কাজের চাপ, রাজ্যে ফের বিএলও’র মৃত্যু, চাঞ্চল্য দেগঙ্গার আমুলিয়া পঞ্চায়েতে
বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: সকালে ভোটের প্রশিক্ষণে যাওয়ার কথা ছিল। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক বিএলও’র। মৃতের নাম মনিরুল তরফদার। তিনি দেগঙ্গার আমুলিয়া পঞ্চায়েতের ১৯৪ নম্বর বুথের বিএলও পদে ছিলেন। এই অকাল মৃত্যুর ঘটনার পর শোক তৈরি হয়েছে। বাড়ছে মানুষের ক্ষোভ। অতিরিক্ত কাজের চাপই কি শেষপর্যন্ত প্রাণ কেড়ে নিল দায়িত্ববান এক কর্মীর? প্রশ্ন তুলছেন পরিজন ও পড়শিরা। মনিরুলবাবু পেশায় স্কুলশিক্ষক ছিলেন। বয়স মাত্র ৪৫।
জানা গিয়েছে, ওই বুথে ভোটার তালিকা সংশোধনের সাম্প্রতিক পর্বে ১২৯টি নাম নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেকগুলি নাম বাদ পড়ে যায় তালিকা থেকে। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিএলও’র উপর চাপ তৈরি হয়। লাগাতার মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছিল তাঁকে। মানুষের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছিল। এ সবের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল তাঁকে। পরিবার ও তাঁর সহকর্মীদের দাবি, নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার তাড়া, উপরতলার নির্দেশ মেনে চলা এবং পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়া ইত্যাদি কারণে ভয়ানক চাপে পড়েছিলেন মনিরুলবাবু। সে চাপ অসহ্য হয়ে ওঠার কারণেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার সকাল ১০টায় বারাসতের বনমালীপুর সন্তোষ ভট্টাচার্য মেমোরিয়াল হাইস্কুলে থার্ড পোলিং অফিসার হিসেবে প্রশিক্ষণে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু ভোরবেলা অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার জন্য বারাসত থেকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, হৃদরোগের কারণে মৃত্যু হয় তাঁর। মনিরুলবাবুর স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা বলেন, ‘স্বামী দিনরাত টেনশনে থাকতেন। নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সবাই ওঁকেই ধরছিল। টেনশনে খাওয়া-ঘুমের ঠিক ছিল না। সেই মানসিক যন্ত্রণার কারণেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর।’ পঞ্চায়েত প্রধান মহম্মদ ইমদাদুল হকের বক্তব্য, ‘একজন বিএলও’র পক্ষে এই চাপ নেওয়া কোনওভাবেই স্বাভাবিক নয়।’ মনিরুলবাবুর দুই নাবালক সন্তান আছে। এই অকাল মৃত্যুর ঘটনা সামলানো তাঁর পরিবারের পক্ষে কার্যত অসম্ভব হয়ে উঠছে।