা হবে আরও একাধিক শিল্পে।’ শনিবার কাশীপুরে দলের প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়ার সমর্থনে সভা করতে এসে এমনটাই আশ্বাস দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিদির কাছে জেলাতেই কাজের সুযোগের আশ্বাস পেয়ে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন সভাস্থলে উপস্থিত যুব তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। সেই সঙ্গে রুখাশুখা পুরুলিয়া জেলায় পর্যটন থেকে শুরু করে সার্বিক উন্নয়নের খতিয়ানও তুলে ধরেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিন পুরুলিয়া জেলার রঘুনাথপুরের তৃণমূল প্রার্থী হাজারি বাউরি এবং কাশীপুরের তৃণমূল প্রার্থী সৌমেনের সমর্থনে দু’টি আলাদা সভা করেন .তিনি। নিতুড়িয়ার ইনানপুর ফুটবল মাঠে এবং কাশীপুরের সেবাব্রতী ময়দানে সভা দু’টি হয়। নিতুড়িয়ার সভা থেকে তৃণমূলনেত্রী বলেন, রঘুনাথপুরে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ হচ্ছে। রঘুনাথপুরকে ‘জঙ্গল সুন্দরী’ নাম দিয়েছি। ডানকুনি-রঘুনাথপুর ইকনোমিক করিডর হচ্ছে। কারও আর বাইরে যাওয়ার প্রয়োজন হবে না। স্থানীয়রা কাজ পাবেন। শুধুমাত্র রঘুনাথপুরেরই প্রায় দেড় লক্ষ যুবকের কর্মসংস্থান হবে।
তৃণমূল সুপ্রিমো আরও বলেন, গড় পঞ্চকোটে ইকোট্যুরিজম নতুন করে সুন্দরভাবে তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২ কোটি ২১ লক্ষ খরচ হয়েছে। তেলকুপি ইকো ট্যুরিজম প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে। গ্রামেও অনেক কিছু তৈরি করা হয়েছে। যাঁরা শহরে থাকি, তাঁদেরও একটা করে গ্রাম আছে। গ্রাম না থাকলে শহর চলে না। গ্রাম থেকেই তো খাদ্য, বস্ত্র যায়। সেখানেও অনেক উন্নয়ন হয়েছে।
এদিন কাশীপুরের সভায় মমতা বলেন, সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রাক্তন বিধায়ক রাজ্য সরকারের ৯৪টি প্রকল্পের কথা বলেছেন। কিন্তু, আমাদের প্রকল্প সেঞ্চুরি পেরিয়ে গিয়েছে। ১০৫টিরও বেশি প্রকল্প রয়েছে। জন্ম থেকে মৃত্যু, শিক্ষা থেকে বিয়ে, হিন্দু থেকে মুসলমান সবার জন্যই রয়েছে প্রকল্প।
তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, ‘এই জেলা খরা প্রবণ। রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে পাঁচ লক্ষ পুকুর কাটা হয়েছে। প্রচুর চেক ড্যাম হয়েছে। অনেকে যুবসাথী নিয়ে কথা বলেন। কিন্তু, যুব সাথী ভাতা বা ভিক্ষা নয়, এটা পকেটমানি। আগামী দিনে বাংলায় চাকরির অভাব হবে না। আগে কিছু বলি না। আমি আগে কাজ করি, তারপর বলি। পুরুলিয়ায় রূপসী বাংলার রূপ রয়েছে। অযোধ্যা পাহাড়ে গিয়ে দেখুন কত মানুষ আসে। কত কটেজ রয়েছে। পলাশের আবিরে যেন সাজিয়ে রেখেছে। আগে আদিবাসীদের জমি অনেকে কমদামে কিনে নিত। রাজ্য সরকার আইন করে তা বন্ধ করেছে। আদিবাসীদের জন্য সরকার অনেক কাজ করেছে। আগামী দিনেও আরও করবে। পুরুলিয়ার একদিকে প্রকৃতি, অন্যদিকে কৃষি। সেই সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে স্বপ্নের শিল্প। নতুন করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। এটাই বাংলার ভবিষ্যৎ।