• বিরোধী ইস্যু অনুন্নত যোগাযোগ ও বেহাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, উন্নয়নই হাতিয়ার তৃণমূলের
    বর্তমান | ২৯ মার্চ ২০২৬
  • সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং রাজবলহাটে তাঁতশিল্পের দুরবস্থাকেই ভোটের ইস্যু করেছে বিরোধীরা। অন্যদিকে, তৃণমূলের প্রচারে থাকছে গত ১৫ বছরে তৈরি হওয়া রাস্তা, কৃষক বাজার, আইটিআই, মডেল থানা, সুইমিং পুল সহ উন্নয়নের একাধিক বার্তা।

    জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রেই রয়েছে আঁটপুর মঠ, ফুরফুরা শরিফ, রাজবল্লভী মন্দির। তাঁতশিল্পের জন্য রাজবলহাটের পরিচিতিও কম নয়। এই কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লক্ষ ৫২ হাজার। এসআইআরে এ পর্যন্ত নাম বাদ গিয়েছে প্রায় ১৩ হাজারের। তৃণমূল এখানে প্রার্থী করেছে তিনবারের বিধায়ক তথা রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তীকে। বিজেপির প্রার্থী প্রসেনজিৎ বাগ ও সিপিএমের তরফে লড়াইইয়ে রয়েছেন সুদীপ্ত সরকার।

    প্রচারে বেরিয়ে তৃণমূল প্রার্থী বলেন, জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে সব গ্রামেই এখন ঢালাই রাস্তা। মূল সড়কগুলি চওড়া করা হয়েছে। কৃষক বাজার, আইটিআই, মডেল থানা নির্মাণ হয়েছে। হাসপাতালের বেডের সংখ্যা ৩০ থেকে বেড়ে হয়েছে ৬০। অত্যাধুনিক সুইমিং পুল ও কমিউনিটি হল নির্মাণ করা হয়েছে। ফুরফুরা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির মাধ্যমে ফুরফুরা শরিফের উন্নয়ন করা হয়েছে। আঁটপুর মঠে যাত্রী নিবাস তৈরি হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলিকে রক্ষা করতে দামোদরে পাকা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বহু গ্রামে ফসল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা থেকে প্রত্যেকে উপকৃত হচ্ছেন। সরকারি সহায়তায় বহু গৃহ নির্মাণ হয়েছে। যাঁদের এখনও আবাসের টাকা পাননি, তাঁরা পরবর্তীকালে পাবেন। ভবিষ্যতের পরিকল্পনার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, বাড়ি বাড়ি পানীয় জল পৌঁছে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য। 

    মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকাকালীন ডানকুনি-ফুরফুরা শরিফ রেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। পরবর্তীকালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পে বরাদ্দ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে আটকে যায় রেল প্রকল্পের কাজ। তবে একাধিক সরকারি বাস রাজবলহাট, আঁটপুর সহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ছাড়ছে।

    সিপিএম প্রার্থী সুদীপ্ত সরকারের অভিযোগ, জাঙ্গিপাড়া বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হরিপাল স্টেশন ১৫ কিলোমিটার, আর হাওড়ার বড়গাছিয়া ১২ কিলোমিটার দূরে। সড়ক পরিবহণের উপর নির্ভর করছে এই এলাকার উন্নয়ন। রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রীর নিজের বিধানসভা কেন্দ্রেই যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ। গত ১৫ বছরে একাধিক রুটের বাস বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ভোটের সময় লোক দেখানো কয়েকটি বাস এখন চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য পরিষেবা নিম্নমানের। সামান্য কিছু হলেই রোগীকে রেফার করে দেওয়া হয়। সিজার বন্ধ। বাম আমলে এগ্রিকালচার ফার্ম ছিল, সেসব জলাঞ্জলি দিয়েছে তৃণমূল সরকার। রাজবলহাটের তাঁতিদের অবস্থা খুবই খারাপ। কো-অপারেটিভগুলি উঠে গিয়েছে। 

    বিজেপি প্রার্থী প্রসেনজিৎ বাগ বলেন, রাজ্যে এবার বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। আলু ছাড়াও অন্যান্য শাকসবজি সংরক্ষণের জন্য হিমঘর করা প্রয়োজন। এই এলাকার ৬০০ বছরের পুরানো তাঁত শিল্পের আধুনিকীকরণ করতে হবে। কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে। বর্তমানে হাসপাতালে পরিষেবা বেহাল। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে বেসরকারি শিক্ষাকেন্দ্রে শিশুদের পাঠাতে বাধ্য হচ্ছেন অভিভাবকরা। রেল প্রকল্প তৈরি হয়নি তৃণমূল ও বামফ্রন্টের জন্য। আঁটপুর, রাজবলহাট ধর্মীয় তীর্থক্ষেত্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে‌। এলাকায় নির্মাণ হবে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয়। প্রয়োজন অত্যাধুনিক জল নিকাশি ব্যবস্থার।

    গত বিধানসভা ভোটে এই কেন্দ্রে ১৮ হাজার ভোটে জয়লাভ করেছিল তৃণমূল। দু’বছর আগে লোকসভা ভোটে মার্জিন বেড়েছিল আরও ১০ হাজার। এবারও সেই ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ঘাসফুল শিবির।
  • Link to this news (বর্তমান)